দেশে চালু হচ্ছে ৫টি বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল, একসঙ্গে উদ্বোধন অক্টোবরে
- আপডেট সময় : ০৭:০৪:৩৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬
- / 27

শিশুদের স্বাস্থ্যসেবাকে আরও সহজলভ্য ও উন্নত করতে দেশের পাঁচটি অঞ্চলে ২০০ শয্যাবিশিষ্ট বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আগামী অক্টোবর মাসে খুলনা, বরিশাল, রংপুর, রাজশাহী বিভাগ এবং কুমিল্লা জেলায় একটি করে হাসপাতাল একযোগে চালু করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শনিবার (১৫ আগস্ট) রাজধানীর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হাসপাতালের নবনির্মিত ৫০০ শয্যার ভবন উদ্বোধন শেষে এসব তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রী।
এর আগে সকাল ১০টার দিকে প্রধানমন্ত্রী হাসপাতালের নতুন ভবনটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন। এ সময় তিনি হাসপাতাল প্রাঙ্গণে একটি গাছের চারা রোপণ করেন। পরে মোনাজাতে অংশ নেন এবং বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে নবনির্মিত ভবনের উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আধুনিক স্বাস্থ্যব্যবস্থার লক্ষ্য শুধু অবকাঠামো ও প্রযুক্তির সম্প্রসারণ নয়। উন্নত প্রযুক্তি, দক্ষ জনবল, সুশাসন ও সময়োপযোগী নীতির সমন্বয়ে দেশের প্রতিটি মানুষের জন্য সহজলভ্য, সাশ্রয়ী ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য।
তিনি বলেন, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হাসপাতালের ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট ভবন-২ উদ্বোধনের মাধ্যমে দেশের বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবার সক্ষমতা আরও বাড়ল।
তারেক রহমান জানান, ২০০৬ সালের ২৩ অক্টোবর এই হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুম বেগম খালেদা জিয়া। সময়ের প্রয়োজন অনুযায়ী আধুনিক সুযোগ-সুবিধা যুক্ত করে হাসপাতালটি বর্তমানে আরও বড় পরিসরে গড়ে উঠেছে।
নিউরোলজিক্যাল বা স্নায়ুবিক জটিলতাকে বিশ্বজুড়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্ট্রোক, ইপিলেপসি, পারকিনসন্স ডিজিজ, ডিমেনশিয়া ও মেরুদণ্ডের বিভিন্ন জটিলতায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। এসব রোগের জন্য আধুনিক ও বিশেষায়িত চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তাও বাড়ছে।
নতুন ৫০০ শয্যার ভবনে আধুনিক আইসিইউ, অপারেশন থিয়েটার, উন্নত ডায়াগনস্টিক সুবিধা ও বিশেষায়িত ওয়ার্ড থাকায় চিকিৎসাসেবার সক্ষমতা বহুগুণ বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। পাশাপাশি চিকিৎসা গবেষণা ও উচ্চতর শিক্ষার ক্ষেত্রেও ভবনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ যাতে স্বল্প খরচে বিশ্বমানের নিউরোচিকিৎসা পেতে পারেন, সে লক্ষ্যেই ‘নিউরোসায়েন্স-২’ নির্মাণ করা হয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তি, অতিরিক্ত শয্যা ও দক্ষ জনবলের সমন্বয়ে এটি দেশের অসংখ্য রোগীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসাকেন্দ্র হয়ে উঠবে।
স্বাস্থ্যসেবায় প্রযুক্তির পাশাপাশি মানবিক আচরণের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তি রোগ শনাক্ত করতে পারলেও রোগীর ভয়, উদ্বেগ ও মানসিক কষ্ট বোঝার ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের মানবিক আচরণের বিকল্প নেই।
তিনি চিকিৎসক, রোগী ও রোগীর স্বজনদের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা, সম্মান ও সহানুভূতির সম্পর্ক গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন। চিকিৎসকরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগলে কিংবা রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে চিকিৎসকদের আস্থার সম্পর্ক না থাকলে শুধু হাসপাতালের অবকাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে চিকিৎসার জন্য বিদেশমুখিতা বন্ধ করা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, রোগীর কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা, তার মানসিক অবস্থা বোঝা এবং সম্মানজনক ও সহানুভূতিশীল আচরণ চিকিৎসাসেবার মানকে অনেকাংশে উন্নত করে।























