ঢাকা ১০:৪৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
লিবিয়া থেকে দেশে ফিরলেন ১৬৮ বাংলাদেশি এসএসসির খাতা মূল্যায়নে গাফিলতি করা পরীক্ষকদের শাস্তি হবে: শিক্ষামন্ত্রী গুজরাট থেকে বাংলাদেশে আসছে ইলিশ, এবার উল্টো রপ্তানির অনুমতি চাইছে ভারত ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীকে যথাযথ মর্যাদায় আমন্ত্রণ জানানো হয়নি: স্পিকার ডিএজি নজরুল ইসলাম ছোটনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চেয়ে অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে রুমিন ফারহানার আবেদন নিজ কার্যালয় থেকেই চিকিৎসক-নার্সদের হাজিরা মনিটর করবেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী শেভরনের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক, জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘুষের অভিযোগের তদন্তের পরই বদলি শিক্ষা কর্মকর্তা, উঠছে প্রশ্ন আদানির গোড্ডা কেন্দ্রের ৮০০ মেগাওয়াট ইউনিট থেকে ফের বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ

কলকাতার হোটেলে আগুনে সাতক্ষীরার দুই বাসিন্দার মৃত্যু, লাশ ফেরানোর আকুতি পরিবারের

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৬:৩০:৫৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬
  • / 40

ভারতের কলকাতায় একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার দুই বাসিন্দার মৃত্যুর ঘটনায় তাদের পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। নিহতরা হলেন উপজেলার তারালী ইউনিয়নের বরেয়া গ্রামের ঘের ব্যবসায়ী আলিমুজ্জামান সাজু (৪৫) ও তেঁতুলিয়া গ্রামের রেবতী সরকার (৩৬)।

স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে বরেয়া ও তেঁতুলিয়া গ্রামের পরিবেশ। প্রিয়জনকে হারানোর শোকের পাশাপাশি এখন স্বজনদের একটাই দাবি—দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা হোক তাদের মরদেহ। শেষবারের মতো প্রিয়জনের মুখ দেখে নিজ হাতে দাফন করতে চান পরিবারের সদস্যরা।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকালে বরেয়া গ্রামে আলিমুজ্জামান সাজুর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, কান্নায় ভেঙে পড়েছেন পরিবারের সদস্যরা। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো বাড়ির পরিবেশ।

সাজু মৃত ইউনুচ সরদারের ছেলে। পেশায় তিনি ঘের ব্যবসায়ী ছিলেন। চিকিৎসার জন্য প্রায় পাঁচ-ছয় দিন আগে ভারতে যান তিনি। কলকাতার ওই হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের পর পরিবারের সদস্যরা তার মৃত্যুর খবর জানতে পারেন।

সাজুর বড় ভাই সাহেব সরদার বলেন, কয়েক দিন আগে তার ভাই চিকিৎসার জন্য ভারতে যান। পরে টেলিভিশনে কলকাতার একটি হোটেলে আগুন লাগার খবর দেখে তারা জানতে পারেন, ওই হোটেলেই সাজু অবস্থান করছিলেন। এক আত্মীয়কে সেখানে পাঠানোর পর ছবি ও মরদেহের মিল পাওয়া গেলে সাজুর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হন তারা।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে সাহেব সরদার বলেন, সরকারের কাছে তাদের আকুল আবেদন, তার ভাইয়ের মরদেহ যেন দ্রুত দেশে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। পরিবারের সদস্যরা শেষবারের মতো তাকে দেখতে চান।

এদিকে একই অগ্নিকাণ্ডে নিহত রেবতী সরকারের বাড়ি কালিগঞ্জের তেঁতুলিয়া গ্রামে। বৃহস্পতিবার তার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বাড়িতে তালা ঝুলছে। পরিবারের সদস্যরা ভারতে অবস্থান করায় পুরো বাড়িতে নেমে এসেছে নীরবতা।

রেবতীর স্বজন তপন সরকার জানান, চিকিৎসার জন্য ভারতে গিয়ে একটি হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে রেবতীর মৃত্যু হয়েছে বলে তার ছেলের কাছ থেকে জানতে পারেন তারা। রেবতীর স্বামী বাংলাদেশে থাকলেও বর্তমানে তার সঙ্গেও যোগাযোগ করা যাচ্ছে না।

