বারিধারায় নির্মাণশ্রমিক মেহেদী নিহতের মামলা, ১৭ বছরের কিশোরের জামিন শুনানি ৪ অক্টোবর
- আপডেট সময় : ০৪:৪৮:১২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 69

রাজধানীর বারিধারায় গাড়িচাপায় নির্মাণশ্রমিক মেহেদী হাসান মিম (২৪) নিহতের মামলায় ১৭ বছর বয়সী কিশোরের জামিন আবেদনের ওপর অধিকতর শুনানির জন্য আগামী ৪ অক্টোবর দিন ধার্য করেছেন আদালত।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ঢাকার শিশু আদালত-৮-এর বিচারক মো. আব্দুল মোক্তাদির শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. কামরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জামিন শুনানিতে কিশোরের পক্ষে ঢাকা বারের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. গোলাম মোস্তফা খান, অ্যাডভোকেট আলমগীর হোসেনসহ একাধিক আইনজীবী অংশ নেন।
শুনানিতে অ্যাডভোকেট গোলাম মোস্তফা খান আদালতকে বলেন, মামলাটি নিয়ে বাদীপক্ষের সঙ্গে আদালতের বাইরে সমঝোতা হয়েছে। এজাহারে কিশোরের নাম নেই এবং নিহতের পরিবারকে ৯ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। কিশোরের বয়স বিবেচনায় তাকে জামিন দেওয়ার আবেদন করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, নিহত মেহেদী হাসান শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। গাড়ির হর্ন দেওয়া হলেও তিনি তা শুনতে পাননি। এ কারণেই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি।
এর জবাবে বিচারক বলেন, মামলাটি নিয়ে কী পরিমাণ গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে, সেটিও বিবেচনায় নিতে হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, মামলার ধারাগুলো জামিনযোগ্য বা আপসযোগ্য নয় এবং এটি জামিন অযোগ্য মামলা।
এ সময় আইনজীবীরা কিশোরের বয়স বিবেচনায় জামিন দেওয়ার আবেদন জানিয়ে বলেন, তারা বাদীপক্ষের সঙ্গে আপস-মীমাংসা করেছেন।
বিচারক তখন বলেন, তিনি আইনের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত দেবেন। আইনজীবীদের জামিন শুনানি করতে বলেন এবং জানান, নথিপত্র পর্যালোচনা করে আদেশ দেওয়া হবে অথবা প্রয়োজনে পরে আদেশ দেওয়া হতে পারে।
পরে আইনজীবীরা আদালতকে জানান, নিহতের পরিবারের সদস্যরা সেখানে উপস্থিত রয়েছেন এবং কিশোরের জামিন হলে তাদের কোনো আপত্তি নেই। বিচারকের নির্দেশে নিহতের বড় ভাই, বাবা ও মামা কাঠগড়ার সামনে গিয়ে দাঁড়ান।
এ সময় বিচারক বলেন, ঘটনাটি গুরুতর এবং একটি সমাজ ন্যায়বিচারের দিকে তাকিয়ে আছে। তিনি জানান, মামলায় মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান না থাকলেও সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। পাশাপাশি অর্থদণ্ডের ব্যবস্থাও রয়েছে।
বিচারক আরও বলেন, মামলায় শুধু অর্থদণ্ডের বিধান থাকলে বিষয়টি এতদূর গড়াত না। কিন্তু ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ায় সব দিক বিবেচনা করতে হচ্ছে।
পরে অ্যাডভোকেট গোলাম মোস্তফা খান আগামী বৃহস্পতিবার জামিন শুনানির দিন রাখার অনুরোধ করেন। এরপর আইনজীবীরা আগামী রোববার অধিকতর জামিন শুনানির জন্য দিন নির্ধারণের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত ৪ অক্টোবর অধিকতর জামিন শুনানির দিন ধার্য করেন।
যেভাবে ঘটেছিল
গত মঙ্গলবার বিকেল ৫টার দিকে বারিধারা ডিপ্লোম্যাটিক জোনের ১ নম্বর সড়কের ফুটপাতে বসে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন নির্মাণশ্রমিক মেহেদী হাসান মিম। এ সময় দ্রুতগতির একটি প্রাইভেটকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাকে চাপা দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকজন গাড়ির চালকের আসনে থাকা ১৭ বছরের কিশোরকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। পরে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ওই রাতেই তাকে চাচার জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।
মেহেদীর মৃত্যুর ঘটনায় তার ভাই মোক্তাদীর ইসলাম বুধবার গুলশান থানায় মামলা করেন। মামলায় গাড়ির চালক হিসেবে আকাশ মারককে আসামি করা হলেও গাড়ির চালকের আসনে থাকা কিশোরের নাম এজাহারে উল্লেখ করা হয়নি।
এ নিয়ে সমালোচনা শুরু হলে বুধবার ওই কিশোরকে গ্রেফতার করে গুলশান থানা পুলিশ। পরদিন তাকে আদালতে হাজির করে কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আরেফীন ইসলাম। শুনানি শেষে আদালত তাকে গাজীপুরের টঙ্গী কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর আদেশ দেন।
এর আগে কিশোরের আইনজীবী আলমগীর হোসেন সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, নিহতের পরিবারের সঙ্গে ৯ লাখ টাকায় মামলাটি আপস হয়েছে। পরে তিনি কিশোরের জামিনের আবেদন করেন। আদালত সেদিন জামিনের বিষয়ে শুনানি না করে রোববার শুনানির দিন নির্ধারণ করেছিলেন।

























