ঢাকা ১২:২৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
জাপানে নিটসু লজিস্টিকস হাব পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকা-চট্টগ্রামে গ্রিড বিপর্যয়, অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের তারিখ পরিবর্তন, নতুন সময়সূচি ৩১ অক্টোবর নতুন পে স্কেলে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন নিয়ে সিদ্ধান্ত অর্থ মন্ত্রণালয়ের হাতে দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শন ও জনসভায় যোগ দিতে রাজশাহীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ৯ মাসে ৫১৮ সাংবাদিক নির্যাতনের শিকার, মব সহিংসতায় নিহত ১৮৭: এইচআরএসএস জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধনে যাননি কেন, প্রধানমন্ত্রীর ক্ষোভের জবাব দিলেন গোলাম পরওয়ার তেলের দাম ও মূল্যস্ফীতির চাপে কমল স্বর্ণের দর, নজর ফেডের সুদের হার সিদ্ধান্তে লিবিয়ায় নিরাপত্তা বাহিনীর প্রশিক্ষণকেন্দ্রে গোলাবারুদ বিস্ফোরণ, নিহত ৮ ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়ে উয়েফার ৪২ প্রশ্ন, ২ নভেম্বরের মধ্যে জবাব চায় ফিফার ইউরোপীয় সংস্থা

নতুন পে-স্কেলে বেতন নির্ধারণ শুরু ৫ অক্টোবর, ২০ অক্টোবরের মধ্যে শেষ করার নির্দেশ

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৫:৩২:৪২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬
  • / 53

নতুন জাতীয় বেতনকাঠামো বা পে-স্কেল অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন নির্ধারণের (পে ফিক্সেশন) কার্যক্রম সোমবার (৫ অক্টোবর) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হচ্ছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ আগামী ২০ অক্টোবরের মধ্যে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নির্দেশনা দিয়েছে।

অর্থ বিভাগের সূত্রে জানা গেছে, সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন নির্ধারণ করা হবে সমন্বিত বাজেট ও হিসাবরক্ষণ পদ্ধতি ‘আইবাস প্লাস প্লাস’ (iBAS++)-এর পে ফিক্সেশন মডিউলের মাধ্যমে। এজন্য চাকরিজীবীদের নির্দিষ্ট পোর্টালে প্রবেশ করে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), জন্মতারিখ, বর্তমান পদবি, গ্রেড, চাকরিতে যোগদানের তারিখ এবং বর্তমান মূল বেতনের সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে হবে।

বেতন নির্ধারণের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হওয়ার পর সরকারি চাকরিজীবীরা একসঙ্গে প্রায় তিন মাসের এরিয়ার বা বকেয়া বেতন তুলতে পারবেন। এর পাশাপাশি আগে কোনো পদোন্নতি, বদলি, টাইম স্কেল, সিলেকশন গ্রেড কিংবা উচ্চতর গ্রেড পেয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট অফিস আদেশের নথিপত্র প্রস্তুত রেখে তথ্যের সঙ্গে তা সঠিকভাবে মিলিয়ে নিতে হবে। কোনো কারণে এনআইডি না থাকলে চাকরির নথিতে থাকা তথ্য হালনাগাদ করে আবেদন সম্পন্ন করার নির্দেশনা রয়েছে।

কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনলাইনে তথ্য এন্ট্রির পর সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কার্যালয় তা বিস্তারিতভাবে যাচাই-বাছাই করবে। তথ্যে কোনো গরমিল পাওয়া গেলে তা সংশোধনের সুযোগ থাকবে। বেতন নির্ধারণ কার্যক্রম নির্বিঘ্ন করতে অর্থ বিভাগের ‘এসপিএফএমএস’ কর্মসূচির আওতায় বিভাগীয় হিসাব নিয়ন্ত্রক (ডিসিএ), জেলা ও উপজেলা হিসাব কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় অনলাইন প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

