ঢাকা ১০:৪৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
লিবিয়া থেকে দেশে ফিরলেন ১৬৮ বাংলাদেশি এসএসসির খাতা মূল্যায়নে গাফিলতি করা পরীক্ষকদের শাস্তি হবে: শিক্ষামন্ত্রী গুজরাট থেকে বাংলাদেশে আসছে ইলিশ, এবার উল্টো রপ্তানির অনুমতি চাইছে ভারত ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীকে যথাযথ মর্যাদায় আমন্ত্রণ জানানো হয়নি: স্পিকার ডিএজি নজরুল ইসলাম ছোটনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চেয়ে অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে রুমিন ফারহানার আবেদন নিজ কার্যালয় থেকেই চিকিৎসক-নার্সদের হাজিরা মনিটর করবেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী শেভরনের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক, জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘুষের অভিযোগের তদন্তের পরই বদলি শিক্ষা কর্মকর্তা, উঠছে প্রশ্ন আদানির গোড্ডা কেন্দ্রের ৮০০ মেগাওয়াট ইউনিট থেকে ফের বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ

কলেরা হলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৪:২৬:০৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬
  • / 44

কলেরায় আক্রান্ত হলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেছেন, সময়মতো চিকিৎসা না হলে তীব্র ডায়রিয়া ও পানিশূন্যতার কারণে কলেরা দ্রুত জীবনহানির কারণ হতে পারে।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাজধানীর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) অডিটোরিয়ামে ‘প্রিভেন্টিভ ওরাল কলেরা ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্পেইন-২০২৬’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, কলেরা প্রতিরোধযোগ্য ও চিকিৎসাযোগ্য একটি রোগ। নিরাপদ পানি, উন্নত স্যানিটেশন, স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপন ও কার্যকর রোগ নজরদারির পাশাপাশি ওরাল কলেরা ভ্যাকসিন রোগটি প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

তবে শুধু টিকাকে কলেরা প্রতিরোধের একমাত্র সমাধান হিসেবে দেখার সুযোগ নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, কলেরা প্রতিরোধে টিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু টিকা একা যথেষ্ট নয়।

সাখাওয়াত হোসেন বলেন, বাংলাদেশের মতো ঘনবসতিপূর্ণ দেশে নগরায়ন, জনসংখ্যার ঘনত্ব, নিরাপদ পানি ও পয়ঃনিষ্কাশনের সীমাবদ্ধতা, মানুষের চলাচল এবং বিভিন্ন এলাকার বিশেষ ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে লক্ষ্যভিত্তিক ও প্রমাণনির্ভর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

রোগের বোঝা, আগের টিকাদানের ইতিহাস, জনসংখ্যার ঘনত্ব, ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী এবং সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাসহ বিভিন্ন সূচকের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোকে কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, কোনো রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে রোগের ঝুঁকি আগেই চিহ্নিত করে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে সরকার।

তিনি বলেন, এমন একটি স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে চান যেখানে মানুষ অসুস্থ হওয়ার পর শুধু চিকিৎসার জন্য অপেক্ষা করবে না; বরং রোগ হওয়ার আগেই ঝুঁকি শনাক্ত হবে, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাবে।

প্রযুক্তির ব্যবহার প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল হেলথ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে টিকাদান কার্যক্রমেও প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষ ভিএএক্সইপিআই (VaxEPI) প্ল্যাটফর্মে নিবন্ধনের মাধ্যমে ই-হেলথ কার্ড পাবেন। এর মাধ্যমে টিকা গ্রহণের তথ্য সংরক্ষণ, টিকাদানের আওতা পর্যবেক্ষণ, কর্মসূচির তদারকি ও পরবর্তী মূল্যায়ন আরও সহজ ও নির্ভুল হবে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের ঝুঁকিপূর্ণ ১৪টি উপজেলা ও থানায় আগামী ২২ আগস্ট থেকে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কলেরার প্রথম ডোজ এবং ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত দ্বিতীয় ডোজ টিকা দেওয়া হবে। পূর্ণ সুরক্ষার জন্য ১৪ দিনের ব্যবধানে দুটি ডোজ গ্রহণ করতে হবে।

