ঢাকা ০৩:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
শ্যোন অ্যারেস্টে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত, চার সপ্তাহে রুল নিষ্পত্তির নির্দেশ আপিল বিভাগের গ্যাস সংকটে রাজধানীতে সিএনজি স্টেশনে দীর্ঘ লাইন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষায় চালকরা মিরপুরে দেওয়ালধসে আহতদের দেখতে হাসপাতালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, চিকিৎসার সব ব্যয় বহনের আশ্বাস অ্যাপভিত্তিক সিএনজি সেবা বন্ধের উদ্যোগে উদ্বেগ, নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থানে নেতিবাচক প্রভাবের আশঙ্কা টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক: ২৬ পণ্যে ‘ক্ষতিকর’ উপাদান, তদন্ত চেয়ে হাইকোর্টে রিট ১০ আগস্ট প্রকাশ হচ্ছে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল পার্বতীপুর ও ফুলবাড়ী উপজেলা বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করতে একমত বাংলাদেশ ও মালদ্বীপ কৃষিভিত্তিক উদ্যোক্তা হতে নবীন শিক্ষার্থীদের প্রতি মন্ত্রীর আহ্বান গুলশানের বাসায় ফিরছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন, চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি

বিশ্বকাপের উচ্ছ্বাসের মাঝেই বিতর্কে ট্রাম্প প্রশাসন, যুক্তরাষ্ট্রের ভাবমূর্তি নিয়ে নতুন প্রশ্ন

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৪:১৫:৩৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬
  • / 20

ফিফা বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ফুটবলপ্রেমীদের মিলনমেলায় উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হলেও, এর আড়ালে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের কয়েকটি সিদ্ধান্ত নতুন করে আন্তর্জাতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মাঠের খেলার পাশাপাশি আয়োজক দেশের নীতিগত পদক্ষেপও বিশ্বব্যাপী আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।

বিশ্বকাপ চলাকালে বিভিন্ন দেশের সমর্থকদের অংশগ্রহণ, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছে। স্কটল্যান্ডের সমর্থকদের প্রাণবন্ত উদযাপন, জাপানি দর্শকদের স্টেডিয়াম পরিষ্কার করার অভ্যাস এবং ইউরোপীয় পর্যটকদের অভিজ্ঞতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসা পেয়েছে। তবে একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কয়েকটি পদক্ষেপ সমালোচনার মুখে পড়ে।

সবচেয়ে বেশি আলোচিত ঘটনাগুলোর মধ্যে রয়েছে সোমালিয়ার এক রেফারিকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি না দেওয়া এবং ইরানের ফুটবলারদের ম্যাচ শেষে দ্রুত দেশ ছাড়ার নির্দেশনা। এছাড়া একটি লাল কার্ড বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েও বিতর্ক সৃষ্টি হয়। সমালোচকদের অভিযোগ, ওই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রের এক খেলোয়াড় সুবিধা পেয়েছেন, যা টুর্নামেন্টের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এসব ঘটনার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ জনগণ এবং সরকারের অবস্থানের মধ্যে পার্থক্য আরও স্পষ্ট হয়েছে। একদিকে আমেরিকার জনগণের আতিথেয়তা ও বহুসাংস্কৃতিক সমাজের ইতিবাচক চিত্র ফুটে উঠলেও, অন্যদিকে সরকারি নীতির কারণে আন্তর্জাতিক পরিসরে দেশটির ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

কানাডাসহ বিভিন্ন দেশের পর্যবেক্ষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আন্তর্জাতিক আস্থায় পরিবর্তন এসেছে। বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি ও পর্যটনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনেক দেশ বিকল্প কৌশল খুঁজছে। তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের প্রতি নেতিবাচক মনোভাব নয়; বরং সরকারের নীতির প্রতি অনাস্থার প্রতিফলন।

সাম্প্রতিক জনমত জরিপের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের মধ্যেও রাজনৈতিক ব্যবস্থা নিয়ে আস্থা কমছে। বিশেষ করে তরুণদের বড় একটি অংশ মনে করছেন, আগের মতো ‘আমেরিকান ড্রিম’ আর বাস্তবসম্মত নয়। একই সঙ্গে জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি মানুষের বিশ্বাসও কমে আসছে, যা রাজনৈতিক বিভাজনকে আরও প্রকট করছে।

বিশ্লেষকদের ভাষ্য, নির্বাহী ক্ষমতার বিস্তার, নির্বাচনব্যবস্থা নিয়ে বিতর্ক এবং রাজনৈতিক মেরুকরণ যুক্তরাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক কাঠামোর জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। ফলে আন্তর্জাতিক মহলে এখন অনেক দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সরকার এবং দেশটির জনগণকে আলাদাভাবে মূল্যায়ন করছে।

প্রযুক্তি ও অর্থনীতির ক্ষেত্রেও একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। ইউরোপ ও কানাডার নীতিনির্ধারকদের একাংশ মনে করছেন, মার্কিন আইন ও সরকারি নীতির আওতায় পরিচালিত প্রযুক্তি ও আর্থিক ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা ভবিষ্যতে কৌশলগত ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই বিকল্প ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগও জোরদার হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান বাস্তবতায় বিশ্বের অনেক মানুষের কাছে যুক্তরাষ্ট্র আর একক পরিচয়ের রাষ্ট্র নয়। বরং একদিকে রয়েছে বহুত্ববাদে বিশ্বাসী সাধারণ জনগণ, অন্যদিকে বিতর্কিত সরকারি নীতি। ফিফা বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক আয়োজনেও সেই দ্বৈত চিত্র স্পষ্টভাবে সামনে এসেছে।