বেতন নির্ধারণ চূড়ান্ত হওয়ার পর নতুন মূল বেতনের ভিত্তিতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিয়মিত বেতন বিল এবং বকেয়া পাওনার হিসাব তৈরি হবে।

দীর্ঘ ১১ বছর পর গত ১৯ সেপ্টেম্বর সরকার নতুন জাতীয় বেতনকাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারি করে। এতে সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ অর্থবছরের মধ্যে মোট তিন ধাপে নতুন মূল বেতন কার্যকর হবে।

গত ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে বিদ্যমান মূল বেতনের ভিত্তিতে বেতন সমন্বয় করা হবে। প্রথম ধাপে চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নতুন ও পুরোনো মূল বেতনের পার্থক্যের ৪০ শতাংশ দেওয়া হবে। দ্বিতীয় ধাপে ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত পার্থক্যের ৭০ শতাংশ কার্যকর হবে। এরপর ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে চাকরিজীবীরা পুরো নতুন মূল বেতন পাবেন।

চলতি অর্থবছরে মূল বেতনের এই বর্ধিত অংশ পরিশোধের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে ৩৭ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তবে নতুন কাঠামোয় বিভিন্ন ভাতার অংশ ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে।

এদিকে নতুন বেতন আদেশে পদোন্নতি ছাড়া সন্তোষজনক চাকরির আট বছর পূর্তিতে প্রথম উচ্চতর গ্রেড এবং এর পরবর্তী ছয় বছর পর দ্বিতীয় উচ্চতর গ্রেড দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। তবে অতীতে একই পদে একাধিকবার টাইম স্কেল বা সিলেকশন গ্রেড নেওয়া কর্মীদের নতুন কাঠামোয় বেতন সমন্বয় নিয়ে কিছু জটিলতা তৈরি হয়েছে। এসব জটিলতা নিরসনে কাজ করছে অর্থ বিভাগ।

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, অতীতে একই পদে একাধিক উচ্চতর সুবিধা পেয়ে থাকলে নতুন কাঠামোয় আর কোনো সুবিধা পাওয়া যাবে না। তবে একটি উচ্চতর স্কেল পাওয়া থাকলে পরবর্তী ছয় বছর পূর্ণ হওয়ার পর দ্বিতীয় উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার সুযোগ থাকবে। আগামী ২০ অক্টোবরের মধ্যে চাকরিজীবীদের এসব পূর্ববর্তী বেতন ও পদোন্নতির ইতিহাস সঠিকভাবে যাচাই করে নতুন বেতন এবং বকেয়া পাওনার চূড়ান্ত হিসাব নিষ্পত্তি করা হবে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

নতুন পে-স্কেলে বেতন নির্ধারণ শুরু ৫ অক্টোবর, ২০ অক্টোবরের মধ্যে শেষ করার নির্দেশ

আপডেট সময় : ০৫:৩২:৪২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬

নতুন জাতীয় বেতনকাঠামো বা পে-স্কেল অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন নির্ধারণের (পে ফিক্সেশন) কার্যক্রম সোমবার (৫ অক্টোবর) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হচ্ছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ আগামী ২০ অক্টোবরের মধ্যে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নির্দেশনা দিয়েছে।

অর্থ বিভাগের সূত্রে জানা গেছে, সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন নির্ধারণ করা হবে সমন্বিত বাজেট ও হিসাবরক্ষণ পদ্ধতি ‘আইবাস প্লাস প্লাস’ (iBAS++)-এর পে ফিক্সেশন মডিউলের মাধ্যমে। এজন্য চাকরিজীবীদের নির্দিষ্ট পোর্টালে প্রবেশ করে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), জন্মতারিখ, বর্তমান পদবি, গ্রেড, চাকরিতে যোগদানের তারিখ এবং বর্তমান মূল বেতনের সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে হবে।

