ঢাকা ০৩:০৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
যুক্তরাষ্ট্রের ভিজিটর ভিসা নিয়ে বাংলাদেশিদের সতর্ক করল মার্কিন দূতাবাস ঢাকার মেট্রোরেল লাইন-১-এর বড় দুই প্যাকেজ পেল ভারতের এলঅ্যান্ডটি, ব্যয় ৫ হাজার কোটি রুপির বেশি দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে গ্রিড বিপর্যয়: কারণ অনুসন্ধানে বিদ্যুৎ বিভাগের ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি জাপানে নিটসু লজিস্টিকস হাব পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকা-চট্টগ্রামে গ্রিড বিপর্যয়, অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের তারিখ পরিবর্তন, নতুন সময়সূচি ৩১ অক্টোবর নতুন পে স্কেলে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন নিয়ে সিদ্ধান্ত অর্থ মন্ত্রণালয়ের হাতে দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শন ও জনসভায় যোগ দিতে রাজশাহীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ৯ মাসে ৫১৮ সাংবাদিক নির্যাতনের শিকার, মব সহিংসতায় নিহত ১৮৭: এইচআরএসএস জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধনে যাননি কেন, প্রধানমন্ত্রীর ক্ষোভের জবাব দিলেন গোলাম পরওয়ার

প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে ভেরিফিকেশনের নামে বাদ দেওয়ার অভিযোগ, স্বচ্ছ তদন্তের দাবি ইউটিএলের

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৩:৪২:৪৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 60

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও ভেরিফিকেশনের নামে প্রার্থীদের বাদ দেওয়ার অভিযোগে প্রতিবাদ জানিয়েছে ইউনিভার্সিটি টিচার্স লিংক (ইউটিএল)।

শনিবার এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনটির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. আতিয়ার রহমান ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. যুবাঈর মুহাম্মদ এহসান বলেন, বাদ পড়া প্রার্থীরা নিয়োগ প্রক্রিয়ায় মেধার ভিত্তিতে মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছিলেন। এরপর ভেরিফিকেশনের মাধ্যমে তাদের বাদ দেওয়া হয়ে থাকলে এর সুনির্দিষ্ট কারণ ও আইনগত ভিত্তি জনসমক্ষে প্রকাশ করা প্রয়োজন। তাদের মতে, ভেরিফিকেশন কোনোভাবেই রাজনৈতিক মতাদর্শিক বৈষম্য, হয়রানি বা বাছাইয়ের হাতিয়ার হতে পারে না।

ইউটিএল নেতারা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে কারও রাজনৈতিক মতামত, ব্যক্তিগত বিশ্বাস কিংবা সরকারের সঙ্গে মতপার্থক্যের কারণে চাকরি থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। নির্দিষ্ট অপরাধ বা আইনগত অযোগ্যতার প্রমাণ ছাড়া অনুমান, রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা মতপার্থক্যের ভিত্তিতে কাউকে সরকারি চাকরি থেকে বঞ্চিত করা গ্রহণযোগ্য নয়।

বিবৃতিতে তারা আরও বলেন, গত ১৭ বছর গোপন প্রতিবেদনের নামে রাজনৈতিক মতাদর্শ বিবেচনা করে নাগরিকদের চাকরি ও ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে। এ ধরনের প্রক্রিয়া আর চলতে পারে না। কোনো সরকারি সংস্থার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত কোনো প্রার্থীর নিয়োগ বাতিল করতে হলে ওই প্রতিবেদনের আইনগত ভিত্তি ও যৌক্তিকতা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীকে যথাযথ সুযোগ দিতে হবে।

সাম্প্রতিক সময়ে সরকারি নিয়োগে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েও বিভিন্ন প্রশ্ন উঠেছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। ইউটিএল নেতারা বলেন, জুলাই-পরবর্তী সময়ে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও জবাবদিহিমূলক নিয়োগব্যবস্থা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকারের। সরকারি চাকরি কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতি আনুগত্যের পুরস্কার নয়—এ বিষয়টিও নিশ্চিত করতে হবে।

