ঢাকা ০৩:৫৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
যুক্তরাষ্ট্রের ভিজিটর ভিসা নিয়ে বাংলাদেশিদের সতর্ক করল মার্কিন দূতাবাস ঢাকার মেট্রোরেল লাইন-১-এর বড় দুই প্যাকেজ পেল ভারতের এলঅ্যান্ডটি, ব্যয় ৫ হাজার কোটি রুপির বেশি দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে গ্রিড বিপর্যয়: কারণ অনুসন্ধানে বিদ্যুৎ বিভাগের ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি জাপানে নিটসু লজিস্টিকস হাব পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকা-চট্টগ্রামে গ্রিড বিপর্যয়, অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের তারিখ পরিবর্তন, নতুন সময়সূচি ৩১ অক্টোবর নতুন পে স্কেলে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন নিয়ে সিদ্ধান্ত অর্থ মন্ত্রণালয়ের হাতে দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শন ও জনসভায় যোগ দিতে রাজশাহীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ৯ মাসে ৫১৮ সাংবাদিক নির্যাতনের শিকার, মব সহিংসতায় নিহত ১৮৭: এইচআরএসএস জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধনে যাননি কেন, প্রধানমন্ত্রীর ক্ষোভের জবাব দিলেন গোলাম পরওয়ার

মধ্যপ্রাচ্য সংকটে কমেছে এলপিজি আমদানি, ১,৫৮৫ টাকার সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে ২,১০০ টাকায়

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৫:২৯:৫২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 60

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট দীর্ঘায়িত হওয়ায় দেশে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এক মাসের ব্যবধানে এলপিজি আমদানি প্রায় ২৫ শতাংশ কমে যাওয়ায় বাজারে দেখা দিয়েছে তীব্র সংকট। আর এই সংকটকে কাজে লাগিয়ে নির্ধারিত দামের চেয়ে সিলিন্ডারপ্রতি অতিরিক্ত ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

গত ২ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) চলতি মাসের জন্য ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১৩ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ৫৮৫ টাকা নির্ধারণ করে। তবে বাজারে ভোক্তাদের সেই সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে প্রায় ২ হাজার টাকায়। কোথাও কোথাও দাম ২ হাজার ১০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে।

বিইআরসি ও আমদানিকারকদের তথ্য অনুযায়ী, আগস্ট মাসে দেশে প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার টন এলপিজি আমদানি হয়েছিল। সেপ্টেম্বরে সেই পরিমাণ কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টনে। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে আমদানি কমেছে প্রায় ৪০ হাজার টন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটের কারণে লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে জাহাজ চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এতে পর্যাপ্ত কার্গো ও জাহাজ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে বেড়েছে পরিবহন ব্যয়ও।

বাংলাদেশের এলপিজি আমদানির বড় একটি অংশ মধ্যপ্রাচ্যনির্ভর। দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি থাকা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক কয়েকটি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান সরবরাহ প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে দিয়েছে বলে জানা গেছে।

এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (লোয়াব) তথ্য অনুযায়ী, আগে প্রতি টন এলপিজি কার্গোর প্রিমিয়াম ছিল প্রায় ১৬০ ডলার। বর্তমানে তা বেড়ে ২৬০ থেকে ৪০০ ডলারে পৌঁছেছে।

আমদানিকারকদের দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারে বাড়তি খরচ ও কার্গো প্রিমিয়ামের এই ঊর্ধ্বগতি বিইআরসির নির্ধারিত দামে পুরোপুরি প্রতিফলিত হচ্ছে না। ফলে আমদানিতে লোকসানের আশঙ্কায় অনেক প্রতিষ্ঠান এলপিজি আমদানির পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছে।

এদিকে বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ জানিয়েছেন, কয়েকটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের জাহাজ নির্ধারিত সময়ে বন্দরে পৌঁছাতে না পারায় সেপ্টেম্বরে এলপিজির ঘাটতি তৈরি হয়েছে। সংকট মোকাবিলায় দ্রুত আমদানিকারকদের সঙ্গে বৈঠক করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

মধ্যপ্রাচ্য সংকটে কমেছে এলপিজি আমদানি, ১,৫৮৫ টাকার সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে ২,১০০ টাকায়

আপডেট সময় : ০৫:২৯:৫২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট দীর্ঘায়িত হওয়ায় দেশে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এক মাসের ব্যবধানে এলপিজি আমদানি প্রায় ২৫ শতাংশ কমে যাওয়ায় বাজারে দেখা দিয়েছে তীব্র সংকট। আর এই সংকটকে কাজে লাগিয়ে নির্ধারিত দামের চেয়ে সিলিন্ডারপ্রতি অতিরিক্ত ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

গত ২ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) চলতি মাসের জন্য ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১৩ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ৫৮৫ টাকা নির্ধারণ করে। তবে বাজারে ভোক্তাদের সেই সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে প্রায় ২ হাজার টাকায়। কোথাও কোথাও দাম ২ হাজার ১০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে।

বিইআরসি ও আমদানিকারকদের তথ্য অনুযায়ী, আগস্ট মাসে দেশে প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার টন এলপিজি আমদানি হয়েছিল। সেপ্টেম্বরে সেই পরিমাণ কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টনে। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে আমদানি কমেছে প্রায় ৪০ হাজার টন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটের কারণে লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে জাহাজ চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এতে পর্যাপ্ত কার্গো ও জাহাজ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে বেড়েছে পরিবহন ব্যয়ও।

বাংলাদেশের এলপিজি আমদানির বড় একটি অংশ মধ্যপ্রাচ্যনির্ভর। দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি থাকা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক কয়েকটি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান সরবরাহ প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে দিয়েছে বলে জানা গেছে।

এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (লোয়াব) তথ্য অনুযায়ী, আগে প্রতি টন এলপিজি কার্গোর প্রিমিয়াম ছিল প্রায় ১৬০ ডলার। বর্তমানে তা বেড়ে ২৬০ থেকে ৪০০ ডলারে পৌঁছেছে।

আমদানিকারকদের দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারে বাড়তি খরচ ও কার্গো প্রিমিয়ামের এই ঊর্ধ্বগতি বিইআরসির নির্ধারিত দামে পুরোপুরি প্রতিফলিত হচ্ছে না। ফলে আমদানিতে লোকসানের আশঙ্কায় অনেক প্রতিষ্ঠান এলপিজি আমদানির পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছে।

এদিকে বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ জানিয়েছেন, কয়েকটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের জাহাজ নির্ধারিত সময়ে বন্দরে পৌঁছাতে না পারায় সেপ্টেম্বরে এলপিজির ঘাটতি তৈরি হয়েছে। সংকট মোকাবিলায় দ্রুত আমদানিকারকদের সঙ্গে বৈঠক করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।