ঢাকা ০৪:১৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
লিবিয়া থেকে দেশে ফিরলেন ১৬৮ বাংলাদেশি এসএসসির খাতা মূল্যায়নে গাফিলতি করা পরীক্ষকদের শাস্তি হবে: শিক্ষামন্ত্রী গুজরাট থেকে বাংলাদেশে আসছে ইলিশ, এবার উল্টো রপ্তানির অনুমতি চাইছে ভারত ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীকে যথাযথ মর্যাদায় আমন্ত্রণ জানানো হয়নি: স্পিকার ডিএজি নজরুল ইসলাম ছোটনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চেয়ে অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে রুমিন ফারহানার আবেদন নিজ কার্যালয় থেকেই চিকিৎসক-নার্সদের হাজিরা মনিটর করবেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী শেভরনের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক, জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘুষের অভিযোগের তদন্তের পরই বদলি শিক্ষা কর্মকর্তা, উঠছে প্রশ্ন আদানির গোড্ডা কেন্দ্রের ৮০০ মেগাওয়াট ইউনিট থেকে ফের বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ

হামে শিশু মৃত্যুর পেছনে নিউমোনিয়া ও অপুষ্টি প্রধান কারণ

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ১০:৩০:৪৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
  • / 175

দেশে হামে আক্রান্ত শিশুদের মৃত্যুর পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে নিউমোনিয়া ও অপুষ্টিজনিত জটিলতা। সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মারা যাওয়া শিশুদের প্রায় ৯০ শতাংশই এসব জটিলতায় প্রাণ হারিয়েছে। এছাড়া কিছু ক্ষেত্রে মস্তিষ্কের প্রদাহ ও রক্তে সংক্রমণও মৃত্যুর কারণ হয়েছে।

রাজধানীর তিনটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া ৬৬ শিশুর তথ্য বিশ্লেষণে এই উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। এসব হাসপাতালে মোট ভর্তি হয়েছিল প্রায় ছয় হাজারের বেশি শিশু। এর মধ্যে অল্প সময়ের মধ্যেই অনেক শিশুর মৃত্যু হয়েছে—ভর্তির ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই প্রতি তিনজনের একজন মারা গেছে।

বয়সভিত্তিক হিসেবে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে ৭ থেকে ১০ মাস বয়সী শিশু। পাশাপাশি ছয় মাসের কম বয়সী শিশুরাও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যেসব শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল বা যারা টিকা নেয়নি, তাদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি অনেক বেশি।

চিকিৎসকদের মতে, হামের সঙ্গে নিউমোনিয়া যুক্ত হলে পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে ওঠে। অনেক শিশু গুরুতর শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে আসে, কিন্তু জেলা বা উপজেলা পর্যায়ে যথাযথ চিকিৎসা না পাওয়ায় তাদের অবস্থার অবনতি ঘটে। সময়মতো অক্সিজেনসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে অনেক মৃত্যু এড়ানো সম্ভব ছিল।

অন্যদিকে অপুষ্টিও বড় একটি কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের মৃত্যুঝুঁকি স্বাভাবিক শিশুদের তুলনায় অনেক বেশি। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, দেশে অপুষ্টির হার বেড়ে যাওয়ায় এই সংকট আরও তীব্র হয়েছে।

এছাড়া টিকাদান কার্যক্রমে ঘাটতির বিষয়টিও সামনে এসেছে। আক্রান্ত শিশুদের বড় একটি অংশ কোনো টিকাই পায়নি। এতে করে সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি ভিত্তিতে টিকাদান জোরদার, উপজেলা পর্যায়ে চিকিৎসা সুবিধা বাড়ানো এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। তা না হলে শিশু মৃত্যুর হার আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

হামে শিশু মৃত্যুর পেছনে নিউমোনিয়া ও অপুষ্টি প্রধান কারণ

আপডেট সময় : ১০:৩০:৪৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

দেশে হামে আক্রান্ত শিশুদের মৃত্যুর পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে নিউমোনিয়া ও অপুষ্টিজনিত জটিলতা। সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মারা যাওয়া শিশুদের প্রায় ৯০ শতাংশই এসব জটিলতায় প্রাণ হারিয়েছে। এছাড়া কিছু ক্ষেত্রে মস্তিষ্কের প্রদাহ ও রক্তে সংক্রমণও মৃত্যুর কারণ হয়েছে।

রাজধানীর তিনটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া ৬৬ শিশুর তথ্য বিশ্লেষণে এই উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। এসব হাসপাতালে মোট ভর্তি হয়েছিল প্রায় ছয় হাজারের বেশি শিশু। এর মধ্যে অল্প সময়ের মধ্যেই অনেক শিশুর মৃত্যু হয়েছে—ভর্তির ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই প্রতি তিনজনের একজন মারা গেছে।

বয়সভিত্তিক হিসেবে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে ৭ থেকে ১০ মাস বয়সী শিশু। পাশাপাশি ছয় মাসের কম বয়সী শিশুরাও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যেসব শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল বা যারা টিকা নেয়নি, তাদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি অনেক বেশি।

চিকিৎসকদের মতে, হামের সঙ্গে নিউমোনিয়া যুক্ত হলে পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে ওঠে। অনেক শিশু গুরুতর শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে আসে, কিন্তু জেলা বা উপজেলা পর্যায়ে যথাযথ চিকিৎসা না পাওয়ায় তাদের অবস্থার অবনতি ঘটে। সময়মতো অক্সিজেনসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে অনেক মৃত্যু এড়ানো সম্ভব ছিল।

অন্যদিকে অপুষ্টিও বড় একটি কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের মৃত্যুঝুঁকি স্বাভাবিক শিশুদের তুলনায় অনেক বেশি। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, দেশে অপুষ্টির হার বেড়ে যাওয়ায় এই সংকট আরও তীব্র হয়েছে।

এছাড়া টিকাদান কার্যক্রমে ঘাটতির বিষয়টিও সামনে এসেছে। আক্রান্ত শিশুদের বড় একটি অংশ কোনো টিকাই পায়নি। এতে করে সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি ভিত্তিতে টিকাদান জোরদার, উপজেলা পর্যায়ে চিকিৎসা সুবিধা বাড়ানো এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। তা না হলে শিশু মৃত্যুর হার আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।