ঢাকা ০৪:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
আইএমএফের সব শর্ত মানা বাধ্যতামূলক নয়: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান জামায়াত এমপি আমির হামজার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি ঢাকার ১৫০ শিক্ষার্থী প্রত্যক্ষ করতে পারবেন সংসদ অধিবেশন, মানতে হবে ৬ শর্ত স্পেনে অনিয়মিত অভিবাসীদের বৈধতা দিতে নতুন ডিক্রি, উপকৃত হতে পারেন লাখো মানুষ চট্টগ্রাম সিটি কলেজে ছাত্রদল–ছাত্রশিবির সংঘর্ষ, ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত ইরানের সঙ্গে চুক্তি না হলে অবরোধ থাকবে, হরমুজ নিয়ে উত্তেজনা বাড়ছে: ট্রাম্প চীনে পরীক্ষায় নকল ঠেকাতে নতুন চ্যালেঞ্জ: এআই স্মার্ট চশমার অপব্যবহার জার্মান রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে জামায়াত আমিরের বৈঠক, গণতন্ত্র ও দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা আজকের মুদ্রা বিনিময় হার প্রকাশ করল বাংলাদেশ ব্যাংক ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি আলোচনার আশায় তেলের দাম কমছে

হামকে জরুরি জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি ঘোষণার দাবি চিকিৎসকদের

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:৫৮:৪৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
  • / 11
অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দেশে হামের প্রাদুর্ভাব ও শিশু মৃত্যুর ঘটনায় দায়ীদের শাস্তির আওতায় আনা এবং এটিকে ‘জরুরি জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি’ হিসেবে ঘোষণা করার দাবি জানিয়েছে চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস প্ল্যাটফর্ম ফর পিপলস হেলথ।

শনিবার রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘হামে শিশুমৃত্যু: জরুরি জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতিতে করণীয়’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটি এ দাবি জানায়।

সংবাদ সম্মেলনে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও সংগঠনের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী গত ১৫ মার্চ থেকে ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত মাত্র এক মাসে হাম ও হাম-সদৃশ উপসর্গে ২০৬ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৩৪ জনের মৃত্যু পরীক্ষাগারে নিশ্চিত হয়েছে এবং বাকিদের শরীরে হামের স্পষ্ট লক্ষণ ছিল।

তিনি আরও জানান, বর্তমানে সারাদেশে ২০ হাজারেরও বেশি শিশু এই রোগে আক্রান্ত এবং ৩ হাজারের বেশি শিশু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, এসব মৃত্যু প্রতিরোধযোগ্য ছিল। সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া গেলে অনেক শিশুর প্রাণ রক্ষা করা যেত। তার মতে, টিকা সংগ্রহে অবহেলা ও প্রশাসনিক দেরির কারণে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি দুর্বল হয়ে পড়েছে। এজন্য দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত।

দেশে হামের মহামারি চলছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকার স্বীকার করুক বা না করুক, দেশে বর্তমানে হামের মহামারির পরিস্থিতি বিদ্যমান। জনমনে আতঙ্ক বা প্রশাসনিক জটিলতার কারণে সরকার এটিকে জরুরি জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি ঘোষণা করছে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন, ইতোমধ্যে শুরু হওয়া গণটিকাদান কর্মসূচির ফলে আগামী দেড় মাসের মধ্যে সংক্রমণ এবং আড়াই মাসের মধ্যে মৃত্যুহার কমে আসতে পারে।

সংগঠনের আহ্বায়ক অধ্যাপক মাহবুব-ই-রশিদ বলেন, এক সময় বাংলাদেশ সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে সফল ছিল। কিন্তু দায়িত্বশীলতার ঘাটতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে হামের মতো রোগ নিয়ন্ত্রণে দেশ পিছিয়ে পড়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

হামকে জরুরি জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি ঘোষণার দাবি চিকিৎসকদের

আপডেট সময় : ০৬:৫৮:৪৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

দেশে হামের প্রাদুর্ভাব ও শিশু মৃত্যুর ঘটনায় দায়ীদের শাস্তির আওতায় আনা এবং এটিকে ‘জরুরি জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি’ হিসেবে ঘোষণা করার দাবি জানিয়েছে চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস প্ল্যাটফর্ম ফর পিপলস হেলথ।

শনিবার রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘হামে শিশুমৃত্যু: জরুরি জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতিতে করণীয়’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটি এ দাবি জানায়।

সংবাদ সম্মেলনে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও সংগঠনের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী গত ১৫ মার্চ থেকে ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত মাত্র এক মাসে হাম ও হাম-সদৃশ উপসর্গে ২০৬ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৩৪ জনের মৃত্যু পরীক্ষাগারে নিশ্চিত হয়েছে এবং বাকিদের শরীরে হামের স্পষ্ট লক্ষণ ছিল।

তিনি আরও জানান, বর্তমানে সারাদেশে ২০ হাজারেরও বেশি শিশু এই রোগে আক্রান্ত এবং ৩ হাজারের বেশি শিশু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, এসব মৃত্যু প্রতিরোধযোগ্য ছিল। সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া গেলে অনেক শিশুর প্রাণ রক্ষা করা যেত। তার মতে, টিকা সংগ্রহে অবহেলা ও প্রশাসনিক দেরির কারণে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি দুর্বল হয়ে পড়েছে। এজন্য দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত।

দেশে হামের মহামারি চলছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকার স্বীকার করুক বা না করুক, দেশে বর্তমানে হামের মহামারির পরিস্থিতি বিদ্যমান। জনমনে আতঙ্ক বা প্রশাসনিক জটিলতার কারণে সরকার এটিকে জরুরি জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি ঘোষণা করছে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন, ইতোমধ্যে শুরু হওয়া গণটিকাদান কর্মসূচির ফলে আগামী দেড় মাসের মধ্যে সংক্রমণ এবং আড়াই মাসের মধ্যে মৃত্যুহার কমে আসতে পারে।

সংগঠনের আহ্বায়ক অধ্যাপক মাহবুব-ই-রশিদ বলেন, এক সময় বাংলাদেশ সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে সফল ছিল। কিন্তু দায়িত্বশীলতার ঘাটতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে হামের মতো রোগ নিয়ন্ত্রণে দেশ পিছিয়ে পড়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।