জাপানে বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানে নতুন চুক্তি, নিয়োগ শুরু ২০২৭ সালের ১ এপ্রিল
- আপডেট সময় : ০২:৫৭:৩৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
- / 25

বাংলাদেশ ও জাপানের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে। বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং কর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে দুই দেশের মধ্যে ‘ইএসডিপি-এমওসি’ (মেমোরেন্ডাম অব কো-অপারেশন অন এমপ্লয়মেন্ট স্কিলস ডেভেলপমেন্ট) শীর্ষক একটি নতুন চুক্তি চূড়ান্তভাবে স্বাক্ষরিত হয়েছে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং জাপান সরকারের প্রায় এক বছরের প্রচেষ্টার পর গত ১৭ অক্টোবর চুক্তিটি সই হয়।
রোববার (১৮ অক্টোবর) প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলামের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশের পক্ষে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। অন্যদিকে জাপানের পক্ষে দেশটির বিচার মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য, শ্রম ও কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং ন্যাশনাল পুলিশ এজেন্সির প্রতিনিধিরা এতে স্বাক্ষর করেন।
বর্তমান সরকারের বৈদেশিক কর্মসংস্থান সম্প্রসারণের উদ্যোগে এই চুক্তিকে অন্যতম মাইলফলক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন জাপান সফরের সময় চুক্তির অনুলিপি আনুষ্ঠানিকভাবে দুই দেশের মধ্যে হস্তান্তর করা হবে।
চুক্তি অনুযায়ী, আগামী ১ এপ্রিল ২০২৭ থেকে এর আওতায় বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগ শুরু করবে জাপান। চুক্তিটির প্রাথমিক মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে পাঁচ বছর। এই মেয়াদ শেষে এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে আরও পাঁচ বছরের জন্য বাড়বে। ফলে চুক্তিটির মোট কার্যকর মেয়াদ দাঁড়াবে ১০ বছর।
চুক্তির বিভিন্ন সুবিধা তুলে ধরে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, এর মাধ্যমে কর্মীদের সর্বোচ্চ সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কর্মী পাঠানো ও গ্রহণের ক্ষেত্রে দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার হবে। কর্মসংস্থানের সুযোগ কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশি নাগরিকদের দক্ষতা বাড়বে। এর ফলে তাঁদের উচ্চ বেতন এবং জাপানে দীর্ঘমেয়াদে বসবাসের সুযোগ তৈরি হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, এই চুক্তির আওতায় বাংলাদেশি কর্মীরা জাপানের স্থানীয় শ্রমিকদের সমতুল্য আইনি সুরক্ষা পাবেন এবং কর্মক্ষেত্রে নারী-পুরুষের সমান সুযোগ নিশ্চিত করা হবে। বিশেষ করে, গর্ভাবস্থা বা সন্তান জন্মদানের কারণে নারী বিদেশি কর্মীদের চাকরিচ্যুত করা কিংবা তাঁদের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ করা যাবে না। এ ছাড়া গর্ভধারণ বা সন্তান প্রসবের কারণে কর্মীদের জোরপূর্বক দেশে ফেরত পাঠানোর বাধ্যতামূলক কোনো বিধানও চুক্তিতে রাখা হয়নি।
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এই চুক্তি বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও জাপানের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশি কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে দেশের দক্ষ মানবসম্পদ সম্প্রসারণের সুযোগ আরও বাড়বে।
























