অনলাইনে আসছে বিবাহ-তালাক নিবন্ধন, ঠেকানো যাবে গোপন বিয়ে ও বাল্যবিবাহ
- আপডেট সময় : ০৪:২৪:৩৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬
- / 51

আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, দেশের বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন ব্যবস্থা ধীরে ধীরে ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আনা হচ্ছে। অনলাইনে তথ্য সংরক্ষণের মাধ্যমে তথ্য গোপন করে একাধিক বিয়ে এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার (৩ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর নিকেতনে ব্র্যাক লার্নিং সেন্টারে নিকাহ রেজিস্ট্রারদের জন্য আয়োজিত ‘অনলাইনে বিবাহ ও তালাক নিবন্ধনে সফটওয়্যারের ব্যবহারবিধি’ শীর্ষক ১০ দিনব্যাপী আবাসিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে এসব কথা বলেন আইনমন্ত্রী।
তিনি জানান, অনলাইনে সংরক্ষিত বিবাহ নিবন্ধনের তথ্য পর্যায়ক্রমে জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মনিবন্ধন ও পাসপোর্টের কেন্দ্রীয় সার্ভারের সঙ্গে সংযুক্ত করা হবে। এর ফলে কোনো ব্যক্তির আগের বিবাহের তথ্য সহজেই যাচাই করার সুযোগ তৈরি হবে।
আইনমন্ত্রী বলেন, কোনো ব্যক্তি এক জায়গায় বিয়ে করার পর তথ্য গোপন করে অন্যত্র আবার বিয়ে করতে চাইলে অনলাইন ব্যবস্থায় তার আগের বিবাহের তথ্য দেখা যাবে। এতে পূর্ববর্তী স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া পরবর্তী বিয়ে নিবন্ধনের বিষয়টিও যাচাই করা সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, বিবাহ নিবন্ধনের তথ্য জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মনিবন্ধন ও পাসপোর্টের কেন্দ্রীয় তথ্যভান্ডারের সঙ্গে যুক্ত হলে একজন ব্যক্তির বৈবাহিক অবস্থাও যাচাই করা যাবে। এর মাধ্যমে বাল্যবিবাহ ও বহুবিবাহ প্রতিরোধে সহায়তা পাওয়া যাবে।
ভবিষ্যতে কোনো ব্যক্তির মৃত্যুর পর স্ত্রী বা সন্তানদের পক্ষ থেকে একাধিক দাবি উঠলেও নিবন্ধিত বিবাহের তথ্যের মাধ্যমে প্রকৃত বিষয় যাচাই করা সম্ভব হবে বলে জানান আইনমন্ত্রী। এতে এ ধরনের দাবি নিয়ে মামলা-মোকদ্দমার প্রবণতাও কমতে পারে এবং রাষ্ট্রের ওপর অতিরিক্ত চাপ কমবে।
বিদেশে থাকা বা বিদেশে যাওয়ার প্রয়োজন রয়েছে এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও অনলাইন বিবাহ নিবন্ধনের তথ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে জানান তিনি। কোনো ব্যক্তি বিদেশে গিয়ে স্ত্রীকে সঙ্গে নিতে চাইলে সংশ্লিষ্ট দেশের কর্তৃপক্ষ অনলাইনে বিবাহের তথ্য যাচাই করতে পারবে। ফলে ওই ব্যক্তির প্রকৃত বৈবাহিক সম্পর্ক সম্পর্কে দ্রুত তথ্য পাওয়া সম্ভব হবে।
এদিকে ঢাকার সাব-রেজিস্ট্রারদের দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে থাকার প্রবণতা কমাতে লটারির মাধ্যমে পদায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, ঢাকা শহরের সাব-রেজিস্ট্রারদের বদলির ক্ষেত্রে বিভিন্ন দিক থেকে তদবির আসায় দীর্ঘদিন একই স্থানে থাকার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে নিয়মনীতি অনুসরণ করে লটারির মাধ্যমে পদায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
























