ঢাকা ০৪:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
অ্যাপভিত্তিক সিএনজি সেবা বন্ধের উদ্যোগে উদ্বেগ, নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থানে নেতিবাচক প্রভাবের আশঙ্কা টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক: ২৬ পণ্যে ‘ক্ষতিকর’ উপাদান, তদন্ত চেয়ে হাইকোর্টে রিট ১০ আগস্ট প্রকাশ হচ্ছে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল পার্বতীপুর ও ফুলবাড়ী উপজেলা বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করতে একমত বাংলাদেশ ও মালদ্বীপ কৃষিভিত্তিক উদ্যোক্তা হতে নবীন শিক্ষার্থীদের প্রতি মন্ত্রীর আহ্বান গুলশানের বাসায় ফিরছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন, চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কনীতিতে সর্বনিম্ন ১০% শুল্ক পেল বাংলাদেশ, রপ্তানিতে বাড়ছে প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা এআইকে সঠিকভাবে কাজে লাগানোই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ: তথ্যমন্ত্রী হরমুজ প্রণালি সংকটে বাংলাদেশে তীব্র সার সংকটের আশঙ্কা, সতর্ক করল ডব্লিউএফপি

জাবিতে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে উত্তাল ক্যাম্পাস, প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগ দাবি

সাভার প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৯:৪৬:১২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬
  • / 33

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে পুরো ক্যাম্পাস। অভিযুক্তকে গ্রেফতার, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে মশাল মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থীরা।

একই সঙ্গে দাবি বাস্তবায়ন না হলে ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে পুরো প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগের জন্য ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটামও দেন আন্দোলনকারীরা।

বুধবার রাতে টারজান চত্বর থেকে মশাল মিছিল শুরু হয়। এতে বিভিন্ন হল ও বিভাগের প্রায় দুই হাজার শিক্ষার্থী অংশ নেন বলে জানা যায়। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক ও ছাত্রী হল এলাকা প্রদক্ষিণ করে প্রক্টর কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ ও পুরাতন রেজিস্ট্রার ভবন ঘেরাও করা হয়।

মিছিল চলাকালে শিক্ষার্থীরা ‘ধর্ষকের কালো হাত ভেঙে দাও’, ‘আমার সোনার বাংলায় ধর্ষকের ঠাঁই নাই’, ‘প্রক্টরের পদত্যাগ করতে হবে’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।

সমাবেশে শিক্ষার্থীরা পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করেন। এর মধ্যে রয়েছে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগ, ক্যাম্পাসে হয়রানি প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা, প্রবেশপথে নিরাপত্তা জোরদার এবং নারী নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগসহ কুইক রেসপন্স টিমে তাদের অন্তর্ভুক্ত করা।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, ক্যাম্পাসে নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা বারবার বিঘ্নিত হলেও প্রশাসন কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে। তারা দাবি করেন, প্রক্টরের একটি মন্তব্য শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ আরও বাড়িয়ে দেয়।

আন্দোলনে অংশ নেওয়া এক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, প্রক্টরিয়াল বডির ব্যর্থতার কারণেই ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা পরিস্থিতি অবনতির দিকে যাচ্ছে।

এদিকে আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ভিন্নমতও তৈরি হয়েছে। কিছু শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, পূর্বঘোষণা ছাড়াই রাজনৈতিক সংগঠনের কিছু নেতাকর্মী আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে নিয়ে গেছে এবং প্রক্টর ও ভিসির পদত্যাগের দাবিকে সামনে আনা হয়েছে।

এক পক্ষ দাবি করছে, এটি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা আন্দোলন, অন্য পক্ষের মতে এতে রাজনৈতিক প্রভাব প্রবেশ করেছে।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে হাঁটার সময় এক ব্যক্তি তাকে অনুসরণ করে এবং পরে তাকে গলায় কাপড় পেঁচিয়ে পাশের জঙ্গলে নেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনার পর থেকেই ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

জাবিতে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে উত্তাল ক্যাম্পাস, প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগ দাবি

আপডেট সময় : ০৯:৪৬:১২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে পুরো ক্যাম্পাস। অভিযুক্তকে গ্রেফতার, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে মশাল মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থীরা।

একই সঙ্গে দাবি বাস্তবায়ন না হলে ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে পুরো প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগের জন্য ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটামও দেন আন্দোলনকারীরা।

বুধবার রাতে টারজান চত্বর থেকে মশাল মিছিল শুরু হয়। এতে বিভিন্ন হল ও বিভাগের প্রায় দুই হাজার শিক্ষার্থী অংশ নেন বলে জানা যায়। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক ও ছাত্রী হল এলাকা প্রদক্ষিণ করে প্রক্টর কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ ও পুরাতন রেজিস্ট্রার ভবন ঘেরাও করা হয়।

মিছিল চলাকালে শিক্ষার্থীরা ‘ধর্ষকের কালো হাত ভেঙে দাও’, ‘আমার সোনার বাংলায় ধর্ষকের ঠাঁই নাই’, ‘প্রক্টরের পদত্যাগ করতে হবে’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।

সমাবেশে শিক্ষার্থীরা পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করেন। এর মধ্যে রয়েছে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগ, ক্যাম্পাসে হয়রানি প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা, প্রবেশপথে নিরাপত্তা জোরদার এবং নারী নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগসহ কুইক রেসপন্স টিমে তাদের অন্তর্ভুক্ত করা।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, ক্যাম্পাসে নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা বারবার বিঘ্নিত হলেও প্রশাসন কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে। তারা দাবি করেন, প্রক্টরের একটি মন্তব্য শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ আরও বাড়িয়ে দেয়।

আন্দোলনে অংশ নেওয়া এক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, প্রক্টরিয়াল বডির ব্যর্থতার কারণেই ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা পরিস্থিতি অবনতির দিকে যাচ্ছে।

এদিকে আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ভিন্নমতও তৈরি হয়েছে। কিছু শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, পূর্বঘোষণা ছাড়াই রাজনৈতিক সংগঠনের কিছু নেতাকর্মী আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে নিয়ে গেছে এবং প্রক্টর ও ভিসির পদত্যাগের দাবিকে সামনে আনা হয়েছে।

এক পক্ষ দাবি করছে, এটি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা আন্দোলন, অন্য পক্ষের মতে এতে রাজনৈতিক প্রভাব প্রবেশ করেছে।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে হাঁটার সময় এক ব্যক্তি তাকে অনুসরণ করে এবং পরে তাকে গলায় কাপড় পেঁচিয়ে পাশের জঙ্গলে নেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনার পর থেকেই ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।