জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হচ্ছেন মানবাধিকারকর্মী আইরিন খান
- আপডেট সময় : ০৪:৪৩:৫৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬
- / 18

আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মানবাধিকারকর্মী আইরিন খানকে নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ বিষয়ে পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়ামের স্বাক্ষরিত একটি আধা-সরকারি পত্র (ডিও লেটার) থেকে বিষয়টি জানা গেছে।
ডিও লেটার অনুযায়ী, আইরিন খানকে সিনিয়র সচিবের পদমর্যাদা ও বেতন-ভাতায় দুই বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এ নিয়োগের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সম্মতি পাওয়া গেছে। বর্তমানে আইরিন খান জাতিসংঘের মতামত ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার অধিকার উন্নয়ন ও সুরক্ষাবিষয়ক বিশেষ প্রতিবেদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডিও লেটারে উল্লেখ করা হয়েছে, আন্তর্জাতিক পরিসরে মানবাধিকার, সুশাসন এবং আন্তর্জাতিক আইন বিষয়ে আইরিন খানের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও বিশেষজ্ঞ জ্ঞান বহুপাক্ষিক কূটনৈতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে সহায়ক হবে।
এতে আরও বলা হয়েছে, বৈশ্বিক বিভিন্ন ইস্যুতে বাংলাদেশের অবস্থান কার্যকরভাবে তুলে ধরা এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের কূটনৈতিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন বলে সরকারের প্রত্যাশা। এ নিয়োগ-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পন্ন করতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতাও চাওয়া হয়েছে।
আইরিন খান যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড ল’ স্কুলে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেছেন। বর্তমানে তিনি জেনেভার গ্র্যাজুয়েট ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজে শিক্ষকতা করছেন।
তিনি ২০০১ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সংস্থাটির ইতিহাসে তিনিই প্রথম নারী, প্রথম এশীয় এবং প্রথম মুসলিম মহাসচিব। তার নেতৃত্বে নারী ও কন্যাশিশুর বিরুদ্ধে সহিংসতা প্রতিরোধে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বৈশ্বিক প্রচারণা শুরু করে।
পরবর্তীতে ২০১২ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত তিনি ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ল অর্গানাইজেশনের (আইডিএলও) মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মানবাধিকার রক্ষায় অসামান্য অবদানের জন্য তিনি ২০০৬ সালে মর্যাদাপূর্ণ সিডনি পিস প্রাইজসহ একাধিক আন্তর্জাতিক সম্মাননায় ভূষিত হন।


























