ঢাকা ১২:৩৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
লিবিয়া থেকে দেশে ফিরলেন ১৬৮ বাংলাদেশি এসএসসির খাতা মূল্যায়নে গাফিলতি করা পরীক্ষকদের শাস্তি হবে: শিক্ষামন্ত্রী গুজরাট থেকে বাংলাদেশে আসছে ইলিশ, এবার উল্টো রপ্তানির অনুমতি চাইছে ভারত ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীকে যথাযথ মর্যাদায় আমন্ত্রণ জানানো হয়নি: স্পিকার ডিএজি নজরুল ইসলাম ছোটনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চেয়ে অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে রুমিন ফারহানার আবেদন নিজ কার্যালয় থেকেই চিকিৎসক-নার্সদের হাজিরা মনিটর করবেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী শেভরনের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক, জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘুষের অভিযোগের তদন্তের পরই বদলি শিক্ষা কর্মকর্তা, উঠছে প্রশ্ন আদানির গোড্ডা কেন্দ্রের ৮০০ মেগাওয়াট ইউনিট থেকে ফের বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ

আদালত ব্যবস্থায় ডিজিটাল রূপান্তর, বিচারপ্রাপ্তি সহজ করতে সরকারের উদ্যোগ

রিফাতুজ্জামান প্রিন্স
  • আপডেট সময় : ০৩:৩৩:৪৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
  • / 103

মামলার জট কমানো, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং নাগরিকদের জন্য ন্যায়বিচার সহজলভ্য করতে আদালতের কার্যক্রম ডিজিটালাইজেশনের উদ্যোগ জোরদার করছে সরকার। এ পদক্ষেপের মাধ্যমে দেশের বিচারব্যবস্থা ধীরে ধীরে একটি আধুনিক রূপান্তরের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিজিটাল আদালত ব্যবস্থার এই অগ্রযাত্রা বিচারপ্রার্থীদের সঙ্গে আদালতের যোগাযোগে নতুন মাত্রা যোগ করবে। এর ফলে দীর্ঘদিনের ধীরগতি ও প্রশাসনিক জটিলতা অনেকাংশে কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জাতীয় সংসদে জানান, ইতোমধ্যে ই-জামিন বন্ড ব্যবস্থাপনা, ই-ফ্যামিলি কোর্ট, অনলাইন কার্যতালিকা এবং বিবাহ ও তালাক নিবন্ধনের ডিজিটালকরণসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কর্মকর্তারা জানান, দেশের কয়েকটি জেলায় ই-জামিন বন্ড চালুর ফলে আইনজীবী, কারা কর্তৃপক্ষ ও মামলাকারীদের সময় ও ব্যয় কমেছে। এখন অনলাইনে জামিননামা জমা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে এটি সারাদেশে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

একইভাবে ই-ফ্যামিলি কোর্ট চালুর ফলে পারিবারিক বিরোধ সংক্রান্ত মামলা অনলাইনে দাখিল, শুনানি ও নিষ্পত্তির সুযোগ তৈরি হয়েছে। এতে বিচার প্রক্রিয়া দ্রুততর হচ্ছে এবং আদালতে সরাসরি উপস্থিতির প্রয়োজন কমছে।

অনলাইন কার্যতালিকা চালুর ফলে সাধারণ মানুষ ঘরে বসেই মামলার তারিখ ও অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে পারছেন। আগে এ তথ্য জানতে আদালতে যেতে হতো বা অন্যের ওপর নির্ভর করতে হতো।

এছাড়া দেশের বিভিন্ন আদালতে তথ্য ও সেবা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে, যা বিচারপ্রার্থীদের মামলার তথ্য পাওয়া এবং প্রস্তুতিতে সহায়তা করছে।

আইনমন্ত্রী বলেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা কমবে এবং মানুষ সময়মতো ন্যায়বিচার পাবে। পাশাপাশি বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে স্বচ্ছতা বাড়বে এবং জালিয়াতি কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এই উদ্যোগগুলোর কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে একটি সমন্বিত ডিজিটাল বিচারব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা, যার মাধ্যমে মামলা দায়ের থেকে নথি সংরক্ষণ পর্যন্ত সব কার্যক্রম একটি প্ল্যাটফর্মে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দ্রুত, স্বচ্ছ ও সাশ্রয়ী বিচার নিশ্চিত করতে এই সংস্কার কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সঠিক বাস্তবায়ন ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নিশ্চিত করা গেলে এই উদ্যোগ দেশের বিচারব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনতে সক্ষম হবে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আদালত ব্যবস্থায় ডিজিটাল রূপান্তর, বিচারপ্রাপ্তি সহজ করতে সরকারের উদ্যোগ

আপডেট সময় : ০৩:৩৩:৪৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

মামলার জট কমানো, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং নাগরিকদের জন্য ন্যায়বিচার সহজলভ্য করতে আদালতের কার্যক্রম ডিজিটালাইজেশনের উদ্যোগ জোরদার করছে সরকার। এ পদক্ষেপের মাধ্যমে দেশের বিচারব্যবস্থা ধীরে ধীরে একটি আধুনিক রূপান্তরের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিজিটাল আদালত ব্যবস্থার এই অগ্রযাত্রা বিচারপ্রার্থীদের সঙ্গে আদালতের যোগাযোগে নতুন মাত্রা যোগ করবে। এর ফলে দীর্ঘদিনের ধীরগতি ও প্রশাসনিক জটিলতা অনেকাংশে কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জাতীয় সংসদে জানান, ইতোমধ্যে ই-জামিন বন্ড ব্যবস্থাপনা, ই-ফ্যামিলি কোর্ট, অনলাইন কার্যতালিকা এবং বিবাহ ও তালাক নিবন্ধনের ডিজিটালকরণসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কর্মকর্তারা জানান, দেশের কয়েকটি জেলায় ই-জামিন বন্ড চালুর ফলে আইনজীবী, কারা কর্তৃপক্ষ ও মামলাকারীদের সময় ও ব্যয় কমেছে। এখন অনলাইনে জামিননামা জমা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে এটি সারাদেশে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

একইভাবে ই-ফ্যামিলি কোর্ট চালুর ফলে পারিবারিক বিরোধ সংক্রান্ত মামলা অনলাইনে দাখিল, শুনানি ও নিষ্পত্তির সুযোগ তৈরি হয়েছে। এতে বিচার প্রক্রিয়া দ্রুততর হচ্ছে এবং আদালতে সরাসরি উপস্থিতির প্রয়োজন কমছে।

অনলাইন কার্যতালিকা চালুর ফলে সাধারণ মানুষ ঘরে বসেই মামলার তারিখ ও অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে পারছেন। আগে এ তথ্য জানতে আদালতে যেতে হতো বা অন্যের ওপর নির্ভর করতে হতো।

এছাড়া দেশের বিভিন্ন আদালতে তথ্য ও সেবা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে, যা বিচারপ্রার্থীদের মামলার তথ্য পাওয়া এবং প্রস্তুতিতে সহায়তা করছে।

আইনমন্ত্রী বলেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা কমবে এবং মানুষ সময়মতো ন্যায়বিচার পাবে। পাশাপাশি বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে স্বচ্ছতা বাড়বে এবং জালিয়াতি কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এই উদ্যোগগুলোর কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে একটি সমন্বিত ডিজিটাল বিচারব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা, যার মাধ্যমে মামলা দায়ের থেকে নথি সংরক্ষণ পর্যন্ত সব কার্যক্রম একটি প্ল্যাটফর্মে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দ্রুত, স্বচ্ছ ও সাশ্রয়ী বিচার নিশ্চিত করতে এই সংস্কার কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সঠিক বাস্তবায়ন ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নিশ্চিত করা গেলে এই উদ্যোগ দেশের বিচারব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনতে সক্ষম হবে।