ঢাকা ০১:৪৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
যুক্তরাষ্ট্রের ভিজিটর ভিসা নিয়ে বাংলাদেশিদের সতর্ক করল মার্কিন দূতাবাস ঢাকার মেট্রোরেল লাইন-১-এর বড় দুই প্যাকেজ পেল ভারতের এলঅ্যান্ডটি, ব্যয় ৫ হাজার কোটি রুপির বেশি দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে গ্রিড বিপর্যয়: কারণ অনুসন্ধানে বিদ্যুৎ বিভাগের ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি জাপানে নিটসু লজিস্টিকস হাব পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকা-চট্টগ্রামে গ্রিড বিপর্যয়, অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের তারিখ পরিবর্তন, নতুন সময়সূচি ৩১ অক্টোবর নতুন পে স্কেলে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন নিয়ে সিদ্ধান্ত অর্থ মন্ত্রণালয়ের হাতে দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শন ও জনসভায় যোগ দিতে রাজশাহীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ৯ মাসে ৫১৮ সাংবাদিক নির্যাতনের শিকার, মব সহিংসতায় নিহত ১৮৭: এইচআরএসএস জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধনে যাননি কেন, প্রধানমন্ত্রীর ক্ষোভের জবাব দিলেন গোলাম পরওয়ার

স্লেজিংয়ের জবাব দেওয়ার মানসিকতা গাঙ্গুলিই বদলে দিয়েছিলেন: দীপ দাশগুপ্ত

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৫:২৭:২৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬
  • / 94

প্রতিপক্ষের স্লেজিংয়ের জবাব দেওয়ার ধরনই বদলে দিয়েছিলেন ভারতের সাবেক অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলি—এমনটাই মনে করেন সাবেক ভারতীয় ক্রিকেটার দীপ দাশগুপ্ত। তার মতে, গাঙ্গুলির নেতৃত্বেই ভারতীয় দল প্রতিপক্ষের আক্রমণাত্মক আচরণের পাল্টা জবাব দেওয়ার মানসিকতা তৈরি করে।

দূরদর্শনের অনুষ্ঠান ‘দ্য গ্রেট ইন্ডিয়ান ক্রিকেট শো’-তে গাঙ্গুলির অধিনায়কত্ব নিয়ে কথা বলতে গিয়ে দলের মানসিকতায় আসা পরিবর্তনের বিষয়টি তুলে ধরেন দাশগুপ্ত। ভারতের হয়ে আটটি টেস্ট ও পাঁচটি ওয়ানডে খেলা এই সাবেক ক্রিকেটার মনে করেন, বিদেশের মাটিতে ভারতের লড়াকু মানসিকতার ভিত্তি তৈরি হয়েছিল গাঙ্গুলির সময়েই।

দাশগুপ্ত বলেন, গাঙ্গুলির নেতৃত্বে প্রতিপক্ষ স্লেজিং করলে ভারতীয় ক্রিকেটাররাও পাল্টা জবাব দিতে শুরু করেন। এর আগে খেলোয়াড়েরা রাগ বা ক্ষোভ নিজেদের মধ্যে রেখে মাঠে পারফরম্যান্সের মাধ্যমে জবাব দেওয়ার চেষ্টা করতেন। কিন্তু গাঙ্গুলির সময়ে সেই মানসিকতার সঙ্গে যুক্ত হয় সরাসরি পাল্টা জবাব দেওয়ার সাহসও।

তিনি বলেন, ‘গাঙ্গুলির অধীনে কেউ স্লেজিং করলে আমরাও পাল্টা জবাব দিতে শুরু করি। আগে আমরা বলতাম, রাগটা অন্যভাবে কাজে লাগাব। কিন্তু এখন সেটা করার পাশাপাশি আমরা পাল্টা জবাবও দিতাম।’

গাঙ্গুলির ডাকনাম ‘মহারাজ’ উল্লেখ করে দাশগুপ্ত বলেন, তার মধ্যে সবসময় নিজের সামর্থ্য নিয়ে প্রবল আত্মবিশ্বাস ছিল। সেই আত্মবিশ্বাস ধীরে ধীরে পুরো দলের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ে।

