ঢাকা ০৬:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো জামিনের দিনই আদালত প্রাঙ্গণে বিতর্কে পরীমনি, সাংবাদিকদের সঙ্গে অপ্রীতিকর ঘটনায় সমালোচনা স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসে চাকরির সুযোগ, অভিজ্ঞতা ছাড়াই আবেদন করতে পারবেন ৩২ বছর বয়সীরা বাগেরহাটে হযরত খানজাহান আলীর (রহ.) মাজার জিয়ারত করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসকদের ড্রেসআপ নেই, ডাক্তার নাকি দালাল বোঝা মুশকিল: দুদক চেয়ারম্যান সংসদ অধিবেশন ঘিরে ৮ নভেম্বর রাত থেকে সংসদ ভবন এলাকায় সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ ডিসেম্বরের মধ্যেই পোশাকশ্রমিকদের নতুন ন্যূনতম মজুরি ঘোষণার আশ্বাস সরকারের হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশি জাহাজের নিরাপদ পারাপারে সহযোগিতার আশ্বাস ইরানের সাংবাদিকদের গ্রেফতারে আদালতের পূর্বানুমতির বিধান রাখার আলোচনা, সংশোধন হচ্ছে সাইবার সুরক্ষা আইন দ্বিতীয় পদ্মা-যমুনা সেতু ও পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

খাগড়াছড়িতে কমছে বন্যার পানি, দুর্ভোগে হাজারো মানুষ; বিচ্ছিন্ন দীঘিনালা-লংগদু সড়ক

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৬:২০:০৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬
  • / 130

টানা কয়েকদিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের পর খাগড়াছড়িতে বন্যার পানি কিছুটা কমতে শুরু করেছে। তবে পরিস্থিতির সামান্য উন্নতি হলেও বন্যাকবলিত মানুষের দুর্ভোগ এখনো কাটেনি। দীঘিনালা উপজেলার মেরুং ও কবাখালী ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা এখনো পানির নিচে রয়েছে। একই সঙ্গে টানা তৃতীয় দিনের মতো বন্ধ রয়েছে দীঘিনালা-লংগদু সড়কে যান চলাচল।

বন্যার কারণে হাজারো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। অনেক পরিবার এখনো আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছে। পাশাপাশি বিস্তীর্ণ কৃষিজমি পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, শুক্রবার সকাল থেকে কয়েক দফা হালকা বৃষ্টি হলেও ধীরে ধীরে পানি নামতে শুরু করেছে। তবে অধিকাংশ বসতবাড়ি, দোকানপাট ও গ্রামীণ সড়ক এখনো জলমগ্ন থাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।

মেরুং বাজারের ব্যবসায়ী হারুণ অর রশিদ জানান, বাজারের কয়েকটি উঁচু দোকান ছাড়া প্রায় সব দোকানেই পানি ঢুকেছে। আশপাশের গ্রামের অধিকাংশ বাড়িঘর এখনো পানির নিচে রয়েছে। দীর্ঘদিন পানিবন্দি থাকায় মানুষ চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

বন্যার পানিতে আমন ধানসহ বিভিন্ন ধরনের ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া কয়েকদিন ধরে ঘরবন্দি মানুষ নিরাপদ খাবার, বিশুদ্ধ পানি এবং প্রয়োজনীয় নিত্যপণ্যের সংকটে ভুগছেন।

এদিকে সাজেক সড়কের কয়েকটি স্থানে এখনো পানি জমে থাকলেও সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় পর্যটকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে প্রায় দেড় শতাধিক পর্যটককে খাগড়াছড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়। শুক্রবার সকালেও সেনাবাহিনীর স্কর্টে সাজেক থেকে ৩১১ জন পর্যটক খাগড়াছড়ির উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।

সাজেক কটেজ অ্যান্ড রিসোর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের দপ্তর সম্পাদক জিয়াউল হক যুবরাজ জানান, যেসব স্থানে সড়ক এখনো পানির নিচে রয়েছে সেখানে বাঁশের ভেলা ও নৌকার মাধ্যমে পর্যটকদের পারাপারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে নতুন কোনো পর্যটককে সাজেকে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না।

দীঘিনালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিল পারভেজ বলেন, নতুন করে কোনো এলাকা প্লাবিত হয়নি এবং আগের দিনের তুলনায় পানি কিছুটা কমেছে। তবে দীঘিনালা-লংগদু সড়ক যোগাযোগ এখনো বিচ্ছিন্ন রয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় ত্রাণ ও সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

