ঢাকা ০৮:৩৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
যুক্তরাষ্ট্রের ভিজিটর ভিসা নিয়ে বাংলাদেশিদের সতর্ক করল মার্কিন দূতাবাস ঢাকার মেট্রোরেল লাইন-১-এর বড় দুই প্যাকেজ পেল ভারতের এলঅ্যান্ডটি, ব্যয় ৫ হাজার কোটি রুপির বেশি দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে গ্রিড বিপর্যয়: কারণ অনুসন্ধানে বিদ্যুৎ বিভাগের ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি জাপানে নিটসু লজিস্টিকস হাব পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকা-চট্টগ্রামে গ্রিড বিপর্যয়, অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের তারিখ পরিবর্তন, নতুন সময়সূচি ৩১ অক্টোবর নতুন পে স্কেলে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন নিয়ে সিদ্ধান্ত অর্থ মন্ত্রণালয়ের হাতে দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শন ও জনসভায় যোগ দিতে রাজশাহীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ৯ মাসে ৫১৮ সাংবাদিক নির্যাতনের শিকার, মব সহিংসতায় নিহত ১৮৭: এইচআরএসএস জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধনে যাননি কেন, প্রধানমন্ত্রীর ক্ষোভের জবাব দিলেন গোলাম পরওয়ার

৪৫ বছর পর গ্রেপ্তার জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার পলাতক মেজর মোজাফফর

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৬:৩৬:১২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬
  • / 31

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার অন্যতম অভিযুক্ত এবং দীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে পলাতক থাকা অবসরপ্রাপ্ত মেজর মোজাফফর হোসেনকে আটক করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। বুধবার দিবাগত মধ্যরাতে রাজধানীর বনানী ডিওএইচএস এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। পরে তাকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে একদল বিদ্রোহী সেনা কর্মকর্তার হামলায় তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হন। তদন্তসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন তথ্য অনুযায়ী, ওই হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশগ্রহণকারী সেনা কর্মকর্তাদের মধ্যে মেজর মোজাফফর হোসেন ও ক্যাপ্টেন মোসলেহ উদ্দিন অন্যতম ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, মেজর মোজাফফর হোসেনই প্রথম জিয়াউর রহমানকে শনাক্ত করে গুলি চালান এবং হত্যাকাণ্ড নিশ্চিত হওয়ার পর তৎকালীন ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুরকে টেলিফোনে ‘The President has been killed’ বলে জানান।

হত্যাকাণ্ডের পর সেনাবাহিনীর অভিযানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুরসহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে মঞ্জুর নিহত হন। ক্যাপ্টেন মোসলেহ উদ্দিন গ্রেপ্তার হয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হলেও মেজর মোজাফফর হোসেন ও মেজর এস এম খালেদ পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দীর্ঘ সময় মেজর মোজাফফর হোসেন ভারতে আত্মগোপনে ছিলেন। ১৯৯৭-৯৮ সাল পর্যন্ত সেখানে অবস্থানের পর তিনি ছদ্মনাম ব্যবহার করে সীমান্ত পেরিয়ে বিভিন্ন স্থানে গোপনে চলাচল করতেন।

অবশেষে প্রায় ৪৫ বছর পর গোয়েন্দা পুলিশের অভিযানে তাকে আটক করা সম্ভব হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, তার গ্রেপ্তারের মাধ্যমে দেশের অন্যতম আলোচিত রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের বিচারপ্রক্রিয়ায় নতুন অগ্রগতি সৃষ্টি হয়েছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

৪৫ বছর পর গ্রেপ্তার জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার পলাতক মেজর মোজাফফর

আপডেট সময় : ০৬:৩৬:১২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার অন্যতম অভিযুক্ত এবং দীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে পলাতক থাকা অবসরপ্রাপ্ত মেজর মোজাফফর হোসেনকে আটক করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। বুধবার দিবাগত মধ্যরাতে রাজধানীর বনানী ডিওএইচএস এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। পরে তাকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে একদল বিদ্রোহী সেনা কর্মকর্তার হামলায় তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হন। তদন্তসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন তথ্য অনুযায়ী, ওই হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশগ্রহণকারী সেনা কর্মকর্তাদের মধ্যে মেজর মোজাফফর হোসেন ও ক্যাপ্টেন মোসলেহ উদ্দিন অন্যতম ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, মেজর মোজাফফর হোসেনই প্রথম জিয়াউর রহমানকে শনাক্ত করে গুলি চালান এবং হত্যাকাণ্ড নিশ্চিত হওয়ার পর তৎকালীন ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুরকে টেলিফোনে ‘The President has been killed’ বলে জানান।

হত্যাকাণ্ডের পর সেনাবাহিনীর অভিযানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুরসহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে মঞ্জুর নিহত হন। ক্যাপ্টেন মোসলেহ উদ্দিন গ্রেপ্তার হয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হলেও মেজর মোজাফফর হোসেন ও মেজর এস এম খালেদ পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দীর্ঘ সময় মেজর মোজাফফর হোসেন ভারতে আত্মগোপনে ছিলেন। ১৯৯৭-৯৮ সাল পর্যন্ত সেখানে অবস্থানের পর তিনি ছদ্মনাম ব্যবহার করে সীমান্ত পেরিয়ে বিভিন্ন স্থানে গোপনে চলাচল করতেন।

অবশেষে প্রায় ৪৫ বছর পর গোয়েন্দা পুলিশের অভিযানে তাকে আটক করা সম্ভব হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, তার গ্রেপ্তারের মাধ্যমে দেশের অন্যতম আলোচিত রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের বিচারপ্রক্রিয়ায় নতুন অগ্রগতি সৃষ্টি হয়েছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।