ঢাকা ০৪:১৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
শেভরনের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক, জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘুষের অভিযোগের তদন্তের পরই বদলি শিক্ষা কর্মকর্তা, উঠছে প্রশ্ন আদানির গোড্ডা কেন্দ্রের ৮০০ মেগাওয়াট ইউনিট থেকে ফের বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ প্রেম-রোমান্সনির্ভর সিনেমা-নাটক বন্ধে হাইকোর্টে জনস্বার্থের রিট শেখ হাসিনার আমলে বিরোধীদের স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকার অধিকার ছিল না: রিজভী আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে আরও ৫ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন বিনিয়োগ আনার লক্ষ্য ট্রাম্পের দাবি, ‘চাঁদ আমাদের’; মহাকাশ থেকে নিউ মেক্সিকো—নাম বদলের হিড়িক মেসির গোলেও জয় পেল না মিয়ামি, ন্যাশভিলের সঙ্গে ২-২ ড্র আমিশা প্যাটেলের মায়ের বাড়িতে ৫ লাখ রুপির গয়না চুরি, গৃহকর্মী গ্রেফতার

রাজনৈতিক অনিশ্চয়তায় ধাক্কা জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে, সতর্কবার্তা এডিবির

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ১২:০৫:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
  • / 85

রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে দুর্বল করে দিয়েছে বলে জানিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক। একই সঙ্গে দেশের অভ্যন্তরীণ পণ্য ও সেবার চাহিদাও কমেছে। কঠোর রাজস্ব ও মুদ্রানীতির প্রভাবেও অর্থনীতিতে চাপ তৈরি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) প্রকাশিত সংস্থাটির বার্ষিক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। এতে বলা হয়, বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নেপালের মতো অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে গেছে, যার প্রভাব পড়েছে অর্থনীতির ওপর।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, চলতি অর্থবছরে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের প্রবৃদ্ধি প্রায় ৪ শতাংশ হতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে এই প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমানো হয়েছে।

তবে জাতীয় নির্বাচন শেষ হওয়ার পর রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কিছুটা কমেছে বলে মনে করছে সংস্থাটি। এর ফলে অর্থনৈতিক কার্যক্রমে গতি ফিরতে পারে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।

মোট দেশজ উৎপাদনের প্রবৃদ্ধি একটি দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির গুরুত্বপূর্ণ সূচক। এটি নির্দিষ্ট সময়ে দেশের মোট উৎপাদন কতটা বেড়েছে তা নির্দেশ করে। প্রবৃদ্ধি বাড়লে সাধারণত মানুষের আয় বৃদ্ধি পায়, তবে এর সুফল সব শ্রেণির মানুষের কাছে সমানভাবে পৌঁছায় না।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বাংলাদেশকে মোট ৫২১ কোটি ডলারের সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সংস্থাটি। এর মধ্যে ঋণ ও অনুদান হিসেবে রয়েছে ২৫৭ কোটি ডলার, আর বাকি অংশ বিভিন্ন সহ-অর্থায়নের মাধ্যমে আসবে।

ব্যাংক খাত নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। দীর্ঘদিনের দুর্বল শাসনব্যবস্থা, তদারকির অভাব এবং মূলধনের ঘাটতির কারণে ব্যাংক খাত কার্যকরভাবে সেবা দিতে পারছে না। ফলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের ঋণপ্রাপ্তি সীমিত হচ্ছে এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তিও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

এই প্রেক্ষাপটে ব্যাংক খাত শক্তিশালী করতে ৫০ কোটি ডলার সহায়তা দেওয়া হয়েছে, যা তদারকি উন্নয়ন, সম্পদের মান বৃদ্ধি এবং তারল্য ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নে ব্যয় করা হবে। এর মাধ্যমে ডিজিটাল সেবা বৃদ্ধি, সাশ্রয়ী ঋণের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং বেসরকারি খাতের প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

এছাড়া পরিবহন খাত উন্নয়ন এবং বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অর্থায়ন অব্যাহত রেখেছে সংস্থাটি।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

রাজনৈতিক অনিশ্চয়তায় ধাক্কা জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে, সতর্কবার্তা এডিবির

আপডেট সময় : ১২:০৫:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬

রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে দুর্বল করে দিয়েছে বলে জানিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক। একই সঙ্গে দেশের অভ্যন্তরীণ পণ্য ও সেবার চাহিদাও কমেছে। কঠোর রাজস্ব ও মুদ্রানীতির প্রভাবেও অর্থনীতিতে চাপ তৈরি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) প্রকাশিত সংস্থাটির বার্ষিক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। এতে বলা হয়, বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নেপালের মতো অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে গেছে, যার প্রভাব পড়েছে অর্থনীতির ওপর।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, চলতি অর্থবছরে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের প্রবৃদ্ধি প্রায় ৪ শতাংশ হতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে এই প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমানো হয়েছে।

তবে জাতীয় নির্বাচন শেষ হওয়ার পর রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কিছুটা কমেছে বলে মনে করছে সংস্থাটি। এর ফলে অর্থনৈতিক কার্যক্রমে গতি ফিরতে পারে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।

মোট দেশজ উৎপাদনের প্রবৃদ্ধি একটি দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির গুরুত্বপূর্ণ সূচক। এটি নির্দিষ্ট সময়ে দেশের মোট উৎপাদন কতটা বেড়েছে তা নির্দেশ করে। প্রবৃদ্ধি বাড়লে সাধারণত মানুষের আয় বৃদ্ধি পায়, তবে এর সুফল সব শ্রেণির মানুষের কাছে সমানভাবে পৌঁছায় না।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বাংলাদেশকে মোট ৫২১ কোটি ডলারের সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সংস্থাটি। এর মধ্যে ঋণ ও অনুদান হিসেবে রয়েছে ২৫৭ কোটি ডলার, আর বাকি অংশ বিভিন্ন সহ-অর্থায়নের মাধ্যমে আসবে।

ব্যাংক খাত নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। দীর্ঘদিনের দুর্বল শাসনব্যবস্থা, তদারকির অভাব এবং মূলধনের ঘাটতির কারণে ব্যাংক খাত কার্যকরভাবে সেবা দিতে পারছে না। ফলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের ঋণপ্রাপ্তি সীমিত হচ্ছে এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তিও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

এই প্রেক্ষাপটে ব্যাংক খাত শক্তিশালী করতে ৫০ কোটি ডলার সহায়তা দেওয়া হয়েছে, যা তদারকি উন্নয়ন, সম্পদের মান বৃদ্ধি এবং তারল্য ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নে ব্যয় করা হবে। এর মাধ্যমে ডিজিটাল সেবা বৃদ্ধি, সাশ্রয়ী ঋণের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং বেসরকারি খাতের প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

এছাড়া পরিবহন খাত উন্নয়ন এবং বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অর্থায়ন অব্যাহত রেখেছে সংস্থাটি।