সরকারি কাজে অবহেলা ও অসহযোগিতা, দায়ীদের শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ
- আপডেট সময় : ১০:০৩:৩১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
- / 32

‘সবার ওপরে বাংলাদেশ’ নীতি বাস্তবায়নে সরকারি দায়িত্ব পালনে অবহেলা ও অসহযোগিতার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি। পাশাপাশি বাজেট বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন যেসব প্রকল্পের বাস্তবায়ন কার্যক্রম ধীরগতিতে চলছে, সেগুলোর কারণ অনুসন্ধানেরও পরামর্শ দিয়েছে কমিটি।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির প্রথম বৈঠকে এসব সুপারিশ করা হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি সাঈদ আহমেদ এমপি।
বৈঠকে সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে সাঈদ আহমেদ বলেন, কোনো সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে আইনগত, প্রশাসনিক কিংবা বাস্তব কোনো বাধা থাকলে তা কমিটির সামনে পরিষ্কারভাবে তুলে ধরতে হবে। সংশ্লিষ্ট কোনো তথ্য গোপন না করে প্রয়োজনীয় নথিপত্র, প্রাসঙ্গিক তথ্য এবং প্রকৃত পরিস্থিতি উপস্থাপনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, নাগরিকদের সেবা সহজ ও দ্রুত করার পাশাপাশি সরকারি কার্যক্রমে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। ডিজিটাল সেবা এবং তথ্যপ্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহারের মাধ্যমে জনগণের সময়, অর্থ ও শ্রম সাশ্রয় করতে হবে। একই সঙ্গে সরকারি কার্যক্রমে অনিয়মের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
সমস্যা সমাধানে প্রচলিত ধ্যান-ধারণার বাইরে এসে জবাবদিহি, স্বচ্ছতা ও পারস্পরিক সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান সাঈদ আহমেদ। তিনি বলেন, সরকারি কর্মকর্তাদের মনে রাখতে হবে, তাঁরা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী; কোনো রাজনৈতিক দল, ব্যক্তি কিংবা নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর প্রতিনিধি নন।
বৈঠকে রাষ্ট্র সংস্কারের ক্ষেত্রে মানসিকতার পরিবর্তনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। জাতীয়তাবাদী চেতনা ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে ৩১ দফা সংস্কার বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে কার্যক্রম পরিচালনার পরামর্শ দেওয়া হয়।
বৈঠকের শুরুতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও ঢাকা-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এবং দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক সালাহউদ্দিন আহমেদের মৃত্যুতে শোক প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। পরে কমিটি প্রস্তাবটি গ্রহণ করে।
এ ছাড়া মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানানো হয়। বৈঠকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থান এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত শহীদদের স্মরণ করা হয়। একই সঙ্গে আহত ব্যক্তিদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করা হয়।
বৈঠকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বিসিএস প্রশাসন একাডেমি, বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ড, মুদ্রণ ও প্রকাশনা অধিদপ্তর, সরকারি যানবাহন অধিদপ্তর, সরকারি কর্মচারী হাসপাতাল, বিয়াম ফাউন্ডেশন, জাতীয় উন্নয়ন প্রশাসন একাডেমি (নাডা) এবং জাতীয় পরিকল্পনা ও উন্নয়ন একাডেমি (এনএপিডি)।
বৈঠকে কমিটির সদস্য ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী, এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান, শাহজাহান চৌধুরী, মো. আমিরুল ইসলাম খান, ফখর উদ্দিন আহমেদ, রেহেনা আক্তার রানু এবং মো. নূরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব, মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও বৈঠকে অংশ নেন।





















