ঢাকা ০৬:১৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
যুক্তরাষ্ট্রের ভিজিটর ভিসা নিয়ে বাংলাদেশিদের সতর্ক করল মার্কিন দূতাবাস ঢাকার মেট্রোরেল লাইন-১-এর বড় দুই প্যাকেজ পেল ভারতের এলঅ্যান্ডটি, ব্যয় ৫ হাজার কোটি রুপির বেশি দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে গ্রিড বিপর্যয়: কারণ অনুসন্ধানে বিদ্যুৎ বিভাগের ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি জাপানে নিটসু লজিস্টিকস হাব পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকা-চট্টগ্রামে গ্রিড বিপর্যয়, অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের তারিখ পরিবর্তন, নতুন সময়সূচি ৩১ অক্টোবর নতুন পে স্কেলে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন নিয়ে সিদ্ধান্ত অর্থ মন্ত্রণালয়ের হাতে দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শন ও জনসভায় যোগ দিতে রাজশাহীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ৯ মাসে ৫১৮ সাংবাদিক নির্যাতনের শিকার, মব সহিংসতায় নিহত ১৮৭: এইচআরএসএস জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধনে যাননি কেন, প্রধানমন্ত্রীর ক্ষোভের জবাব দিলেন গোলাম পরওয়ার

জ্বালানি সংকট কাটাতে বাংলাদেশকে সৌরবিদ্যুতে সহায়তা দেবে চীন

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৪:৪০:১৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬
  • / 21

বাংলাদেশের চলমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করেছে চীন। জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে সৌর ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে সহায়তা করার কথা জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

ইয়াও ওয়েন বলেন, ‘জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে বাংলাদেশের এখনই সৌর বা নবায়নযোগ্য শক্তি বিকাশ করার উপযুক্ত সময়। চীন এ সেক্টরে বাংলাদেশকে সহায়তা করবে।’

বৈঠকে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম ও সচিব মো. শহিদুল হাসান উপস্থিত ছিলেন।

চীনা রাষ্ট্রদূত বলেন, বৈঠকে বাংলাদেশে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প নিয়েও আলোচনা হয়েছে। এটিকে দেশের প্রথম ও একমাত্র প্রকল্প উল্লেখ করে তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় প্রকল্পটির সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। খুব শিগগিরই এটি উদ্বোধন করা হবে। ঢাকা শহরের উন্নয়নে প্রকল্পটি একটি মডেল হিসেবে কাজ করবে বলেও জানান তিনি।

বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক উন্নয়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন, ভাষা শিক্ষা এবং দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে চীন সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে বলেও জানান ইয়াও ওয়েন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে সামগ্রিক সহযোগিতার একটি ঐতিহাসিক ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ-চীন দ্বিপক্ষীয় ও রাজনৈতিক সম্পর্ক ঐতিহাসিক উল্লেখ করে তিনি বলেন, চীন বাংলাদেশের পুরোনো বন্ধু। বাণিজ্যিক সম্পর্ক বাড়ানোর পাশাপাশি দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

ইয়াও ওয়েন জানান, প্রধানমন্ত্রীর সফরের পর চট্টগ্রামে চীনের বিশেষায়িত অর্থনৈতিক অঞ্চলের কাজ শুরু হয়েছে। পাশাপাশি মোংলা বন্দর প্রকল্প নিয়েও কাজ করছে চীন। তিস্তা নদী প্রকল্প বাস্তবায়নে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজও চলছে।

অর্থনৈতিক সহযোগিতার পাশাপাশি শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক আদান-প্রদান নিয়েও দুই দেশ কাজ করছে বলে জানান তিনি। বাংলাদেশি জনশক্তিকে বিনামূল্যে দক্ষ করে তুলতে এবং ম্যান্ডারিন ভাষা শেখাতে চীন বিশেষজ্ঞ পাঠিয়ে সহায়তা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

রাষ্ট্রদূত বলেন, ঢাকার বস্তি আধুনিকীকরণ প্রকল্প নিয়েও চীন কাজ করছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কাছে এটি বর্তমানে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত একটি বিষয়। দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের সঙ্গে এ প্রকল্পটি জড়িত।

বাংলাদেশ ইতোমধ্যে প্রকল্পটির প্রস্তাব চীনের সঙ্গে শেয়ার করেছে এবং সহযোগিতা চেয়েছে জানিয়ে ইয়াও ওয়েন বলেন, দরিদ্র মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হওয়ায় চীন-বাংলাদেশ সহযোগিতার ক্ষেত্রে প্রকল্পটি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে।