এক বছর বা তার বেশি বয়সী সব নাগরিককে (গর্ভবতী নারী ছাড়া) বিনামূল্যে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এই টিকা দেওয়া হবে। পুরো কর্মসূচিতে ৫১ লাখ ৭৫ হাজার মানুষকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের লালবাগ, গেন্ডারিয়া, কদমতলী ও কামরাঙ্গীরচর—এই চার থানার ১৭টি ওয়ার্ডের ১৯২টি কেন্দ্রে প্রায় ১১ লাখ ৭০ হাজার মানুষকে টিকা দেওয়া হবে।

এ ছাড়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের শেরেবাংলা নগর, খিলক্ষেত ও তেজগাঁও এবং মুন্সিগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নির্দিষ্ট কিছু এলাকাতেও এই কর্মসূচি পরিচালিত হবে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

কলেরা হলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

আপডেট সময় : ০৪:২৬:০৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬

কলেরায় আক্রান্ত হলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেছেন, সময়মতো চিকিৎসা না হলে তীব্র ডায়রিয়া ও পানিশূন্যতার কারণে কলেরা দ্রুত জীবনহানির কারণ হতে পারে।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাজধানীর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) অডিটোরিয়ামে ‘প্রিভেন্টিভ ওরাল কলেরা ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্পেইন-২০২৬’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, কলেরা প্রতিরোধযোগ্য ও চিকিৎসাযোগ্য একটি রোগ। নিরাপদ পানি, উন্নত স্যানিটেশন, স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপন ও কার্যকর রোগ নজরদারির পাশাপাশি ওরাল কলেরা ভ্যাকসিন রোগটি প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

তবে শুধু টিকাকে কলেরা প্রতিরোধের একমাত্র সমাধান হিসেবে দেখার সুযোগ নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, কলেরা প্রতিরোধে টিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু টিকা একা যথেষ্ট নয়।

সাখাওয়াত হোসেন বলেন, বাংলাদেশের মতো ঘনবসতিপূর্ণ দেশে নগরায়ন, জনসংখ্যার ঘনত্ব, নিরাপদ পানি ও পয়ঃনিষ্কাশনের সীমাবদ্ধতা, মানুষের চলাচল এবং বিভিন্ন এলাকার বিশেষ ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে লক্ষ্যভিত্তিক ও প্রমাণনির্ভর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

রোগের বোঝা, আগের টিকাদানের ইতিহাস, জনসংখ্যার ঘনত্ব, ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী এবং সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাসহ বিভিন্ন সূচকের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোকে কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, কোনো রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে রোগের ঝুঁকি আগেই চিহ্নিত করে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে সরকার।

তিনি বলেন, এমন একটি স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে চান যেখানে মানুষ অসুস্থ হওয়ার পর শুধু চিকিৎসার জন্য অপেক্ষা করবে না; বরং রোগ হওয়ার আগেই ঝুঁকি শনাক্ত হবে, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাবে।

প্রযুক্তির ব্যবহার প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল হেলথ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে টিকাদান কার্যক্রমেও প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষ ভিএএক্সইপিআই (VaxEPI) প্ল্যাটফর্মে নিবন্ধনের মাধ্যমে ই-হেলথ কার্ড পাবেন। এর মাধ্যমে টিকা গ্রহণের তথ্য সংরক্ষণ, টিকাদানের আওতা পর্যবেক্ষণ, কর্মসূচির তদারকি ও পরবর্তী মূল্যায়ন আরও সহজ ও নির্ভুল হবে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের ঝুঁকিপূর্ণ ১৪টি উপজেলা ও থানায় আগামী ২২ আগস্ট থেকে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কলেরার প্রথম ডোজ এবং ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত দ্বিতীয় ডোজ টিকা দেওয়া হবে। পূর্ণ সুরক্ষার জন্য ১৪ দিনের ব্যবধানে দুটি ডোজ গ্রহণ করতে হবে।

এক বছর বা তার বেশি বয়সী সব নাগরিককে (গর্ভবতী নারী ছাড়া) বিনামূল্যে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এই টিকা দেওয়া হবে। পুরো কর্মসূচিতে ৫১ লাখ ৭৫ হাজার মানুষকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের লালবাগ, গেন্ডারিয়া, কদমতলী ও কামরাঙ্গীরচর—এই চার থানার ১৭টি ওয়ার্ডের ১৯২টি কেন্দ্রে প্রায় ১১ লাখ ৭০ হাজার মানুষকে টিকা দেওয়া হবে।

এ ছাড়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের শেরেবাংলা নগর, খিলক্ষেত ও তেজগাঁও এবং মুন্সিগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নির্দিষ্ট কিছু এলাকাতেও এই কর্মসূচি পরিচালিত হবে।