অন্যদিকে খাগড়াছড়ি সদর ও মহালছড়ি উপজেলার নিচু এলাকার বন্যা পরিস্থিতিও ধীরে ধীরে উন্নতি হচ্ছে। তবে বৃহস্পতিবার রাতে খাগড়াছড়ি পৌরসভার সবুজবাগ ও শালবাগান এলাকায় কয়েকটি ছোট আকারের পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে কোনো হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে ২২টি পরিবারের সদস্যকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছে প্রশাসন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

খাগড়াছড়িতে কমছে বন্যার পানি, দুর্ভোগে হাজারো মানুষ; বিচ্ছিন্ন দীঘিনালা-লংগদু সড়ক

আপডেট সময় : ০৬:২০:০৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

টানা কয়েকদিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের পর খাগড়াছড়িতে বন্যার পানি কিছুটা কমতে শুরু করেছে। তবে পরিস্থিতির সামান্য উন্নতি হলেও বন্যাকবলিত মানুষের দুর্ভোগ এখনো কাটেনি। দীঘিনালা উপজেলার মেরুং ও কবাখালী ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা এখনো পানির নিচে রয়েছে। একই সঙ্গে টানা তৃতীয় দিনের মতো বন্ধ রয়েছে দীঘিনালা-লংগদু সড়কে যান চলাচল।

বন্যার কারণে হাজারো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। অনেক পরিবার এখনো আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছে। পাশাপাশি বিস্তীর্ণ কৃষিজমি পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, শুক্রবার সকাল থেকে কয়েক দফা হালকা বৃষ্টি হলেও ধীরে ধীরে পানি নামতে শুরু করেছে। তবে অধিকাংশ বসতবাড়ি, দোকানপাট ও গ্রামীণ সড়ক এখনো জলমগ্ন থাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।

মেরুং বাজারের ব্যবসায়ী হারুণ অর রশিদ জানান, বাজারের কয়েকটি উঁচু দোকান ছাড়া প্রায় সব দোকানেই পানি ঢুকেছে। আশপাশের গ্রামের অধিকাংশ বাড়িঘর এখনো পানির নিচে রয়েছে। দীর্ঘদিন পানিবন্দি থাকায় মানুষ চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

বন্যার পানিতে আমন ধানসহ বিভিন্ন ধরনের ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া কয়েকদিন ধরে ঘরবন্দি মানুষ নিরাপদ খাবার, বিশুদ্ধ পানি এবং প্রয়োজনীয় নিত্যপণ্যের সংকটে ভুগছেন।

এদিকে সাজেক সড়কের কয়েকটি স্থানে এখনো পানি জমে থাকলেও সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় পর্যটকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে প্রায় দেড় শতাধিক পর্যটককে খাগড়াছড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়। শুক্রবার সকালেও সেনাবাহিনীর স্কর্টে সাজেক থেকে ৩১১ জন পর্যটক খাগড়াছড়ির উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।

সাজেক কটেজ অ্যান্ড রিসোর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের দপ্তর সম্পাদক জিয়াউল হক যুবরাজ জানান, যেসব স্থানে সড়ক এখনো পানির নিচে রয়েছে সেখানে বাঁশের ভেলা ও নৌকার মাধ্যমে পর্যটকদের পারাপারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে নতুন কোনো পর্যটককে সাজেকে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না।

দীঘিনালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিল পারভেজ বলেন, নতুন করে কোনো এলাকা প্লাবিত হয়নি এবং আগের দিনের তুলনায় পানি কিছুটা কমেছে। তবে দীঘিনালা-লংগদু সড়ক যোগাযোগ এখনো বিচ্ছিন্ন রয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় ত্রাণ ও সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

অন্যদিকে খাগড়াছড়ি সদর ও মহালছড়ি উপজেলার নিচু এলাকার বন্যা পরিস্থিতিও ধীরে ধীরে উন্নতি হচ্ছে। তবে বৃহস্পতিবার রাতে খাগড়াছড়ি পৌরসভার সবুজবাগ ও শালবাগান এলাকায় কয়েকটি ছোট আকারের পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে কোনো হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে ২২টি পরিবারের সদস্যকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছে প্রশাসন।