মানব পাচার রোধে নতুন আইন কার্যকর হবে, প্রযুক্তির অপব্যবহারও ঠেকানো যাবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- আপডেট সময় : ০৫:৩৭:৩১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬
- / 35

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের ডিজিটাল প্রযুক্তির অপব্যবহার ঠেকাতে এবং এসব অপরাধ দমনে নতুন ‘মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। অপরাধীদের পরিবর্তনশীল কৌশলের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশের আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতাও আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী উন্নত করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
বুধবার (১৫ জুলাই) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত ‘মানব পাচার এবং অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬’ বিষয়ক জাতীয় অবহিতকরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধে আধুনিক আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো শক্তিশালী করার লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার বাংলাদেশ যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম, বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক, মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন, পুলিশের মহাপরিদর্শক মো. আলী হোসেন ফকির, কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. জিয়াউল হক, বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ।
বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শক্তিশালী আইন, কার্যকর প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় এবং ভুক্তভোগীকেন্দ্রিক বিচারব্যবস্থার মাধ্যমে মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান দমনে সরকারের অঙ্গীকার আরও দৃঢ় হয়েছে। সদ্য প্রণীত আইনটি আন্তঃদেশীয় এই অপরাধ মোকাবিলায় বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, নতুন আইনে মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালানকে পৃথক অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। পাশাপাশি এসব অপরাধের তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী করা, ভুক্তভোগী ও সাক্ষীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী বিদেশি সংস্থার সঙ্গে সহযোগিতার সুযোগ সম্প্রসারণ করা হয়েছে।
আইনটির কার্যকর বাস্তবায়নের জন্য সরকারি প্রতিষ্ঠান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বিচার বিভাগ, উন্নয়ন সহযোগী এবং নাগরিক সমাজের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে নতুন আইনের প্রেক্ষাপট, প্রয়োজনীয়তা ও প্রধান বিধান তুলে ধরেন জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম। পরে আইন বাস্তবায়নের অগ্রাধিকার এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সমন্বয় নিয়ে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে তদন্ত থেকে বিচার পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
জাতীয় পর্যায়ের এই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ পুলিশ, বিজিবি, কোস্ট গার্ড, সিআইডি, স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি), এনএসআই, বিচার বিভাগ, প্রসিকিউশন, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, কূটনৈতিক মিশন, জাতিসংঘের সংস্থা, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী এবং দেশি-বিদেশি বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।





















