ঢাকা ০৫:০০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
যুক্তরাষ্ট্রের ভিজিটর ভিসা নিয়ে বাংলাদেশিদের সতর্ক করল মার্কিন দূতাবাস ঢাকার মেট্রোরেল লাইন-১-এর বড় দুই প্যাকেজ পেল ভারতের এলঅ্যান্ডটি, ব্যয় ৫ হাজার কোটি রুপির বেশি দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে গ্রিড বিপর্যয়: কারণ অনুসন্ধানে বিদ্যুৎ বিভাগের ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি জাপানে নিটসু লজিস্টিকস হাব পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকা-চট্টগ্রামে গ্রিড বিপর্যয়, অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের তারিখ পরিবর্তন, নতুন সময়সূচি ৩১ অক্টোবর নতুন পে স্কেলে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন নিয়ে সিদ্ধান্ত অর্থ মন্ত্রণালয়ের হাতে দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শন ও জনসভায় যোগ দিতে রাজশাহীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ৯ মাসে ৫১৮ সাংবাদিক নির্যাতনের শিকার, মব সহিংসতায় নিহত ১৮৭: এইচআরএসএস জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধনে যাননি কেন, প্রধানমন্ত্রীর ক্ষোভের জবাব দিলেন গোলাম পরওয়ার

ট্যাক্স টোকেনের পর এবার বাইকেও নতুন কর! ক্ষোভে ফুঁসছেন চালকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৬:২৮:০৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬
  • / 39

বাংলাদেশের জাতীয় রাজস্ব বোর্ড দেশের মোটরসাইকেল মালিকদের জন্য নতুন করে অগ্রিম আয়কর আরোপের পরিকল্পনা করছে। বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যেই সাধারণ বাইক চালক ও মালিকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কারণ দেশের বিপুল সংখ্যক মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীর করযোগ্য আয় নেই, এমনকি অনেকের কর শনাক্তকরণ নম্বরও নেই। ফলে কীভাবে এই কর আদায় করা হবে তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

জানা গেছে, আগামী অর্থবছরের বাজেটে মোটরসাইকেলসহ কর ব্যবস্থার বাইরে থাকা বিভিন্ন যানবাহনকে অগ্রিম আয়করের আওতায় আনার চিন্তা করছে সরকার। বর্তমানে মোটরসাইকেল মালিকদের প্রতি বছর ট্যাক্স টোকেন নবায়ন করতে হয়। এখন সেই ব্যবস্থার পাশাপাশি নতুন কর আরোপের পরিকল্পনা চলছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান বদিউর রহমান এ উদ্যোগকে ইতিবাচক বলে মন্তব্য করেছেন। তার মতে, যৌক্তিক হারে কর নির্ধারণ করা গেলে এটি ভালো উদ্যোগ হতে পারে। তিনি বলেন, যাদের আয় করের ন্যূনতম সীমায় না পৌঁছালেও রাষ্ট্রের রাজস্ব খাতে অবদান রাখার সুযোগ থাকা উচিত।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে প্রায় ৪৯ লাখ নিবন্ধিত মোটরসাইকেল রয়েছে। সম্প্রতি অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে এক বৈঠকে মোটরসাইকেল ও অটোরিকশাকে অগ্রিম আয়করের আওতায় আনার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১১০ সিসি পর্যন্ত মোটরসাইকেল করমুক্ত থাকতে পারে। তবে ১১১ থেকে ১২৫ সিসি পর্যন্ত মোটরসাইকেলের জন্য বছরে দুই হাজার টাকা, ১৬৫ সিসি পর্যন্ত পাঁচ হাজার টাকা এবং এর বেশি ক্ষমতার মোটরসাইকেলের জন্য বছরে দশ হাজার টাকা কর নির্ধারণের আলোচনা চলছে।

এছাড়া ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ক্ষেত্রেও নতুন কর আরোপের চিন্তা করা হচ্ছে। সিটি এলাকায় পাঁচ হাজার, পৌরসভা এলাকায় দুই হাজার এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে এক হাজার টাকা কর নির্ধারণের প্রস্তাব আলোচনায় রয়েছে।