তিনি বলেন, ‘আমরা এটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা করেছি এবং আশা করছি, বস্তি আধুনিকীকরণ প্রকল্পের ক্ষেত্রে নিকট ভবিষ্যতে কিছু দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখতে পাব। আমি মন্ত্রীকে পূর্ণ সহযোগিতা দেওয়ার বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ—বিশেষ করে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সবুজ শক্তি উন্নয়ন এবং বস্তি উন্নয়ন প্রকল্পের ক্ষেত্রে।’

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

জ্বালানি সংকট কাটাতে বাংলাদেশকে সৌরবিদ্যুতে সহায়তা দেবে চীন

আপডেট সময় : ০৪:৪০:১৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬

বাংলাদেশের চলমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করেছে চীন। জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে সৌর ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে সহায়তা করার কথা জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

ইয়াও ওয়েন বলেন, ‘জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে বাংলাদেশের এখনই সৌর বা নবায়নযোগ্য শক্তি বিকাশ করার উপযুক্ত সময়। চীন এ সেক্টরে বাংলাদেশকে সহায়তা করবে।’

বৈঠকে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম ও সচিব মো. শহিদুল হাসান উপস্থিত ছিলেন।

চীনা রাষ্ট্রদূত বলেন, বৈঠকে বাংলাদেশে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প নিয়েও আলোচনা হয়েছে। এটিকে দেশের প্রথম ও একমাত্র প্রকল্প উল্লেখ করে তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় প্রকল্পটির সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। খুব শিগগিরই এটি উদ্বোধন করা হবে। ঢাকা শহরের উন্নয়নে প্রকল্পটি একটি মডেল হিসেবে কাজ করবে বলেও জানান তিনি।

বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক উন্নয়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন, ভাষা শিক্ষা এবং দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে চীন সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে বলেও জানান ইয়াও ওয়েন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে সামগ্রিক সহযোগিতার একটি ঐতিহাসিক ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ-চীন দ্বিপক্ষীয় ও রাজনৈতিক সম্পর্ক ঐতিহাসিক উল্লেখ করে তিনি বলেন, চীন বাংলাদেশের পুরোনো বন্ধু। বাণিজ্যিক সম্পর্ক বাড়ানোর পাশাপাশি দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

ইয়াও ওয়েন জানান, প্রধানমন্ত্রীর সফরের পর চট্টগ্রামে চীনের বিশেষায়িত অর্থনৈতিক অঞ্চলের কাজ শুরু হয়েছে। পাশাপাশি মোংলা বন্দর প্রকল্প নিয়েও কাজ করছে চীন। তিস্তা নদী প্রকল্প বাস্তবায়নে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজও চলছে।

অর্থনৈতিক সহযোগিতার পাশাপাশি শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক আদান-প্রদান নিয়েও দুই দেশ কাজ করছে বলে জানান তিনি। বাংলাদেশি জনশক্তিকে বিনামূল্যে দক্ষ করে তুলতে এবং ম্যান্ডারিন ভাষা শেখাতে চীন বিশেষজ্ঞ পাঠিয়ে সহায়তা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

রাষ্ট্রদূত বলেন, ঢাকার বস্তি আধুনিকীকরণ প্রকল্প নিয়েও চীন কাজ করছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কাছে এটি বর্তমানে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত একটি বিষয়। দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের সঙ্গে এ প্রকল্পটি জড়িত।

বাংলাদেশ ইতোমধ্যে প্রকল্পটির প্রস্তাব চীনের সঙ্গে শেয়ার করেছে এবং সহযোগিতা চেয়েছে জানিয়ে ইয়াও ওয়েন বলেন, দরিদ্র মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হওয়ায় চীন-বাংলাদেশ সহযোগিতার ক্ষেত্রে প্রকল্পটি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে।

তিনি বলেন, ‘আমরা এটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা করেছি এবং আশা করছি, বস্তি আধুনিকীকরণ প্রকল্পের ক্ষেত্রে নিকট ভবিষ্যতে কিছু দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখতে পাব। আমি মন্ত্রীকে পূর্ণ সহযোগিতা দেওয়ার বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ—বিশেষ করে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সবুজ শক্তি উন্নয়ন এবং বস্তি উন্নয়ন প্রকল্পের ক্ষেত্রে।’