ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে আরও দুই বছর লাগবে: অর্থমন্ত্রী আমির খসরু
- আপডেট সময় : ০৬:০০:২৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
- / 42

বিগত সরকারগুলো দেশের অর্থনীতিকে ঋণাত্মক অবস্থায় রেখে বিদায় নিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, এই ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে আরও দুই বছর সময় লাগবে।
শনিবার দুপুরে চট্টগ্রাম মা ও শিশু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৭ তলা একাডেমিক ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা করতে হয়েছে। তার মতে, এই সংকটে শুধু জ্বালানি খাতে আগামী অর্থবছরে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ খাত ও বিদেশি ঋণের কিস্তি পরিশোধে আরও বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে।
তিনি বলেন, সামগ্রিকভাবে দেশের অর্থনীতি এখনো দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। তবে আসন্ন বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ রাখা হবে, যাতে দরিদ্র মানুষ বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা পেতে পারে।
আমির খসরু বলেন, অতীত সরকারের সময় স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দের বড় অংশ লুটপাট হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বর্তমান সরকার শুধু বরাদ্দ দিয়েই দায়িত্ব শেষ করবে না, বরং তা সঠিকভাবে ব্যবহার হচ্ছে কি না সেটিও কঠোরভাবে মনিটরিং করবে।
তিনি আরও বলেন, পূর্ববর্তী সময়ে মেডিকেল কলেজগুলো রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যোগ্যতা ছাড়া ভর্তি নেওয়ার কারণে শিক্ষার মান নষ্ট হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ভবিষ্যতে এ ধরনের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থাকবে না বলে জানান মন্ত্রী।
তার ভাষায়, সরকার কোনো খাতে সরাসরি হস্তক্ষেপ করে না, কারণ এতে প্রতিষ্ঠানগুলোর পেশাদারিত্ব নষ্ট হয়। শিক্ষার মান কমে গেলে শুধু প্রতিষ্ঠান নয়, পুরো রাষ্ট্র ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলেও তিনি সতর্ক করেন।
মেডিকেল শিক্ষার মান বজায় রাখতে আসনসংখ্যা বাড়ানোর আগে শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত, পর্যাপ্ত ফ্যাকাল্টি ও অবকাঠামো নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি বলেন, নাগরিকদের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া মৌলিক অধিকার, যা দীর্ঘদিন উপেক্ষিত ছিল।
তিনি জানান, সরকার ‘ইউনিভার্সাল হেলথ কেয়ার’ কার্যক্রম জোরদার করছে এবং প্রাথমিক চিকিৎসা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা নিয়েছে। দরিদ্র রোগীদের চিকিৎসা সহজ করতে বেসরকারি হাসপাতালের সঙ্গে চুক্তিভিত্তিক ব্যবস্থাও চালুর কথা বিবেচনা করা হচ্ছে, যেখানে বিল পরিশোধ করবে সরকার।
মন্ত্রী আরও বলেন, আধুনিক শিক্ষার জন্য মেডিকেল শিক্ষার্থীদের মাল্টিমিডিয়া, ডিজিটাল লাইব্রেরি ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণ জরুরি। দেশে মেডিকেল টেকনোলজিস্টের ঘাটতির কারণে মূল্যবান যন্ত্রপাতি অনেক সময় অকার্যকর পড়ে থাকে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠান শেষে তিনি আগ্রাবাদ মহিলা কলেজের কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা, নবীন বরণ ও বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে অংশ নেন।





















