ঢাকা ০৫:২১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
যুক্তরাষ্ট্রের ভিজিটর ভিসা নিয়ে বাংলাদেশিদের সতর্ক করল মার্কিন দূতাবাস ঢাকার মেট্রোরেল লাইন-১-এর বড় দুই প্যাকেজ পেল ভারতের এলঅ্যান্ডটি, ব্যয় ৫ হাজার কোটি রুপির বেশি দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে গ্রিড বিপর্যয়: কারণ অনুসন্ধানে বিদ্যুৎ বিভাগের ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি জাপানে নিটসু লজিস্টিকস হাব পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকা-চট্টগ্রামে গ্রিড বিপর্যয়, অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের তারিখ পরিবর্তন, নতুন সময়সূচি ৩১ অক্টোবর নতুন পে স্কেলে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন নিয়ে সিদ্ধান্ত অর্থ মন্ত্রণালয়ের হাতে দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শন ও জনসভায় যোগ দিতে রাজশাহীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ৯ মাসে ৫১৮ সাংবাদিক নির্যাতনের শিকার, মব সহিংসতায় নিহত ১৮৭: এইচআরএসএস জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধনে যাননি কেন, প্রধানমন্ত্রীর ক্ষোভের জবাব দিলেন গোলাম পরওয়ার

মাত্রাতিরিক্ত পেস্টিসাইডে বাড়ছে ক্যানসারের ঝুঁকি, কৃষকদের প্রশিক্ষণের উদ্যোগ

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৬:১১:২০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬
  • / 33

মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশক বা পেস্টিসাইড ব্যবহারের কারণে কৃষকদের মধ্যে ক্যানসারসহ বিভিন্ন গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি ও শারীরিক জটিলতা বাড়ছে বলে জানিয়েছেন কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। পেস্টিসাইডের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে কৃষকদের সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের (বিএআরসি) সম্মেলন কক্ষে বিএআরসি গভর্নিং বডির ৬ষ্ঠ সভায় এসব কথা বলেন মন্ত্রী।

মন্ত্রী বলেন, পেস্টিসাইডের অতিরিক্ত ব্যবহার শুধু কৃষকদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছে না, এর প্রভাব মাটি, পানি, পরিবেশ ও খাদ্যনিরাপত্তার ওপরও পড়তে পারে। তাই কৃষকদের সচেতন করার পাশাপাশি নিরাপদ ও সঠিক মাত্রায় কীটনাশক ব্যবহারে প্রশিক্ষণ দিতে হবে।

তিনি বলেন, প্রাকৃতিক বা জৈব সার সঠিকভাবে ব্যবহার করা গেলে মাটি, পরিবেশ, পানি ও মাছ নিরাপদ রাখা সম্ভব। কৃষিতে নিরাপদ উৎপাদন নিশ্চিত করতে গবেষণার মাধ্যমে এসব বিষয়ে কার্যকর সমাধান বের করার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

মাটিতে ভারী ধাতুর উপস্থিতি বাড়ার বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মন্ত্রী। ভূগর্ভস্থ পানি, সার কিংবা পেস্টিসাইড ব্যবহারের কারণে মাটিতে ভারী ধাতুর মাত্রা বাড়ছে কি না, তা গবেষণার মাধ্যমে খুঁজে বের করার আহ্বান জানান তিনি।

মাটির পিএইচ মাত্রা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে অনেক এলাকায় মাটির পিএইচ ৪ দশমিক ৫ থেকে ৫-এর মধ্যে রয়েছে। অথচ ভালো ফসল উৎপাদনের জন্য মাটির পিএইচ ৬ দশমিক ৫-এর ওপরে থাকা প্রয়োজন। মাটির পিএইচ উন্নত করা গেলে ফসলের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন আরও নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

মাংস উৎপাদন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশ মাংস উৎপাদনে প্রায় স্বয়ংসম্পূর্ণ। এ খাতে উৎপাদন আরও বাড়াতে গবেষণার পরিধি ও কার্যক্রম সম্প্রসারণ করতে হবে। উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে পারলে ভবিষ্যতে বিলিয়ন ডলারের মাংস ও মাংসজাত পণ্য রপ্তানি করা সম্ভব হবে।

মিঠাপানির মাছ উৎপাদনে অবদান রাখা ব্যক্তিদের সরকার পুরস্কৃত করছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, প্রাকৃতিক উৎসের মাছের উৎপাদন ও সংরক্ষণেও অভয়াশ্রম স্থাপনসহ বিভিন্ন কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তগুলোর বাস্তবায়ন নিয়মিতভাবে অনুসরণ ও নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। জাতীয় নীতি প্রণয়নে গবেষকদের মেধা ও জ্ঞানকে কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, সরকার গবেষকদের গবেষণালব্ধ জ্ঞানকে সর্বোচ্চ কাজে লাগাতে চায়।