দাশগুপ্তের ভাষায়, ‘তার ডাকনাম মহারাজ। তার মধ্যে সবসময় এই বিশ্বাস কাজ করত যে, আমিই রাজা। আর এই মানসিকতা পুরো দলের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়েছিল।’

নিজের খেলার সময়ের সঙ্গে পরবর্তী সময়ের তুলনা করে তিনি জানান, ২০০১ সাল থেকে ২০০৩-০৪ সালের ঐতিহাসিক অস্ট্রেলিয়া সফরের সময় ভারতীয় দলের ব্যক্তিত্বে বড় ধরনের পরিবর্তন স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

তিনি বলেন, আগে ভারতীয় দল প্রতিপক্ষের আচরণে ক্ষুব্ধ হলেও তা অনেকটা নিজেদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখত। কিন্তু পরবর্তী সময়ে সেই মনোভাব বদলে যায়। প্রতিপক্ষ কিছু বললে ভারতীয় ক্রিকেটাররাও মাঠেই তার জবাব দিতে শুরু করেন।

ভারতের হয়ে ১৯৬টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে অধিনায়কত্ব করেছেন সৌরভ গাঙ্গুলি। এর মধ্যে ৯৭টি ম্যাচে জয় এবং ৭৯টিতে হার দেখেছে ভারত। টেস্টে তার নেতৃত্বে ৪৯ ম্যাচের মধ্যে ভারত জিতেছে ২১টি, হেরেছে ১৩টি এবং ১৫টি ম্যাচ ড্র হয়েছে।

গাঙ্গুলির নেতৃত্বে ভারত ২০০৩ বিশ্বকাপে রানার্সআপ হয়। এছাড়া ২০০২ সালে ন্যাটওয়েস্ট ট্রফি জয়, একই বছর শ্রীলঙ্কার সঙ্গে যৌথভাবে আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফি জয় এবং ঘরের মাঠে ২০০১ সালের বর্ডার-গাভাস্কার ট্রফি জয়ের মতো উল্লেখযোগ্য সাফল্যও আসে তার নেতৃত্বে।

তার অধিনায়কত্বে ২০০২ সালে লিডস এবং ২০০৩ সালে অ্যাডিলেডে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ভারতের স্মরণীয় টেস্ট জয়ও আসে। পরবর্তী সময়ে মহেন্দ্র সিং ধোনি ও বিরাট কোহলি গাঙ্গুলির গড়ে দেওয়া ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে ভারতীয় টেস্ট দলকে আরও সাফল্যের দিকে নিয়ে যান।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

স্লেজিংয়ের জবাব দেওয়ার মানসিকতা গাঙ্গুলিই বদলে দিয়েছিলেন: দীপ দাশগুপ্ত

আপডেট সময় : ০৫:২৭:২৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬

প্রতিপক্ষের স্লেজিংয়ের জবাব দেওয়ার ধরনই বদলে দিয়েছিলেন ভারতের সাবেক অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলি—এমনটাই মনে করেন সাবেক ভারতীয় ক্রিকেটার দীপ দাশগুপ্ত। তার মতে, গাঙ্গুলির নেতৃত্বেই ভারতীয় দল প্রতিপক্ষের আক্রমণাত্মক আচরণের পাল্টা জবাব দেওয়ার মানসিকতা তৈরি করে।

দূরদর্শনের অনুষ্ঠান ‘দ্য গ্রেট ইন্ডিয়ান ক্রিকেট শো’-তে গাঙ্গুলির অধিনায়কত্ব নিয়ে কথা বলতে গিয়ে দলের মানসিকতায় আসা পরিবর্তনের বিষয়টি তুলে ধরেন দাশগুপ্ত। ভারতের হয়ে আটটি টেস্ট ও পাঁচটি ওয়ানডে খেলা এই সাবেক ক্রিকেটার মনে করেন, বিদেশের মাটিতে ভারতের লড়াকু মানসিকতার ভিত্তি তৈরি হয়েছিল গাঙ্গুলির সময়েই।

