দেশেই তৈরি হবে ডেঙ্গু-হাম টিকা ও সাপের বিষের প্রতিষেধক
- আপডেট সময় : ০৬:২২:২৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬
- / 43

দেশে প্রথমবারের মতো সরকারি উদ্যোগে ডেঙ্গু, জলাতঙ্ক ও হাম প্রতিরোধী টিকা এবং সাপের কামড়ের প্রতিষেধক উৎপাদনের পরিকল্পনা নিয়েছে রাষ্ট্রীয় ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এসেনশিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেড। এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বিদেশেও টিকা রপ্তানির সুযোগ তৈরি হবে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
এসেনশিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আ. সামাদ মৃধা জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা ও স্বাস্থ্যমন্ত্রীর তত্ত্বাবধানে জরুরি ভিত্তিতে এই প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, দেশে ডেঙ্গু, হাম, জলাতঙ্ক এবং সাপের কামড়জনিত সমস্যার প্রকোপ বাড়ায় এসব রোগ প্রতিরোধে স্থানীয়ভাবে টিকা উৎপাদন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সামাদ মৃধা জানান, আগামী এক বছরের মধ্যে চার ধরনের টিকার উৎপাদনে যাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী বছরের জুনের মধ্যে উৎপাদন শুরু করে সরকারের কাছে সরবরাহ করা সম্ভব হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, বিদ্যমান অবকাঠামো ব্যবহার করেই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে এবং এতে প্রায় ২৫ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। প্রকল্প চালু হলে বছরে প্রায় ৯০ লাখ থেকে এক কোটি ভায়াল টিকা উৎপাদনের সক্ষমতা তৈরি হবে।
বর্তমানে দেশে এসব টিকার বার্ষিক চাহিদা প্রায় ৫০ লাখ ডোজ উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্থানীয়ভাবে উৎপাদন শুরু হলে বিদেশ থেকে আমদানির তুলনায় প্রায় অর্ধেক খরচে সরকার টিকা সংগ্রহ করতে পারবে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে দেশে হামের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে এবং গত ৯ মে পর্যন্ত প্রায় ৪৭ হাজার ৬৫৬ শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সময়মতো টিকা না পাওয়াই এর অন্যতম কারণ।
এদিকে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে অ্যান্টিভেনম ও জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকার ঘাটতি রয়েছে বলেও জানা গেছে। এক সমীক্ষা অনুযায়ী, দেশে প্রতিবছর প্রায় ৪ লাখ মানুষ সাপের কামড়ে আক্রান্ত হয় এবং এর মধ্যে সাড়ে সাত হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু ঘটে।
সামাদ মৃধা আরও জানান, মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে প্রায় সাড়ে সাত হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে একটি আধুনিক ভ্যাকসিন ও গবেষণা কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। সেখানে নতুন বায়োপ্রযুক্তি পণ্য উন্নয়ন ও বিভিন্ন ধরনের টিকা উৎপাদনের ব্যবস্থা থাকবে।
এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের অর্থায়নে প্রায় ১০ একর জমির ওপর নির্মিতব্য এই কেন্দ্র থেকে ২০৩২ সালের মধ্যে উৎপাদন শুরু করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।





