এ ছাড়া কৃষকদের কাছে ফসল উৎপাদনসংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা ও পরামর্শ সহজে পৌঁছে দিতে ‘খামারি’ মোবাইল অ্যাপকে আরও জনপ্রিয় করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

সভায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং বিএআরসি গভর্নিং বডির কো-চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদের নতুন জাত উদ্ভাবন এবং উৎপাদন বৃদ্ধিতে সরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। পাশাপাশি বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের উদ্ভাবনগুলোও জাতীয় স্বার্থে কীভাবে কাজে লাগানো যায়, সে বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

মাত্রাতিরিক্ত পেস্টিসাইডে বাড়ছে ক্যানসারের ঝুঁকি, কৃষকদের প্রশিক্ষণের উদ্যোগ

আপডেট সময় : ০৬:১১:২০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬

মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশক বা পেস্টিসাইড ব্যবহারের কারণে কৃষকদের মধ্যে ক্যানসারসহ বিভিন্ন গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি ও শারীরিক জটিলতা বাড়ছে বলে জানিয়েছেন কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। পেস্টিসাইডের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে কৃষকদের সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের (বিএআরসি) সম্মেলন কক্ষে বিএআরসি গভর্নিং বডির ৬ষ্ঠ সভায় এসব কথা বলেন মন্ত্রী।

মন্ত্রী বলেন, পেস্টিসাইডের অতিরিক্ত ব্যবহার শুধু কৃষকদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছে না, এর প্রভাব মাটি, পানি, পরিবেশ ও খাদ্যনিরাপত্তার ওপরও পড়তে পারে। তাই কৃষকদের সচেতন করার পাশাপাশি নিরাপদ ও সঠিক মাত্রায় কীটনাশক ব্যবহারে প্রশিক্ষণ দিতে হবে।

তিনি বলেন, প্রাকৃতিক বা জৈব সার সঠিকভাবে ব্যবহার করা গেলে মাটি, পরিবেশ, পানি ও মাছ নিরাপদ রাখা সম্ভব। কৃষিতে নিরাপদ উৎপাদন নিশ্চিত করতে গবেষণার মাধ্যমে এসব বিষয়ে কার্যকর সমাধান বের করার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

মাটিতে ভারী ধাতুর উপস্থিতি বাড়ার বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মন্ত্রী। ভূগর্ভস্থ পানি, সার কিংবা পেস্টিসাইড ব্যবহারের কারণে মাটিতে ভারী ধাতুর মাত্রা বাড়ছে কি না, তা গবেষণার মাধ্যমে খুঁজে বের করার আহ্বান জানান তিনি।

মাটির পিএইচ মাত্রা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে অনেক এলাকায় মাটির পিএইচ ৪ দশমিক ৫ থেকে ৫-এর মধ্যে রয়েছে। অথচ ভালো ফসল উৎপাদনের জন্য মাটির পিএইচ ৬ দশমিক ৫-এর ওপরে থাকা প্রয়োজন। মাটির পিএইচ উন্নত করা গেলে ফসলের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন আরও নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

মাংস উৎপাদন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশ মাংস উৎপাদনে প্রায় স্বয়ংসম্পূর্ণ। এ খাতে উৎপাদন আরও বাড়াতে গবেষণার পরিধি ও কার্যক্রম সম্প্রসারণ করতে হবে। উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে পারলে ভবিষ্যতে বিলিয়ন ডলারের মাংস ও মাংসজাত পণ্য রপ্তানি করা সম্ভব হবে।

মিঠাপানির মাছ উৎপাদনে অবদান রাখা ব্যক্তিদের সরকার পুরস্কৃত করছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, প্রাকৃতিক উৎসের মাছের উৎপাদন ও সংরক্ষণেও অভয়াশ্রম স্থাপনসহ বিভিন্ন কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তগুলোর বাস্তবায়ন নিয়মিতভাবে অনুসরণ ও নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। জাতীয় নীতি প্রণয়নে গবেষকদের মেধা ও জ্ঞানকে কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, সরকার গবেষকদের গবেষণালব্ধ জ্ঞানকে সর্বোচ্চ কাজে লাগাতে চায়।

এ ছাড়া কৃষকদের কাছে ফসল উৎপাদনসংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা ও পরামর্শ সহজে পৌঁছে দিতে ‘খামারি’ মোবাইল অ্যাপকে আরও জনপ্রিয় করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

সভায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং বিএআরসি গভর্নিং বডির কো-চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদের নতুন জাত উদ্ভাবন এবং উৎপাদন বৃদ্ধিতে সরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। পাশাপাশি বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের উদ্ভাবনগুলোও জাতীয় স্বার্থে কীভাবে কাজে লাগানো যায়, সে বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।