দাশগুপ্ত বলেন, গাঙ্গুলির নেতৃত্বে প্রতিপক্ষ স্লেজিং করলে ভারতীয় ক্রিকেটাররাও পাল্টা জবাব দিতে শুরু করেন। এর আগে খেলোয়াড়েরা রাগ বা ক্ষোভ নিজেদের মধ্যে রেখে মাঠে পারফরম্যান্সের মাধ্যমে জবাব দেওয়ার চেষ্টা করতেন। কিন্তু গাঙ্গুলির সময়ে সেই মানসিকতার সঙ্গে যুক্ত হয় সরাসরি পাল্টা জবাব দেওয়ার সাহসও।

তিনি বলেন, ‘গাঙ্গুলির অধীনে কেউ স্লেজিং করলে আমরাও পাল্টা জবাব দিতে শুরু করি। আগে আমরা বলতাম, রাগটা অন্যভাবে কাজে লাগাব। কিন্তু এখন সেটা করার পাশাপাশি আমরা পাল্টা জবাবও দিতাম।’

গাঙ্গুলির ডাকনাম ‘মহারাজ’ উল্লেখ করে দাশগুপ্ত বলেন, তার মধ্যে সবসময় নিজের সামর্থ্য নিয়ে প্রবল আত্মবিশ্বাস ছিল। সেই আত্মবিশ্বাস ধীরে ধীরে পুরো দলের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ে।

দাশগুপ্তের ভাষায়, ‘তার ডাকনাম মহারাজ। তার মধ্যে সবসময় এই বিশ্বাস কাজ করত যে, আমিই রাজা। আর এই মানসিকতা পুরো দলের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়েছিল।’

নিজের খেলার সময়ের সঙ্গে পরবর্তী সময়ের তুলনা করে তিনি জানান, ২০০১ সাল থেকে ২০০৩-০৪ সালের ঐতিহাসিক অস্ট্রেলিয়া সফরের সময় ভারতীয় দলের ব্যক্তিত্বে বড় ধরনের পরিবর্তন স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

তিনি বলেন, আগে ভারতীয় দল প্রতিপক্ষের আচরণে ক্ষুব্ধ হলেও তা অনেকটা নিজেদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখত। কিন্তু পরবর্তী সময়ে সেই মনোভাব বদলে যায়। প্রতিপক্ষ কিছু বললে ভারতীয় ক্রিকেটাররাও মাঠেই তার জবাব দিতে শুরু করেন।

ভারতের হয়ে ১৯৬টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে অধিনায়কত্ব করেছেন সৌরভ গাঙ্গুলি। এর মধ্যে ৯৭টি ম্যাচে জয় এবং ৭৯টিতে হার দেখেছে ভারত। টেস্টে তার নেতৃত্বে ৪৯ ম্যাচের মধ্যে ভারত জিতেছে ২১টি, হেরেছে ১৩টি এবং ১৫টি ম্যাচ ড্র হয়েছে।

গাঙ্গুলির নেতৃত্বে ভারত ২০০৩ বিশ্বকাপে রানার্সআপ হয়। এছাড়া ২০০২ সালে ন্যাটওয়েস্ট ট্রফি জয়, একই বছর শ্রীলঙ্কার সঙ্গে যৌথভাবে আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফি জয় এবং ঘরের মাঠে ২০০১ সালের বর্ডার-গাভাস্কার ট্রফি জয়ের মতো উল্লেখযোগ্য সাফল্যও আসে তার নেতৃত্বে।

তার অধিনায়কত্বে ২০০২ সালে লিডস এবং ২০০৩ সালে অ্যাডিলেডে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ভারতের স্মরণীয় টেস্ট জয়ও আসে। পরবর্তী সময়ে মহেন্দ্র সিং ধোনি ও বিরাট কোহলি গাঙ্গুলির গড়ে দেওয়া ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে ভারতীয় টেস্ট দলকে আরও সাফল্যের দিকে নিয়ে যান।