তপন সরকার বলেন, রেবতীর পরিবারের আর্থিক অবস্থাও ভালো নয়। তাদের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে, তারাও বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছে। এমন পরিস্থিতিতে পরিবারটি কীভাবে এই শোক সামলাবে, সেটিই এখন বড় চিন্তার বিষয়।

সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মিজ কাউসার আজিজ জানিয়েছেন, ভারতীয় হাইকমিশনের মাধ্যমে নিহত দুজনের মরদেহ দ্রুত দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা নিহতদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

কলকাতার হোটেলে আগুনে সাতক্ষীরার দুই বাসিন্দার মৃত্যু, লাশ ফেরানোর আকুতি পরিবারের

আপডেট সময় : ০৬:৩০:৫৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬

ভারতের কলকাতায় একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার দুই বাসিন্দার মৃত্যুর ঘটনায় তাদের পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। নিহতরা হলেন উপজেলার তারালী ইউনিয়নের বরেয়া গ্রামের ঘের ব্যবসায়ী আলিমুজ্জামান সাজু (৪৫) ও তেঁতুলিয়া গ্রামের রেবতী সরকার (৩৬)।

স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে বরেয়া ও তেঁতুলিয়া গ্রামের পরিবেশ। প্রিয়জনকে হারানোর শোকের পাশাপাশি এখন স্বজনদের একটাই দাবি—দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা হোক তাদের মরদেহ। শেষবারের মতো প্রিয়জনের মুখ দেখে নিজ হাতে দাফন করতে চান পরিবারের সদস্যরা।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকালে বরেয়া গ্রামে আলিমুজ্জামান সাজুর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, কান্নায় ভেঙে পড়েছেন পরিবারের সদস্যরা। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো বাড়ির পরিবেশ।

সাজু মৃত ইউনুচ সরদারের ছেলে। পেশায় তিনি ঘের ব্যবসায়ী ছিলেন। চিকিৎসার জন্য প্রায় পাঁচ-ছয় দিন আগে ভারতে যান তিনি। কলকাতার ওই হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের পর পরিবারের সদস্যরা তার মৃত্যুর খবর জানতে পারেন।

সাজুর বড় ভাই সাহেব সরদার বলেন, কয়েক দিন আগে তার ভাই চিকিৎসার জন্য ভারতে যান। পরে টেলিভিশনে কলকাতার একটি হোটেলে আগুন লাগার খবর দেখে তারা জানতে পারেন, ওই হোটেলেই সাজু অবস্থান করছিলেন। এক আত্মীয়কে সেখানে পাঠানোর পর ছবি ও মরদেহের মিল পাওয়া গেলে সাজুর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হন তারা।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে সাহেব সরদার বলেন, সরকারের কাছে তাদের আকুল আবেদন, তার ভাইয়ের মরদেহ যেন দ্রুত দেশে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। পরিবারের সদস্যরা শেষবারের মতো তাকে দেখতে চান।

এদিকে একই অগ্নিকাণ্ডে নিহত রেবতী সরকারের বাড়ি কালিগঞ্জের তেঁতুলিয়া গ্রামে। বৃহস্পতিবার তার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বাড়িতে তালা ঝুলছে। পরিবারের সদস্যরা ভারতে অবস্থান করায় পুরো বাড়িতে নেমে এসেছে নীরবতা।

রেবতীর স্বজন তপন সরকার জানান, চিকিৎসার জন্য ভারতে গিয়ে একটি হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে রেবতীর মৃত্যু হয়েছে বলে তার ছেলের কাছ থেকে জানতে পারেন তারা। রেবতীর স্বামী বাংলাদেশে থাকলেও বর্তমানে তার সঙ্গেও যোগাযোগ করা যাচ্ছে না।

তপন সরকার বলেন, রেবতীর পরিবারের আর্থিক অবস্থাও ভালো নয়। তাদের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে, তারাও বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছে। এমন পরিস্থিতিতে পরিবারটি কীভাবে এই শোক সামলাবে, সেটিই এখন বড় চিন্তার বিষয়।

সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মিজ কাউসার আজিজ জানিয়েছেন, ভারতীয় হাইকমিশনের মাধ্যমে নিহত দুজনের মরদেহ দ্রুত দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা নিহতদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন।