ঢাকা ০৫:৫৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
লিবিয়া থেকে দেশে ফিরলেন ১৬৮ বাংলাদেশি এসএসসির খাতা মূল্যায়নে গাফিলতি করা পরীক্ষকদের শাস্তি হবে: শিক্ষামন্ত্রী গুজরাট থেকে বাংলাদেশে আসছে ইলিশ, এবার উল্টো রপ্তানির অনুমতি চাইছে ভারত ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীকে যথাযথ মর্যাদায় আমন্ত্রণ জানানো হয়নি: স্পিকার ডিএজি নজরুল ইসলাম ছোটনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চেয়ে অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে রুমিন ফারহানার আবেদন নিজ কার্যালয় থেকেই চিকিৎসক-নার্সদের হাজিরা মনিটর করবেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী শেভরনের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক, জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘুষের অভিযোগের তদন্তের পরই বদলি শিক্ষা কর্মকর্তা, উঠছে প্রশ্ন আদানির গোড্ডা কেন্দ্রের ৮০০ মেগাওয়াট ইউনিট থেকে ফের বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ

নীরবে গড়ে ওঠে মারাত্মক রোগ—কিডনি পাথরের পেছনের আসল কারণ জানলে অবাক হবেন

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৯:৩০:৪১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
  • / 162

কিডনি বা মূত্রতন্ত্রে পাথর তৈরি হওয়া এখন খুব পরিচিত একটি স্বাস্থ্য সমস্যা। অনেকেই হঠাৎ তীব্র পেটব্যথা, প্রস্রাবে জ্বালা বা কখনো রক্ত দেখতে পান, কিন্তু এর পেছনে যে নীরবে গড়ে ওঠা একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া কাজ করে, তা অনেকেরই অজানা।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এই অবস্থাকে কিডনি বা মূত্রনালির পাথর বলা হয়। এটি মূলত শরীরের ভেতরে জমে থাকা বিভিন্ন খনিজ ও লবণের শক্ত স্ফটিক থেকে ধীরে ধীরে তৈরি হয়। শুরুতে এগুলো ছোট থাকায় কোনো উপসর্গ থাকে না, কিন্তু সময়ের সঙ্গে বড় হতে থাকলে তীব্র যন্ত্রণার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এর প্রধান কারণগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো পর্যাপ্ত পানি না খাওয়া। শরীরে পানি কম থাকলে প্রস্রাব ঘন হয়ে যায়, ফলে খনিজ পদার্থ একত্রিত হয়ে স্ফটিক তৈরি করে। গরম আবহাওয়া ও অতিরিক্ত ঘাম এই ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেয়।

খাদ্যাভ্যাসও এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অতিরিক্ত লবণ, প্রাণিজ প্রোটিন এবং কিছু নির্দিষ্ট খাবার বেশি খাওয়ার ফলে কিছু মানুষের ক্ষেত্রে পাথর তৈরির ঝুঁকি বাড়তে পারে। তবে এটি সবার ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রযোজ্য নয়।

বংশগত কারণও অনেক ক্ষেত্রে দায়ী। পরিবারে কারও এই সমস্যা থাকলে অন্যদের মধ্যেও ঝুঁকি বেশি থাকে। এছাড়া স্থূলতা, ডায়াবেটিস, হরমোনজনিত সমস্যা বা দীর্ঘদিন শারীরিক নিষ্ক্রিয়তাও এই রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।

কিছু নির্দিষ্ট ওষুধ দীর্ঘদিন ব্যবহার করলেও শরীরের খনিজ ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে, যা পাথর তৈরির সম্ভাবনা বাড়ায়। এমনকি দীর্ঘ সময় প্রস্রাব চেপে রাখার অভ্যাসও মূত্রতন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে।

পাথর ছোট থাকলে সাধারণত কোনো লক্ষণ দেখা যায় না। কিন্তু বড় হলে তীব্র ব্যথা, প্রস্রাবে জ্বালা, বমিভাব এবং রক্তের মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

চিকিৎসকদের মতে, এই সমস্যা প্রতিরোধে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো পর্যাপ্ত পানি পান করা, সুষম খাদ্য গ্রহণ এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো। সময়মতো সচেতন হলে বড় ধরনের জটিলতা এড়ানো সম্ভব।

কিডনি পাথর হঠাৎ তৈরি হয় না—এটি ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে। তাই দৈনন্দিন ছোট ছোট অভ্যাসই এই নীরব কিন্তু কষ্টদায়ক রোগ থেকে আমাদের রক্ষা করতে পারে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

নীরবে গড়ে ওঠে মারাত্মক রোগ—কিডনি পাথরের পেছনের আসল কারণ জানলে অবাক হবেন

আপডেট সময় : ০৯:৩০:৪১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

কিডনি বা মূত্রতন্ত্রে পাথর তৈরি হওয়া এখন খুব পরিচিত একটি স্বাস্থ্য সমস্যা। অনেকেই হঠাৎ তীব্র পেটব্যথা, প্রস্রাবে জ্বালা বা কখনো রক্ত দেখতে পান, কিন্তু এর পেছনে যে নীরবে গড়ে ওঠা একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া কাজ করে, তা অনেকেরই অজানা।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এই অবস্থাকে কিডনি বা মূত্রনালির পাথর বলা হয়। এটি মূলত শরীরের ভেতরে জমে থাকা বিভিন্ন খনিজ ও লবণের শক্ত স্ফটিক থেকে ধীরে ধীরে তৈরি হয়। শুরুতে এগুলো ছোট থাকায় কোনো উপসর্গ থাকে না, কিন্তু সময়ের সঙ্গে বড় হতে থাকলে তীব্র যন্ত্রণার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এর প্রধান কারণগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো পর্যাপ্ত পানি না খাওয়া। শরীরে পানি কম থাকলে প্রস্রাব ঘন হয়ে যায়, ফলে খনিজ পদার্থ একত্রিত হয়ে স্ফটিক তৈরি করে। গরম আবহাওয়া ও অতিরিক্ত ঘাম এই ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেয়।

খাদ্যাভ্যাসও এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অতিরিক্ত লবণ, প্রাণিজ প্রোটিন এবং কিছু নির্দিষ্ট খাবার বেশি খাওয়ার ফলে কিছু মানুষের ক্ষেত্রে পাথর তৈরির ঝুঁকি বাড়তে পারে। তবে এটি সবার ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রযোজ্য নয়।

বংশগত কারণও অনেক ক্ষেত্রে দায়ী। পরিবারে কারও এই সমস্যা থাকলে অন্যদের মধ্যেও ঝুঁকি বেশি থাকে। এছাড়া স্থূলতা, ডায়াবেটিস, হরমোনজনিত সমস্যা বা দীর্ঘদিন শারীরিক নিষ্ক্রিয়তাও এই রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।

কিছু নির্দিষ্ট ওষুধ দীর্ঘদিন ব্যবহার করলেও শরীরের খনিজ ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে, যা পাথর তৈরির সম্ভাবনা বাড়ায়। এমনকি দীর্ঘ সময় প্রস্রাব চেপে রাখার অভ্যাসও মূত্রতন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে।

পাথর ছোট থাকলে সাধারণত কোনো লক্ষণ দেখা যায় না। কিন্তু বড় হলে তীব্র ব্যথা, প্রস্রাবে জ্বালা, বমিভাব এবং রক্তের মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

চিকিৎসকদের মতে, এই সমস্যা প্রতিরোধে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো পর্যাপ্ত পানি পান করা, সুষম খাদ্য গ্রহণ এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো। সময়মতো সচেতন হলে বড় ধরনের জটিলতা এড়ানো সম্ভব।

কিডনি পাথর হঠাৎ তৈরি হয় না—এটি ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে। তাই দৈনন্দিন ছোট ছোট অভ্যাসই এই নীরব কিন্তু কষ্টদায়ক রোগ থেকে আমাদের রক্ষা করতে পারে।