সংগঠনটি অবিলম্বে বাদ পড়া চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীদের ভেরিফিকেশন প্রতিবেদন পুনঃপর্যালোচনা, অভিযোগের যথাযথ প্রমাণ উপস্থাপন এবং প্রয়োজন হলে পুনঃতদন্তের মাধ্যমে তাদের নিয়োগ সম্পন্ন করার আহ্বান জানিয়েছে।

ইউটিএল নেতাদের মতে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ভেরিফিকেশনের নামে বৈষম্য ও মতাদর্শিক বাছাইয়ের অভিযোগ উঠলে তা ইনসাফভিত্তিক নতুন বাংলাদেশের প্রত্যাশার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়ে দাঁড়ায়।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে ভেরিফিকেশনের নামে বাদ দেওয়ার অভিযোগ, স্বচ্ছ তদন্তের দাবি ইউটিএলের

আপডেট সময় : ০৩:৪২:৪৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও ভেরিফিকেশনের নামে প্রার্থীদের বাদ দেওয়ার অভিযোগে প্রতিবাদ জানিয়েছে ইউনিভার্সিটি টিচার্স লিংক (ইউটিএল)।

শনিবার এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনটির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. আতিয়ার রহমান ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. যুবাঈর মুহাম্মদ এহসান বলেন, বাদ পড়া প্রার্থীরা নিয়োগ প্রক্রিয়ায় মেধার ভিত্তিতে মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছিলেন। এরপর ভেরিফিকেশনের মাধ্যমে তাদের বাদ দেওয়া হয়ে থাকলে এর সুনির্দিষ্ট কারণ ও আইনগত ভিত্তি জনসমক্ষে প্রকাশ করা প্রয়োজন। তাদের মতে, ভেরিফিকেশন কোনোভাবেই রাজনৈতিক মতাদর্শিক বৈষম্য, হয়রানি বা বাছাইয়ের হাতিয়ার হতে পারে না।

ইউটিএল নেতারা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে কারও রাজনৈতিক মতামত, ব্যক্তিগত বিশ্বাস কিংবা সরকারের সঙ্গে মতপার্থক্যের কারণে চাকরি থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। নির্দিষ্ট অপরাধ বা আইনগত অযোগ্যতার প্রমাণ ছাড়া অনুমান, রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা মতপার্থক্যের ভিত্তিতে কাউকে সরকারি চাকরি থেকে বঞ্চিত করা গ্রহণযোগ্য নয়।

বিবৃতিতে তারা আরও বলেন, গত ১৭ বছর গোপন প্রতিবেদনের নামে রাজনৈতিক মতাদর্শ বিবেচনা করে নাগরিকদের চাকরি ও ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে। এ ধরনের প্রক্রিয়া আর চলতে পারে না। কোনো সরকারি সংস্থার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত কোনো প্রার্থীর নিয়োগ বাতিল করতে হলে ওই প্রতিবেদনের আইনগত ভিত্তি ও যৌক্তিকতা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীকে যথাযথ সুযোগ দিতে হবে।

সাম্প্রতিক সময়ে সরকারি নিয়োগে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েও বিভিন্ন প্রশ্ন উঠেছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। ইউটিএল নেতারা বলেন, জুলাই-পরবর্তী সময়ে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও জবাবদিহিমূলক নিয়োগব্যবস্থা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকারের। সরকারি চাকরি কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতি আনুগত্যের পুরস্কার নয়—এ বিষয়টিও নিশ্চিত করতে হবে।

সংগঠনটি অবিলম্বে বাদ পড়া চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীদের ভেরিফিকেশন প্রতিবেদন পুনঃপর্যালোচনা, অভিযোগের যথাযথ প্রমাণ উপস্থাপন এবং প্রয়োজন হলে পুনঃতদন্তের মাধ্যমে তাদের নিয়োগ সম্পন্ন করার আহ্বান জানিয়েছে।

ইউটিএল নেতাদের মতে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ভেরিফিকেশনের নামে বৈষম্য ও মতাদর্শিক বাছাইয়ের অভিযোগ উঠলে তা ইনসাফভিত্তিক নতুন বাংলাদেশের প্রত্যাশার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়ে দাঁড়ায়।