ঢাকা ০৫:২২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
যুক্তরাষ্ট্রের ভিজিটর ভিসা নিয়ে বাংলাদেশিদের সতর্ক করল মার্কিন দূতাবাস ঢাকার মেট্রোরেল লাইন-১-এর বড় দুই প্যাকেজ পেল ভারতের এলঅ্যান্ডটি, ব্যয় ৫ হাজার কোটি রুপির বেশি দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে গ্রিড বিপর্যয়: কারণ অনুসন্ধানে বিদ্যুৎ বিভাগের ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি জাপানে নিটসু লজিস্টিকস হাব পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকা-চট্টগ্রামে গ্রিড বিপর্যয়, অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের তারিখ পরিবর্তন, নতুন সময়সূচি ৩১ অক্টোবর নতুন পে স্কেলে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন নিয়ে সিদ্ধান্ত অর্থ মন্ত্রণালয়ের হাতে দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শন ও জনসভায় যোগ দিতে রাজশাহীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ৯ মাসে ৫১৮ সাংবাদিক নির্যাতনের শিকার, মব সহিংসতায় নিহত ১৮৭: এইচআরএসএস জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধনে যাননি কেন, প্রধানমন্ত্রীর ক্ষোভের জবাব দিলেন গোলাম পরওয়ার

অবসরকালীন সুবিধার টাকা পেতে শিক্ষকদের আর অফিসে ঘুরতে হবে না: প্রধানমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৪:২২:০৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬
  • / 67

বেসরকারি শিক্ষকদের অবসরকালীন সুবিধার টাকা পেতে আর অফিসে অফিসে ঘুরতে হবে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, কোনো ধরনের হয়রানি ও মধ্যস্বত্বভোগীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই যথাসময়ে শিক্ষকদের প্রাপ্য অর্থ সরাসরি অনলাইনে ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পৌঁছে দেওয়া হবে।

শনিবার (১৫ আগস্ট) সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারী অবসর ও কল্যাণ সুবিধার অর্থ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেশের বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার অবসরপ্রাপ্ত ৭০ হাজার ১১৯ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা দীর্ঘ চার বছর পর সরকারি দুটি ফান্ডে জমা থাকা অর্থের একটি অংশ ফেরত পেয়েছেন।

তিনি জানান, ‘বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট’ এবং ‘অবসর সুবিধা বোর্ড’ থেকে অর্থ সরাসরি শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়েছে। এর মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে চলা তাদের আর্থিক অনিশ্চয়তা কিছুটা হলেও কমেছে।

শিক্ষকদের অবসরকালীন সুবিধার অর্থ পেতে হয়রানির সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষকরা নীতি-নৈতিকতা ও আদর্শের শিক্ষা দিয়ে প্রজন্মের পর প্রজন্মকে গড়ে তোলেন। সেই শিক্ষকদের যদি নিজেদের প্রাপ্য অর্থ পেতে ঘুষ দিতে হয় কিংবা বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরে হয়রানির শিকার হতে হয়, তাহলে তা শুধু শিক্ষকদের জন্য অপমানজনক নয়, বরং জাতি হিসেবে আমাদের ব্যর্থতারও প্রকাশ।

তিনি বলেন, কোনো ধরনের ভোগান্তি ছাড়াই অনলাইনে শিক্ষকদের পাওনা অর্থ ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও অবসরকালীন সুবিধার অর্থ পেতে শিক্ষকদের যেন কোনো ধরনের হয়রানির শিকার হতে না হয়, সে ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।

অবসরকালীন সুবিধার অর্থ বিতরণের বর্তমান ব্যবস্থা চালু করা সহজ ছিল না উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, আগের সরকার ব্যাংক-বীমাসহ বিভিন্ন খাতের মতো শিক্ষকদের কল্যাণ ও অবসর সুবিধার তহবিলেও অনিয়ম ও লুটপাট করেছে। জাল ইনডেক্স তৈরি, দুর্বল ব্যাংকে তহবিলের অর্থ স্থানান্তর এবং প্রযুক্তিগত অবকাঠামো ধ্বংসের কারণে দুটি তহবিলই সংকটে পড়ে। ফলে ২০২২ সাল থেকে শিক্ষকরা তাদের প্রাপ্য অর্থ পাচ্ছিলেন না বলে দাবি করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর পর্যাপ্ত অর্থ না থাকা সত্ত্বেও শিক্ষকদের দুরবস্থার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বিশেষ ব্যবস্থায় তাদের পাওনা পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ সময় মরহুমা বেগম খালেদা জিয়াকে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করে তারেক রহমান বলেন, ১৯৯১ সালে ‘বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট’ এবং ২০০২ সালে ‘অবসর সুবিধা বোর্ড’ প্রতিষ্ঠায় তার দূরদর্শী ভূমিকা ছিল। শুরুতে ১৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়ে পর্যায়ক্রমে ৮৯ কোটি টাকার ফান্ড গঠন করে তিনি এই ব্যবস্থার ভিত্তি তৈরি করেছিলেন বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

