ঢাকা ০৩:১১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো জামিনের দিনই আদালত প্রাঙ্গণে বিতর্কে পরীমনি, সাংবাদিকদের সঙ্গে অপ্রীতিকর ঘটনায় সমালোচনা স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসে চাকরির সুযোগ, অভিজ্ঞতা ছাড়াই আবেদন করতে পারবেন ৩২ বছর বয়সীরা বাগেরহাটে হযরত খানজাহান আলীর (রহ.) মাজার জিয়ারত করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসকদের ড্রেসআপ নেই, ডাক্তার নাকি দালাল বোঝা মুশকিল: দুদক চেয়ারম্যান সংসদ অধিবেশন ঘিরে ৮ নভেম্বর রাত থেকে সংসদ ভবন এলাকায় সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ ডিসেম্বরের মধ্যেই পোশাকশ্রমিকদের নতুন ন্যূনতম মজুরি ঘোষণার আশ্বাস সরকারের হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশি জাহাজের নিরাপদ পারাপারে সহযোগিতার আশ্বাস ইরানের সাংবাদিকদের গ্রেফতারে আদালতের পূর্বানুমতির বিধান রাখার আলোচনা, সংশোধন হচ্ছে সাইবার সুরক্ষা আইন দ্বিতীয় পদ্মা-যমুনা সেতু ও পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

রপ্তানি আয় ১৫০ বিলিয়ন ডলারে নেওয়া সম্ভব: বাণিজ্যমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৬:৪২:৪৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
  • / 39

দেশের বর্তমান রপ্তানি আয় প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ বিলিয়ন ডলার থেকে বাড়িয়ে ১৫০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী Khondkar Abdul Muqtadir। তিনি বলেছেন, সম্ভাবনাময় বিভিন্ন খাতকে পরিকল্পিতভাবে এগিয়ে নেওয়া গেলে এই লক্ষ্য অর্জন কঠিন হবে না।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত “বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় বেসরকারি খাতগুলোর প্রতিযোগিতা সক্ষমতা মূল্যায়ন গবেষণা” শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, দেশের সম্ভাবনাময় শিল্পখাতগুলোতে নীতিগত সহায়তা, গবেষণা, প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার মাধ্যমে রপ্তানি আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো সম্ভব। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের সব শর্ত পূরণ করেছে। এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা এবং রপ্তানি সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি করা।

তিনি শিল্পখাতে গবেষণা, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তি অভিযোজনের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, উন্নত দেশগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে উৎপাদনশীলতা ও দক্ষতা বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রিতা কমিয়ে সময়মতো কাজ সম্পন্ন করার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন।

মন্ত্রী জানান, লেদার ও লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতে গড়ে তোলা অবকাঠামোগুলোকে আন্তর্জাতিক মানের দক্ষতা উন্নয়ন কেন্দ্র হিসেবে পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় এসব কেন্দ্রে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।

পাট খাতের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, কাঁচা পাট রপ্তানির চেয়ে মূল্য সংযোজিত পাটপণ্য ও জুটভিত্তিক ফ্যাব্রিক উৎপাদন থেকে অনেক বেশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব। এ লক্ষ্যে গবেষণা ও প্রযুক্তি উন্নয়নে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, শিল্প উন্নয়নে সরকার, বেসরকারি খাত এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের সমস্যার সমাধানে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বাণিজ্য সচিব মো. আতাউর রহমান খান জানান, এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং রপ্তানি সক্ষমতা বাড়াতে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার একটি সমন্বিত প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, বেসরকারি খাতের অভিজ্ঞতা ও চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়ে প্রকল্পের কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হবে।

তিনি আরও জানান, ব্যবসা সহজীকরণ, ডিজিটালাইজেশন, নীতিগত সহায়তা এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সরলীকরণের মাধ্যমে দেশের রপ্তানি খাতকে আরও প্রতিযোগিতামূলক ও টেকসই করে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

রপ্তানি আয় ১৫০ বিলিয়ন ডলারে নেওয়া সম্ভব: বাণিজ্যমন্ত্রী

আপডেট সময় : ০৬:৪২:৪৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

দেশের বর্তমান রপ্তানি আয় প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ বিলিয়ন ডলার থেকে বাড়িয়ে ১৫০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী Khondkar Abdul Muqtadir। তিনি বলেছেন, সম্ভাবনাময় বিভিন্ন খাতকে পরিকল্পিতভাবে এগিয়ে নেওয়া গেলে এই লক্ষ্য অর্জন কঠিন হবে না।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত “বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় বেসরকারি খাতগুলোর প্রতিযোগিতা সক্ষমতা মূল্যায়ন গবেষণা” শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, দেশের সম্ভাবনাময় শিল্পখাতগুলোতে নীতিগত সহায়তা, গবেষণা, প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার মাধ্যমে রপ্তানি আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো সম্ভব। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের সব শর্ত পূরণ করেছে। এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা এবং রপ্তানি সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি করা।

তিনি শিল্পখাতে গবেষণা, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তি অভিযোজনের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, উন্নত দেশগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে উৎপাদনশীলতা ও দক্ষতা বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রিতা কমিয়ে সময়মতো কাজ সম্পন্ন করার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন।

মন্ত্রী জানান, লেদার ও লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতে গড়ে তোলা অবকাঠামোগুলোকে আন্তর্জাতিক মানের দক্ষতা উন্নয়ন কেন্দ্র হিসেবে পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় এসব কেন্দ্রে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।

পাট খাতের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, কাঁচা পাট রপ্তানির চেয়ে মূল্য সংযোজিত পাটপণ্য ও জুটভিত্তিক ফ্যাব্রিক উৎপাদন থেকে অনেক বেশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব। এ লক্ষ্যে গবেষণা ও প্রযুক্তি উন্নয়নে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, শিল্প উন্নয়নে সরকার, বেসরকারি খাত এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের সমস্যার সমাধানে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বাণিজ্য সচিব মো. আতাউর রহমান খান জানান, এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং রপ্তানি সক্ষমতা বাড়াতে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার একটি সমন্বিত প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, বেসরকারি খাতের অভিজ্ঞতা ও চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়ে প্রকল্পের কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হবে।

তিনি আরও জানান, ব্যবসা সহজীকরণ, ডিজিটালাইজেশন, নীতিগত সহায়তা এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সরলীকরণের মাধ্যমে দেশের রপ্তানি খাতকে আরও প্রতিযোগিতামূলক ও টেকসই করে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।