ঢাকা ১০:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো জামিনের দিনই আদালত প্রাঙ্গণে বিতর্কে পরীমনি, সাংবাদিকদের সঙ্গে অপ্রীতিকর ঘটনায় সমালোচনা স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসে চাকরির সুযোগ, অভিজ্ঞতা ছাড়াই আবেদন করতে পারবেন ৩২ বছর বয়সীরা বাগেরহাটে হযরত খানজাহান আলীর (রহ.) মাজার জিয়ারত করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসকদের ড্রেসআপ নেই, ডাক্তার নাকি দালাল বোঝা মুশকিল: দুদক চেয়ারম্যান সংসদ অধিবেশন ঘিরে ৮ নভেম্বর রাত থেকে সংসদ ভবন এলাকায় সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ ডিসেম্বরের মধ্যেই পোশাকশ্রমিকদের নতুন ন্যূনতম মজুরি ঘোষণার আশ্বাস সরকারের হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশি জাহাজের নিরাপদ পারাপারে সহযোগিতার আশ্বাস ইরানের সাংবাদিকদের গ্রেফতারে আদালতের পূর্বানুমতির বিধান রাখার আলোচনা, সংশোধন হচ্ছে সাইবার সুরক্ষা আইন দ্বিতীয় পদ্মা-যমুনা সেতু ও পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

হামকে জরুরি জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি ঘোষণার দাবি চিকিৎসকদের

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:৫৮:৪৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
  • / 179

দেশে হামের প্রাদুর্ভাব ও শিশু মৃত্যুর ঘটনায় দায়ীদের শাস্তির আওতায় আনা এবং এটিকে ‘জরুরি জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি’ হিসেবে ঘোষণা করার দাবি জানিয়েছে চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস প্ল্যাটফর্ম ফর পিপলস হেলথ।

শনিবার রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘হামে শিশুমৃত্যু: জরুরি জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতিতে করণীয়’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটি এ দাবি জানায়।

সংবাদ সম্মেলনে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও সংগঠনের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী গত ১৫ মার্চ থেকে ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত মাত্র এক মাসে হাম ও হাম-সদৃশ উপসর্গে ২০৬ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৩৪ জনের মৃত্যু পরীক্ষাগারে নিশ্চিত হয়েছে এবং বাকিদের শরীরে হামের স্পষ্ট লক্ষণ ছিল।

তিনি আরও জানান, বর্তমানে সারাদেশে ২০ হাজারেরও বেশি শিশু এই রোগে আক্রান্ত এবং ৩ হাজারের বেশি শিশু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, এসব মৃত্যু প্রতিরোধযোগ্য ছিল। সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া গেলে অনেক শিশুর প্রাণ রক্ষা করা যেত। তার মতে, টিকা সংগ্রহে অবহেলা ও প্রশাসনিক দেরির কারণে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি দুর্বল হয়ে পড়েছে। এজন্য দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত।

দেশে হামের মহামারি চলছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকার স্বীকার করুক বা না করুক, দেশে বর্তমানে হামের মহামারির পরিস্থিতি বিদ্যমান। জনমনে আতঙ্ক বা প্রশাসনিক জটিলতার কারণে সরকার এটিকে জরুরি জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি ঘোষণা করছে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন, ইতোমধ্যে শুরু হওয়া গণটিকাদান কর্মসূচির ফলে আগামী দেড় মাসের মধ্যে সংক্রমণ এবং আড়াই মাসের মধ্যে মৃত্যুহার কমে আসতে পারে।

সংগঠনের আহ্বায়ক অধ্যাপক মাহবুব-ই-রশিদ বলেন, এক সময় বাংলাদেশ সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে সফল ছিল। কিন্তু দায়িত্বশীলতার ঘাটতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে হামের মতো রোগ নিয়ন্ত্রণে দেশ পিছিয়ে পড়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

হামকে জরুরি জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি ঘোষণার দাবি চিকিৎসকদের

আপডেট সময় : ০৬:৫৮:৪৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

দেশে হামের প্রাদুর্ভাব ও শিশু মৃত্যুর ঘটনায় দায়ীদের শাস্তির আওতায় আনা এবং এটিকে ‘জরুরি জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি’ হিসেবে ঘোষণা করার দাবি জানিয়েছে চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস প্ল্যাটফর্ম ফর পিপলস হেলথ।

শনিবার রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘হামে শিশুমৃত্যু: জরুরি জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতিতে করণীয়’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটি এ দাবি জানায়।

সংবাদ সম্মেলনে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও সংগঠনের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী গত ১৫ মার্চ থেকে ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত মাত্র এক মাসে হাম ও হাম-সদৃশ উপসর্গে ২০৬ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৩৪ জনের মৃত্যু পরীক্ষাগারে নিশ্চিত হয়েছে এবং বাকিদের শরীরে হামের স্পষ্ট লক্ষণ ছিল।

তিনি আরও জানান, বর্তমানে সারাদেশে ২০ হাজারেরও বেশি শিশু এই রোগে আক্রান্ত এবং ৩ হাজারের বেশি শিশু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, এসব মৃত্যু প্রতিরোধযোগ্য ছিল। সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া গেলে অনেক শিশুর প্রাণ রক্ষা করা যেত। তার মতে, টিকা সংগ্রহে অবহেলা ও প্রশাসনিক দেরির কারণে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি দুর্বল হয়ে পড়েছে। এজন্য দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত।

দেশে হামের মহামারি চলছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকার স্বীকার করুক বা না করুক, দেশে বর্তমানে হামের মহামারির পরিস্থিতি বিদ্যমান। জনমনে আতঙ্ক বা প্রশাসনিক জটিলতার কারণে সরকার এটিকে জরুরি জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি ঘোষণা করছে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন, ইতোমধ্যে শুরু হওয়া গণটিকাদান কর্মসূচির ফলে আগামী দেড় মাসের মধ্যে সংক্রমণ এবং আড়াই মাসের মধ্যে মৃত্যুহার কমে আসতে পারে।

সংগঠনের আহ্বায়ক অধ্যাপক মাহবুব-ই-রশিদ বলেন, এক সময় বাংলাদেশ সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে সফল ছিল। কিন্তু দায়িত্বশীলতার ঘাটতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে হামের মতো রোগ নিয়ন্ত্রণে দেশ পিছিয়ে পড়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।