ঢাকা ১০:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
আগস্টেও বাড়ছে না জ্বালানি তেলের দাম, অপরিবর্তিত থাকছে সব ধরনের জ্বালানির মূল্য প্রথমবার লটারিতে গণপূর্তের ৭৬৭ উপ-সহকারী প্রকৌশলীর বদলি, নতুন নজির সরকারের মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খুলল, আগস্টের শেষ সপ্তাহ থেকেই যেতে পারবেন বাংলাদেশি কর্মীরা হজযাত্রীদের জন্য বড় সুখবর, বিমান টিকিটে আরও ২৫ হাজার টাকা কমানোর ঘোষণা ধামা ইলিয়াছের তথ্যে গ্রেফতার ডেভিড ইমন, উদ্ধার বিদেশি পিস্তলসহ অস্ত্রের মজুদ ৪ আগস্ট বিএনপির আলোচনা সভা, প্রধান অতিথি থাকবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একীভূত ৫ ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের জন্য সুখবর, ১০ লাখ টাকা উত্তোলনের সুযোগ আরও সহজ বাংলাদেশের ৩ লাখ ও মালয়েশিয়ার ৫ হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরত নিতে রাজি মিয়ানমার ১০০ মিলিয়ন ইউরোর প্রস্তাব ফিরিয়েছিলেন লেভানডফস্কি, কারণ জানালেন তার এজেন্ট আমি আইনের ওপর বিশ্বাসী, সত্য একদিন প্রকাশ হবেই’— বিয়ে ও মামলা নিয়ে মুখ খুললেন পরীমনি

একীভূত ৫ ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের জন্য সুখবর, ১০ লাখ টাকা উত্তোলনের সুযোগ আরও সহজ

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৬:০৯:১৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
  • / 4

একীভূত হওয়া পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকের আমানতকারীদের জন্য অর্থ উত্তোলনের নিয়ম আরও সহজ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে শুধু নিজের চিকিৎসা নয়, পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসা এবং অন্যান্য জরুরি প্রয়োজনেও সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত উত্তোলন করা যাবে।

বুধবার (২৯ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় এ-সংক্রান্ত নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান।

নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, আগে বিশেষ স্কিমের আওতায় কেবল নিজের চিকিৎসার জন্য অর্থ উত্তোলনের সুযোগ ছিল। তবে সংশোধিত নিয়মে বাবা-মা, সন্তান, ভাই-বোন এবং স্বামী বা স্ত্রীর চিকিৎসার পাশাপাশি পারিবারিক অন্যান্য জরুরি প্রয়োজনেও অর্থ তোলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, আমানতকারীদের অর্থ ফেরতের জন্য চালু থাকা বিশেষ স্কিমে পরিবর্তন এনে পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর ফলে গ্রাহকদের জরুরি আর্থিক প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে অর্থ উত্তোলনের শর্ত আরও নমনীয় করা হয়েছে।

পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে উপস্থিত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানান, অনেক সময় চিকিৎসা ছাড়াও পরিবারের নানা জরুরি কাজে অর্থের প্রয়োজন হয়। যেমন—মেয়ের বিয়ে, পরিবারের সদস্যের আকস্মিক চিকিৎসা কিংবা অন্য কোনো জরুরি পরিস্থিতি। এসব বাস্তবতা বিবেচনায় রেখেই নতুন সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে।

যেসব পাঁচটি ব্যাংক একীভূত করে নতুন প্রতিষ্ঠান গঠন করা হয়েছে, সেগুলো হলো—ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক এবং এক্সিম ব্যাংক।

গত বছর এসব ব্যাংককে একীভূত করে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ গঠন করে অন্তর্বর্তী সরকার। নতুন ব্যাংকটির পরিশোধিত মূলধন নির্ধারণ করা হয় ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকার ২০ হাজার কোটি টাকা মূলধন দিয়েছে এবং অবশিষ্ট ১৫ হাজার কোটি টাকার বিপরীতে সাধারণ আমানতকারীদের শেয়ার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এদিকে আমানত বীমা তহবিল থেকে ১২ হাজার কোটি টাকার সহায়তায় ২ লাখ টাকা পর্যন্ত আমানত ফেরত দেওয়ার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পাশাপাশি অবশিষ্ট অর্থ ধাপে ধাপে ফেরত দিতে বাংলাদেশ ব্যাংক বিশেষ স্কিম বাস্তবায়ন করছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ৮ লাখ ২২ হাজার আমানতকারীকে মোট ৩ হাজার ৮৮৭ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। এর মধ্যে শুধু ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের ৩ লাখ ৫০ হাজার গ্রাহক প্রায় ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা পেয়েছেন।

