ঢাকা ০৮:০৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
যুক্তরাষ্ট্রের ভিজিটর ভিসা নিয়ে বাংলাদেশিদের সতর্ক করল মার্কিন দূতাবাস ঢাকার মেট্রোরেল লাইন-১-এর বড় দুই প্যাকেজ পেল ভারতের এলঅ্যান্ডটি, ব্যয় ৫ হাজার কোটি রুপির বেশি দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে গ্রিড বিপর্যয়: কারণ অনুসন্ধানে বিদ্যুৎ বিভাগের ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি জাপানে নিটসু লজিস্টিকস হাব পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকা-চট্টগ্রামে গ্রিড বিপর্যয়, অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের তারিখ পরিবর্তন, নতুন সময়সূচি ৩১ অক্টোবর নতুন পে স্কেলে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন নিয়ে সিদ্ধান্ত অর্থ মন্ত্রণালয়ের হাতে দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শন ও জনসভায় যোগ দিতে রাজশাহীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ৯ মাসে ৫১৮ সাংবাদিক নির্যাতনের শিকার, মব সহিংসতায় নিহত ১৮৭: এইচআরএসএস জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধনে যাননি কেন, প্রধানমন্ত্রীর ক্ষোভের জবাব দিলেন গোলাম পরওয়ার

আদ্-দ্বীন হাসপাতাল চিকিৎসা কার্যক্রমের উপযোগী নয়, তদন্তে অবহেলার প্রমাণ: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৮:২৪:০৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
  • / 52

রাজধানীর মগবাজারে আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে হাসপাতালটির নানা গুরুতর অনিয়ম ও অবহেলার চিত্র উঠে এসেছে। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে তদন্ত প্রতিবেদনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আদ্-দ্বীন হাসপাতালের ভবনটি চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য উপযুক্ত নয়।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, তদন্ত কমিটি হাসপাতালের পোস্ট অপারেটিভ কক্ষ নম্বর-২ পরিদর্শন করে দেখতে পেয়েছে, দীর্ঘ সময় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (এসি) বন্ধ থাকা এবং স্বাভাবিক ভেন্টিলেশনের অভাবে কক্ষে প্রয়োজনীয় অক্সিজেনের ঘাটতি তৈরি হয়েছিল। একই সঙ্গে কার্বন ডাই-অক্সাইডের মাত্রাও স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি ছিল।

তিনি বলেন, হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স এবং প্রশাসনের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের অবহেলার কারণেই ছয় নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে বলে তদন্তে প্রমাণ মিলেছে। দায়িত্বরত সেবিকাদের দায়িত্ব পালনে চরম অবহেলা এবং অসহযোগিতার বিষয়টিও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

মন্ত্রী আরও জানান, ৯০০ বর্গফুটের একটি কক্ষে ১১ জন রোগী, নবজাতক ও স্বজনসহ প্রায় ৫০ জন অবস্থান করছিলেন, যা কক্ষটির ধারণক্ষমতার অনেক বেশি। সেখানে রোগীদের তদারকির জন্য কোনো চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন না এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় নার্সদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণও ছিল না। এছাড়া কক্ষে আলো-বাতাস চলাচলের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা এবং অতিরিক্ত লোকজন নিয়ন্ত্রণের কোনো কার্যকর উদ্যোগও নেওয়া হয়নি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জিজ্ঞাসাবাদ করে প্রমাণ পাওয়া গেছে যে তারা হাসপাতাল পরিচালনার মৌলিক শর্তগুলো যথাযথভাবে পালন করতে ব্যর্থ হয়েছেন। তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে বিদ্যমান আইনের আওতায় দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে আগামী রোববারের মধ্যে সরকারের সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, ছয় নবজাতকের মৃত্যু অত্যন্ত গুরুতর ঘটনা এবং সরকার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। মানুষের জীবন নিয়ে অবহেলা বা দায়িত্বহীনতার কোনো সুযোগ নেই। ভবিষ্যতে যেন এমন ঘটনা আর না ঘটে, সে জন্য কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আদ্-দ্বীন হাসপাতাল চিকিৎসা কার্যক্রমের উপযোগী নয়, তদন্তে অবহেলার প্রমাণ: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

আপডেট সময় : ০৮:২৪:০৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬

রাজধানীর মগবাজারে আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে হাসপাতালটির নানা গুরুতর অনিয়ম ও অবহেলার চিত্র উঠে এসেছে। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে তদন্ত প্রতিবেদনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আদ্-দ্বীন হাসপাতালের ভবনটি চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য উপযুক্ত নয়।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, তদন্ত কমিটি হাসপাতালের পোস্ট অপারেটিভ কক্ষ নম্বর-২ পরিদর্শন করে দেখতে পেয়েছে, দীর্ঘ সময় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (এসি) বন্ধ থাকা এবং স্বাভাবিক ভেন্টিলেশনের অভাবে কক্ষে প্রয়োজনীয় অক্সিজেনের ঘাটতি তৈরি হয়েছিল। একই সঙ্গে কার্বন ডাই-অক্সাইডের মাত্রাও স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি ছিল।

তিনি বলেন, হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স এবং প্রশাসনের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের অবহেলার কারণেই ছয় নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে বলে তদন্তে প্রমাণ মিলেছে। দায়িত্বরত সেবিকাদের দায়িত্ব পালনে চরম অবহেলা এবং অসহযোগিতার বিষয়টিও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

মন্ত্রী আরও জানান, ৯০০ বর্গফুটের একটি কক্ষে ১১ জন রোগী, নবজাতক ও স্বজনসহ প্রায় ৫০ জন অবস্থান করছিলেন, যা কক্ষটির ধারণক্ষমতার অনেক বেশি। সেখানে রোগীদের তদারকির জন্য কোনো চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন না এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় নার্সদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণও ছিল না। এছাড়া কক্ষে আলো-বাতাস চলাচলের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা এবং অতিরিক্ত লোকজন নিয়ন্ত্রণের কোনো কার্যকর উদ্যোগও নেওয়া হয়নি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জিজ্ঞাসাবাদ করে প্রমাণ পাওয়া গেছে যে তারা হাসপাতাল পরিচালনার মৌলিক শর্তগুলো যথাযথভাবে পালন করতে ব্যর্থ হয়েছেন। তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে বিদ্যমান আইনের আওতায় দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে আগামী রোববারের মধ্যে সরকারের সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, ছয় নবজাতকের মৃত্যু অত্যন্ত গুরুতর ঘটনা এবং সরকার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। মানুষের জীবন নিয়ে অবহেলা বা দায়িত্বহীনতার কোনো সুযোগ নেই। ভবিষ্যতে যেন এমন ঘটনা আর না ঘটে, সে জন্য কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।