তবে নতুন কর আরোপের পরিকল্পনার বিরুদ্ধে ইতোমধ্যেই আন্দোলনে নেমেছেন বাইক চালকরা। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন তারা। তাদের দাবি, দেশে মোটরসাইকেলের দাম এমনিতেই অনেক বেশি। অনেক মানুষ এখন মোটরসাইকেল চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। এ অবস্থায় নতুন কর চাপিয়ে দিলে সাধারণ মানুষের জীবন আরও কঠিন হয়ে পড়বে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাক্স টোকেনের পর এবার বাইকেও নতুন কর! ক্ষোভে ফুঁসছেন চালকরা

আপডেট সময় : ০৬:২৮:০৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬

বাংলাদেশের জাতীয় রাজস্ব বোর্ড দেশের মোটরসাইকেল মালিকদের জন্য নতুন করে অগ্রিম আয়কর আরোপের পরিকল্পনা করছে। বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যেই সাধারণ বাইক চালক ও মালিকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কারণ দেশের বিপুল সংখ্যক মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীর করযোগ্য আয় নেই, এমনকি অনেকের কর শনাক্তকরণ নম্বরও নেই। ফলে কীভাবে এই কর আদায় করা হবে তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

জানা গেছে, আগামী অর্থবছরের বাজেটে মোটরসাইকেলসহ কর ব্যবস্থার বাইরে থাকা বিভিন্ন যানবাহনকে অগ্রিম আয়করের আওতায় আনার চিন্তা করছে সরকার। বর্তমানে মোটরসাইকেল মালিকদের প্রতি বছর ট্যাক্স টোকেন নবায়ন করতে হয়। এখন সেই ব্যবস্থার পাশাপাশি নতুন কর আরোপের পরিকল্পনা চলছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান বদিউর রহমান এ উদ্যোগকে ইতিবাচক বলে মন্তব্য করেছেন। তার মতে, যৌক্তিক হারে কর নির্ধারণ করা গেলে এটি ভালো উদ্যোগ হতে পারে। তিনি বলেন, যাদের আয় করের ন্যূনতম সীমায় না পৌঁছালেও রাষ্ট্রের রাজস্ব খাতে অবদান রাখার সুযোগ থাকা উচিত।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে প্রায় ৪৯ লাখ নিবন্ধিত মোটরসাইকেল রয়েছে। সম্প্রতি অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে এক বৈঠকে মোটরসাইকেল ও অটোরিকশাকে অগ্রিম আয়করের আওতায় আনার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১১০ সিসি পর্যন্ত মোটরসাইকেল করমুক্ত থাকতে পারে। তবে ১১১ থেকে ১২৫ সিসি পর্যন্ত মোটরসাইকেলের জন্য বছরে দুই হাজার টাকা, ১৬৫ সিসি পর্যন্ত পাঁচ হাজার টাকা এবং এর বেশি ক্ষমতার মোটরসাইকেলের জন্য বছরে দশ হাজার টাকা কর নির্ধারণের আলোচনা চলছে।

এছাড়া ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ক্ষেত্রেও নতুন কর আরোপের চিন্তা করা হচ্ছে। সিটি এলাকায় পাঁচ হাজার, পৌরসভা এলাকায় দুই হাজার এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে এক হাজার টাকা কর নির্ধারণের প্রস্তাব আলোচনায় রয়েছে।

তবে নতুন কর আরোপের পরিকল্পনার বিরুদ্ধে ইতোমধ্যেই আন্দোলনে নেমেছেন বাইক চালকরা। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন তারা। তাদের দাবি, দেশে মোটরসাইকেলের দাম এমনিতেই অনেক বেশি। অনেক মানুষ এখন মোটরসাইকেল চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। এ অবস্থায় নতুন কর চাপিয়ে দিলে সাধারণ মানুষের জীবন আরও কঠিন হয়ে পড়বে।