শিক্ষকদের ভূমিকার গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষকতা এমন একটি পেশা, যা অন্য সব পেশার মানুষ তৈরিতে ভূমিকা রাখে। প্রচলিত নিয়মে অবসরে গেলেও একজন শিক্ষকের সামাজিক দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। সমাজ ও রাষ্ট্রের ধর্মীয়, সামাজিক এবং পারিবারিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় তাদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত শিক্ষকরা সমাজে আলোকবর্তিকা হিসেবে নিজেদের ভূমিকা পালন করে যাবেন।

অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন এবং শিক্ষা সচিব আব্দুল খালেকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

অবসরকালীন সুবিধার টাকা পেতে শিক্ষকদের আর অফিসে ঘুরতে হবে না: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় : ০৪:২২:০৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬

বেসরকারি শিক্ষকদের অবসরকালীন সুবিধার টাকা পেতে আর অফিসে অফিসে ঘুরতে হবে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, কোনো ধরনের হয়রানি ও মধ্যস্বত্বভোগীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই যথাসময়ে শিক্ষকদের প্রাপ্য অর্থ সরাসরি অনলাইনে ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পৌঁছে দেওয়া হবে।

শনিবার (১৫ আগস্ট) সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারী অবসর ও কল্যাণ সুবিধার অর্থ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেশের বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার অবসরপ্রাপ্ত ৭০ হাজার ১১৯ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা দীর্ঘ চার বছর পর সরকারি দুটি ফান্ডে জমা থাকা অর্থের একটি অংশ ফেরত পেয়েছেন।

তিনি জানান, ‘বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট’ এবং ‘অবসর সুবিধা বোর্ড’ থেকে অর্থ সরাসরি শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়েছে। এর মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে চলা তাদের আর্থিক অনিশ্চয়তা কিছুটা হলেও কমেছে।

শিক্ষকদের অবসরকালীন সুবিধার অর্থ পেতে হয়রানির সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষকরা নীতি-নৈতিকতা ও আদর্শের শিক্ষা দিয়ে প্রজন্মের পর প্রজন্মকে গড়ে তোলেন। সেই শিক্ষকদের যদি নিজেদের প্রাপ্য অর্থ পেতে ঘুষ দিতে হয় কিংবা বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরে হয়রানির শিকার হতে হয়, তাহলে তা শুধু শিক্ষকদের জন্য অপমানজনক নয়, বরং জাতি হিসেবে আমাদের ব্যর্থতারও প্রকাশ।

তিনি বলেন, কোনো ধরনের ভোগান্তি ছাড়াই অনলাইনে শিক্ষকদের পাওনা অর্থ ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও অবসরকালীন সুবিধার অর্থ পেতে শিক্ষকদের যেন কোনো ধরনের হয়রানির শিকার হতে না হয়, সে ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।

অবসরকালীন সুবিধার অর্থ বিতরণের বর্তমান ব্যবস্থা চালু করা সহজ ছিল না উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, আগের সরকার ব্যাংক-বীমাসহ বিভিন্ন খাতের মতো শিক্ষকদের কল্যাণ ও অবসর সুবিধার তহবিলেও অনিয়ম ও লুটপাট করেছে। জাল ইনডেক্স তৈরি, দুর্বল ব্যাংকে তহবিলের অর্থ স্থানান্তর এবং প্রযুক্তিগত অবকাঠামো ধ্বংসের কারণে দুটি তহবিলই সংকটে পড়ে। ফলে ২০২২ সাল থেকে শিক্ষকরা তাদের প্রাপ্য অর্থ পাচ্ছিলেন না বলে দাবি করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর পর্যাপ্ত অর্থ না থাকা সত্ত্বেও শিক্ষকদের দুরবস্থার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বিশেষ ব্যবস্থায় তাদের পাওনা পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ সময় মরহুমা বেগম খালেদা জিয়াকে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করে তারেক রহমান বলেন, ১৯৯১ সালে ‘বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট’ এবং ২০০২ সালে ‘অবসর সুবিধা বোর্ড’ প্রতিষ্ঠায় তার দূরদর্শী ভূমিকা ছিল। শুরুতে ১৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়ে পর্যায়ক্রমে ৮৯ কোটি টাকার ফান্ড গঠন করে তিনি এই ব্যবস্থার ভিত্তি তৈরি করেছিলেন বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

শিক্ষকদের ভূমিকার গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষকতা এমন একটি পেশা, যা অন্য সব পেশার মানুষ তৈরিতে ভূমিকা রাখে। প্রচলিত নিয়মে অবসরে গেলেও একজন শিক্ষকের সামাজিক দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। সমাজ ও রাষ্ট্রের ধর্মীয়, সামাজিক এবং পারিবারিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় তাদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত শিক্ষকরা সমাজে আলোকবর্তিকা হিসেবে নিজেদের ভূমিকা পালন করে যাবেন।

অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন এবং শিক্ষা সচিব আব্দুল খালেকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।