বেতন নির্ধারণের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হওয়ার পর সরকারি চাকরিজীবীরা একসঙ্গে প্রায় তিন মাসের এরিয়ার বা বকেয়া বেতন তুলতে পারবেন। এর পাশাপাশি আগে কোনো পদোন্নতি, বদলি, টাইম স্কেল, সিলেকশন গ্রেড কিংবা উচ্চতর গ্রেড পেয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট অফিস আদেশের নথিপত্র প্রস্তুত রেখে তথ্যের সঙ্গে তা সঠিকভাবে মিলিয়ে নিতে হবে। কোনো কারণে এনআইডি না থাকলে চাকরির নথিতে থাকা তথ্য হালনাগাদ করে আবেদন সম্পন্ন করার নির্দেশনা রয়েছে।

কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনলাইনে তথ্য এন্ট্রির পর সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কার্যালয় তা বিস্তারিতভাবে যাচাই-বাছাই করবে। তথ্যে কোনো গরমিল পাওয়া গেলে তা সংশোধনের সুযোগ থাকবে। বেতন নির্ধারণ কার্যক্রম নির্বিঘ্ন করতে অর্থ বিভাগের ‘এসপিএফএমএস’ কর্মসূচির আওতায় বিভাগীয় হিসাব নিয়ন্ত্রক (ডিসিএ), জেলা ও উপজেলা হিসাব কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় অনলাইন প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

বেতন নির্ধারণ চূড়ান্ত হওয়ার পর নতুন মূল বেতনের ভিত্তিতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিয়মিত বেতন বিল এবং বকেয়া পাওনার হিসাব তৈরি হবে।

দীর্ঘ ১১ বছর পর গত ১৯ সেপ্টেম্বর সরকার নতুন জাতীয় বেতনকাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারি করে। এতে সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ অর্থবছরের মধ্যে মোট তিন ধাপে নতুন মূল বেতন কার্যকর হবে।

গত ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে বিদ্যমান মূল বেতনের ভিত্তিতে বেতন সমন্বয় করা হবে। প্রথম ধাপে চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নতুন ও পুরোনো মূল বেতনের পার্থক্যের ৪০ শতাংশ দেওয়া হবে। দ্বিতীয় ধাপে ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত পার্থক্যের ৭০ শতাংশ কার্যকর হবে। এরপর ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে চাকরিজীবীরা পুরো নতুন মূল বেতন পাবেন।

চলতি অর্থবছরে মূল বেতনের এই বর্ধিত অংশ পরিশোধের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে ৩৭ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তবে নতুন কাঠামোয় বিভিন্ন ভাতার অংশ ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে।

এদিকে নতুন বেতন আদেশে পদোন্নতি ছাড়া সন্তোষজনক চাকরির আট বছর পূর্তিতে প্রথম উচ্চতর গ্রেড এবং এর পরবর্তী ছয় বছর পর দ্বিতীয় উচ্চতর গ্রেড দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। তবে অতীতে একই পদে একাধিকবার টাইম স্কেল বা সিলেকশন গ্রেড নেওয়া কর্মীদের নতুন কাঠামোয় বেতন সমন্বয় নিয়ে কিছু জটিলতা তৈরি হয়েছে। এসব জটিলতা নিরসনে কাজ করছে অর্থ বিভাগ।

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, অতীতে একই পদে একাধিক উচ্চতর সুবিধা পেয়ে থাকলে নতুন কাঠামোয় আর কোনো সুবিধা পাওয়া যাবে না। তবে একটি উচ্চতর স্কেল পাওয়া থাকলে পরবর্তী ছয় বছর পূর্ণ হওয়ার পর দ্বিতীয় উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার সুযোগ থাকবে। আগামী ২০ অক্টোবরের মধ্যে চাকরিজীবীদের এসব পূর্ববর্তী বেতন ও পদোন্নতির ইতিহাস সঠিকভাবে যাচাই করে নতুন বেতন এবং বকেয়া পাওনার চূড়ান্ত হিসাব নিষ্পত্তি করা হবে।