উল্লেখ্য, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে এক্সিম ব্যাংক সাবেক বিএবি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদারের নিয়ন্ত্রণে ছিল। অন্যদিকে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক ও গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক পরিচালনা করত এস আলম গ্রুপ। ওই সময়ে ব্যাপক অনিয়ম ও জামানতবিহীন ঋণ বিতরণের অভিযোগে ব্যাংকগুলো তীব্র তারল্য সংকটে পড়ে এবং গ্রাহকদের আমানত ফেরত দিতে ব্যর্থ হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ডিসেম্বর পর্যন্ত এই পাঁচ ব্যাংকের মোট ঋণের পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। এর বিপরীতে জামানতের মূল্য ছিল মাত্র ৪৭ হাজার ৯০০ কোটি টাকা। বর্তমানে ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭০ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, যা মোট বিতরণ করা ঋণের প্রায় ৮৭ দশমিক ৪৩ শতাংশ।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

একীভূত ৫ ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের জন্য সুখবর, ১০ লাখ টাকা উত্তোলনের সুযোগ আরও সহজ

আপডেট সময় : ০৬:০৯:১৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

একীভূত হওয়া পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকের আমানতকারীদের জন্য অর্থ উত্তোলনের নিয়ম আরও সহজ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে শুধু নিজের চিকিৎসা নয়, পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসা এবং অন্যান্য জরুরি প্রয়োজনেও সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত উত্তোলন করা যাবে।

বুধবার (২৯ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় এ-সংক্রান্ত নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান।

নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, আগে বিশেষ স্কিমের আওতায় কেবল নিজের চিকিৎসার জন্য অর্থ উত্তোলনের সুযোগ ছিল। তবে সংশোধিত নিয়মে বাবা-মা, সন্তান, ভাই-বোন এবং স্বামী বা স্ত্রীর চিকিৎসার পাশাপাশি পারিবারিক অন্যান্য জরুরি প্রয়োজনেও অর্থ তোলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, আমানতকারীদের অর্থ ফেরতের জন্য চালু থাকা বিশেষ স্কিমে পরিবর্তন এনে পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর ফলে গ্রাহকদের জরুরি আর্থিক প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে অর্থ উত্তোলনের শর্ত আরও নমনীয় করা হয়েছে।

পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে উপস্থিত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানান, অনেক সময় চিকিৎসা ছাড়াও পরিবারের নানা জরুরি কাজে অর্থের প্রয়োজন হয়। যেমন—মেয়ের বিয়ে, পরিবারের সদস্যের আকস্মিক চিকিৎসা কিংবা অন্য কোনো জরুরি পরিস্থিতি। এসব বাস্তবতা বিবেচনায় রেখেই নতুন সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে।

যেসব পাঁচটি ব্যাংক একীভূত করে নতুন প্রতিষ্ঠান গঠন করা হয়েছে, সেগুলো হলো—ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক এবং এক্সিম ব্যাংক।

গত বছর এসব ব্যাংককে একীভূত করে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ গঠন করে অন্তর্বর্তী সরকার। নতুন ব্যাংকটির পরিশোধিত মূলধন নির্ধারণ করা হয় ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকার ২০ হাজার কোটি টাকা মূলধন দিয়েছে এবং অবশিষ্ট ১৫ হাজার কোটি টাকার বিপরীতে সাধারণ আমানতকারীদের শেয়ার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এদিকে আমানত বীমা তহবিল থেকে ১২ হাজার কোটি টাকার সহায়তায় ২ লাখ টাকা পর্যন্ত আমানত ফেরত দেওয়ার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পাশাপাশি অবশিষ্ট অর্থ ধাপে ধাপে ফেরত দিতে বাংলাদেশ ব্যাংক বিশেষ স্কিম বাস্তবায়ন করছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ৮ লাখ ২২ হাজার আমানতকারীকে মোট ৩ হাজার ৮৮৭ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। এর মধ্যে শুধু ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের ৩ লাখ ৫০ হাজার গ্রাহক প্রায় ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা পেয়েছেন।

উল্লেখ্য, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে এক্সিম ব্যাংক সাবেক বিএবি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদারের নিয়ন্ত্রণে ছিল। অন্যদিকে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক ও গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক পরিচালনা করত এস আলম গ্রুপ। ওই সময়ে ব্যাপক অনিয়ম ও জামানতবিহীন ঋণ বিতরণের অভিযোগে ব্যাংকগুলো তীব্র তারল্য সংকটে পড়ে এবং গ্রাহকদের আমানত ফেরত দিতে ব্যর্থ হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ডিসেম্বর পর্যন্ত এই পাঁচ ব্যাংকের মোট ঋণের পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। এর বিপরীতে জামানতের মূল্য ছিল মাত্র ৪৭ হাজার ৯০০ কোটি টাকা। বর্তমানে ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭০ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, যা মোট বিতরণ করা ঋণের প্রায় ৮৭ দশমিক ৪৩ শতাংশ।