ঢাকা ০৯:৫৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
যুক্তরাষ্ট্রের ভিজিটর ভিসা নিয়ে বাংলাদেশিদের সতর্ক করল মার্কিন দূতাবাস ঢাকার মেট্রোরেল লাইন-১-এর বড় দুই প্যাকেজ পেল ভারতের এলঅ্যান্ডটি, ব্যয় ৫ হাজার কোটি রুপির বেশি দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে গ্রিড বিপর্যয়: কারণ অনুসন্ধানে বিদ্যুৎ বিভাগের ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি জাপানে নিটসু লজিস্টিকস হাব পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকা-চট্টগ্রামে গ্রিড বিপর্যয়, অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের তারিখ পরিবর্তন, নতুন সময়সূচি ৩১ অক্টোবর নতুন পে স্কেলে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন নিয়ে সিদ্ধান্ত অর্থ মন্ত্রণালয়ের হাতে দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শন ও জনসভায় যোগ দিতে রাজশাহীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ৯ মাসে ৫১৮ সাংবাদিক নির্যাতনের শিকার, মব সহিংসতায় নিহত ১৮৭: এইচআরএসএস জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধনে যাননি কেন, প্রধানমন্ত্রীর ক্ষোভের জবাব দিলেন গোলাম পরওয়ার

ভারী বৃষ্টিতে উত্তরের ৪ জেলায় বন্যার শঙ্কা, ঝুঁকিতে সিলেটও

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৩:২৮:১১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬
  • / 38

ভারী বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে দেশের উত্তরের চার জেলা—নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও রংপুরে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে সিলেট বিভাগেও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকির কথা জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী নুসরাত জাহান জেরিন জানান, টানা বৃষ্টির কারণে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং কয়েকটি নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি বা তার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে আগামী দিনগুলোতে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

উজান থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে তিস্তা নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে ৪৪টি জলকপাট খুলে দেওয়া হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার বিকেল ৩টায় ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। আগের দিন একই সময়ে পানির উচ্চতা ছিল বিপৎসীমার ৪১ সেন্টিমিটার নিচে। পানি বৃদ্ধির ফলে লালমনিরহাটের নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের কিছু কৃষিজমি ইতোমধ্যে প্লাবিত হয়েছে।

অন্যদিকে সিলেট অঞ্চলেও কয়েক দিন ধরে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। শনিবার সকাল পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় সিলেটে ১৪০ দশমিক ৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা চলতি মৌসুমে স্বল্প সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের অন্যতম।

আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনও বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। ভারতের মেঘালয়সহ উজান অঞ্চলে ভারী বৃষ্টির কারণে সিলেট, সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জ জেলার নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে নিম্নাঞ্চলে আকস্মিক বন্যা দেখা দিতে পারে।

এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, রংপুর, ময়মনসিংহ, সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন স্থানে মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বজ্রসহ বৃষ্টি এবং দমকা হাওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে।

আবহাওয়াবিদ শাহীনুল ইসলাম বলেন, মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় আগামী অন্তত তিন দিন বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে।

এ ছাড়া টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

ভারী বৃষ্টিতে উত্তরের ৪ জেলায় বন্যার শঙ্কা, ঝুঁকিতে সিলেটও

আপডেট সময় : ০৩:২৮:১১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

ভারী বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে দেশের উত্তরের চার জেলা—নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও রংপুরে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে সিলেট বিভাগেও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকির কথা জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী নুসরাত জাহান জেরিন জানান, টানা বৃষ্টির কারণে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং কয়েকটি নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি বা তার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে আগামী দিনগুলোতে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

উজান থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে তিস্তা নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে ৪৪টি জলকপাট খুলে দেওয়া হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার বিকেল ৩টায় ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। আগের দিন একই সময়ে পানির উচ্চতা ছিল বিপৎসীমার ৪১ সেন্টিমিটার নিচে। পানি বৃদ্ধির ফলে লালমনিরহাটের নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের কিছু কৃষিজমি ইতোমধ্যে প্লাবিত হয়েছে।

অন্যদিকে সিলেট অঞ্চলেও কয়েক দিন ধরে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। শনিবার সকাল পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় সিলেটে ১৪০ দশমিক ৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা চলতি মৌসুমে স্বল্প সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের অন্যতম।

আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনও বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। ভারতের মেঘালয়সহ উজান অঞ্চলে ভারী বৃষ্টির কারণে সিলেট, সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জ জেলার নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে নিম্নাঞ্চলে আকস্মিক বন্যা দেখা দিতে পারে।

এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, রংপুর, ময়মনসিংহ, সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন স্থানে মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বজ্রসহ বৃষ্টি এবং দমকা হাওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে।

আবহাওয়াবিদ শাহীনুল ইসলাম বলেন, মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় আগামী অন্তত তিন দিন বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে।

এ ছাড়া টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।