তাদের মতে, মাঠে যুক্তরাষ্ট্রের পারফরম্যান্স যতই প্রশংসিত হোক না কেন, ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন নীতিগত সিদ্ধান্ত দেশটির আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তির ওপর নতুন প্রশ্ন তুলেছে। ফলে ফুটবলের পাশাপাশি কূটনীতি ও বৈশ্বিক নেতৃত্বের ক্ষেত্রেও যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন করে আন্তর্জাতিক আস্থা অর্জনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হতে পারে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

বিশ্বকাপের উচ্ছ্বাসের মাঝেই বিতর্কে ট্রাম্প প্রশাসন, যুক্তরাষ্ট্রের ভাবমূর্তি নিয়ে নতুন প্রশ্ন

আপডেট সময় : ০৪:১৫:৩৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬

ফিফা বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ফুটবলপ্রেমীদের মিলনমেলায় উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হলেও, এর আড়ালে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের কয়েকটি সিদ্ধান্ত নতুন করে আন্তর্জাতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মাঠের খেলার পাশাপাশি আয়োজক দেশের নীতিগত পদক্ষেপও বিশ্বব্যাপী আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।

বিশ্বকাপ চলাকালে বিভিন্ন দেশের সমর্থকদের অংশগ্রহণ, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছে। স্কটল্যান্ডের সমর্থকদের প্রাণবন্ত উদযাপন, জাপানি দর্শকদের স্টেডিয়াম পরিষ্কার করার অভ্যাস এবং ইউরোপীয় পর্যটকদের অভিজ্ঞতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসা পেয়েছে। তবে একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কয়েকটি পদক্ষেপ সমালোচনার মুখে পড়ে।

সবচেয়ে বেশি আলোচিত ঘটনাগুলোর মধ্যে রয়েছে সোমালিয়ার এক রেফারিকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি না দেওয়া এবং ইরানের ফুটবলারদের ম্যাচ শেষে দ্রুত দেশ ছাড়ার নির্দেশনা। এছাড়া একটি লাল কার্ড বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েও বিতর্ক সৃষ্টি হয়। সমালোচকদের অভিযোগ, ওই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রের এক খেলোয়াড় সুবিধা পেয়েছেন, যা টুর্নামেন্টের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এসব ঘটনার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ জনগণ এবং সরকারের অবস্থানের মধ্যে পার্থক্য আরও স্পষ্ট হয়েছে। একদিকে আমেরিকার জনগণের আতিথেয়তা ও বহুসাংস্কৃতিক সমাজের ইতিবাচক চিত্র ফুটে উঠলেও, অন্যদিকে সরকারি নীতির কারণে আন্তর্জাতিক পরিসরে দেশটির ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

কানাডাসহ বিভিন্ন দেশের পর্যবেক্ষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আন্তর্জাতিক আস্থায় পরিবর্তন এসেছে। বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি ও পর্যটনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনেক দেশ বিকল্প কৌশল খুঁজছে। তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের প্রতি নেতিবাচক মনোভাব নয়; বরং সরকারের নীতির প্রতি অনাস্থার প্রতিফলন।

সাম্প্রতিক জনমত জরিপের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের মধ্যেও রাজনৈতিক ব্যবস্থা নিয়ে আস্থা কমছে। বিশেষ করে তরুণদের বড় একটি অংশ মনে করছেন, আগের মতো ‘আমেরিকান ড্রিম’ আর বাস্তবসম্মত নয়। একই সঙ্গে জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি মানুষের বিশ্বাসও কমে আসছে, যা রাজনৈতিক বিভাজনকে আরও প্রকট করছে।

বিশ্লেষকদের ভাষ্য, নির্বাহী ক্ষমতার বিস্তার, নির্বাচনব্যবস্থা নিয়ে বিতর্ক এবং রাজনৈতিক মেরুকরণ যুক্তরাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক কাঠামোর জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। ফলে আন্তর্জাতিক মহলে এখন অনেক দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সরকার এবং দেশটির জনগণকে আলাদাভাবে মূল্যায়ন করছে।

প্রযুক্তি ও অর্থনীতির ক্ষেত্রেও একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। ইউরোপ ও কানাডার নীতিনির্ধারকদের একাংশ মনে করছেন, মার্কিন আইন ও সরকারি নীতির আওতায় পরিচালিত প্রযুক্তি ও আর্থিক ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা ভবিষ্যতে কৌশলগত ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই বিকল্প ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগও জোরদার হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান বাস্তবতায় বিশ্বের অনেক মানুষের কাছে যুক্তরাষ্ট্র আর একক পরিচয়ের রাষ্ট্র নয়। বরং একদিকে রয়েছে বহুত্ববাদে বিশ্বাসী সাধারণ জনগণ, অন্যদিকে বিতর্কিত সরকারি নীতি। ফিফা বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক আয়োজনেও সেই দ্বৈত চিত্র স্পষ্টভাবে সামনে এসেছে।

তাদের মতে, মাঠে যুক্তরাষ্ট্রের পারফরম্যান্স যতই প্রশংসিত হোক না কেন, ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন নীতিগত সিদ্ধান্ত দেশটির আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তির ওপর নতুন প্রশ্ন তুলেছে। ফলে ফুটবলের পাশাপাশি কূটনীতি ও বৈশ্বিক নেতৃত্বের ক্ষেত্রেও যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন করে আন্তর্জাতিক আস্থা অর্জনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হতে পারে।