খাদ্যপণ্যে ট্রান্স ফ্যাটের সর্বোচ্চ মাত্রা ২ শতাংশ নির্ধারণ
- আপডেট সময় : ০৬:৫৪:২৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬
- / 28

হৃদরোগসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি কমাতে খাদ্যপণ্যে শিল্পোৎপাদিত ট্রান্স ফ্যাটি অ্যাসিড (TFA) নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূলে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)। এর অংশ হিসেবে ভোজ্যতেল, বনস্পতি, লাচ্ছাসেমাই, ডেকোরেটেড কেক, চিপস ও চানাচুরসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্যে ট্রান্স ফ্যাটের সর্বোচ্চ মাত্রা ২ শতাংশ নির্ধারণ করে বাংলাদেশ মান (BDS) প্রণয়ন করা হয়েছে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বিএসটিআইয়ের প্রধান কার্যালয়ে বিএসটিআই ও ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে ‘বাংলাদেশে TFA-মুক্ত ভোজ্যতেল ও PHO উৎপাদন উৎসাহিতকরণ’ শীর্ষক অংশীজন পরামর্শ সভায় এসব তথ্য জানানো হয়।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএসটিআইয়ের মহাপরিচালক (সচিব) কাজী ইমদাদুল হক। বিশেষ অতিথি ছিলেন ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল আলীম রিসোর্স পারসন হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
সভায় দেশের বিভিন্ন ভোজ্যতেল উৎপাদন ও পরিশোধনকারী প্রতিষ্ঠান এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা অংশ নেন। সিটি গ্রুপ, টিকে গ্রুপ, বাংলাদেশ এডিবল অয়েল ও মেঘনা গ্রুপসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরাও এতে উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে ‘অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে এসডিজি’র তাগিদ এবং সরকারের অগ্রাধিকার’ বিষয়ে উপস্থাপনা করেন বিএসটিআইয়ের উপপরিচালক (কৃষি ও খাদ্য) এনামুল হক।
বিএসটিআইয়ের মহাপরিচালক কাজী ইমদাদুল হক বলেন, ট্রান্স ফ্যাটমুক্ত নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে উৎপাদক ও ব্যবসায়ীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। শিল্পখাতের বাস্তব সমস্যা, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও উৎপাদন প্রক্রিয়া বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
শিল্পোৎপাদিত ট্রান্স ফ্যাটি অ্যাসিড হৃদরোগসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগের অন্যতম ঝুঁকি হিসেবে বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও (WHO) খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা থেকে ট্রান্স ফ্যাট নির্মূলকে অকালমৃত্যু প্রতিরোধে কার্যকর ও ব্যয়সাশ্রয়ী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করে।
এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ সরকার ২০২১ সালে ‘খাদ্যদ্রব্যে ট্রান্স ফ্যাটি অ্যাসিড (TFA) নিয়ন্ত্রণ প্রবিধানমালা’ প্রণয়ন করে। প্রবিধানটির বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে বিএসটিআই বনস্পতি ও নন-ডেইরি ভেজিটেবল ঘির জন্য প্রণীত বাংলাদেশ জাতীয় মান সংশোধন করেছে।
সংশোধিত মানে ট্রান্স ফ্যাট নিয়ন্ত্রণের আধুনিক প্রয়োজনীয়তা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে খাদ্যপণ্যে TFA-এর মাত্রা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি ট্রান্স ফ্যাটমুক্ত পণ্য উৎপাদনের জন্য শিল্পখাতে আরও কার্যকর পরিবেশ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।























