ঢাকা ০৮:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
১ আগস্ট থেকে সব গণপরিবহণে জিপিএস বাধ্যতামূলক, ঘোষণা বিআরটিএ সারাদেশে ২ হাজার মিনি কোল্ড স্টোরেজ স্থাপন করবে সরকার, সুবিধা পাবেন ৪০ হাজার কৃষক হাসপাতাল বন্ধ, মেডিকেল কলেজ নয়: শিক্ষার্থীরা অন্য হাসপাতালে প্র্যাকটিস করতে পারবে—স্বাস্থ্যমন্ত্রী আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের অন্য হাসপাতালে সংযুক্ত করার নির্দেশ, লাইসেন্স বাতিলের পর নতুন সিদ্ধান্ত দুদকের অনুসন্ধানের পর দেশ ছাড়েন সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, দুবাইয়ে গ্রেফতার ঘিরে নতুন আলোচনা দেশজুড়ে শুরু হচ্ছে ‘নজরুল বর্ষ’ উদ্বোধন, ১৮ জুন থেকে তিন দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য আয়োজন নরসিংদীতে নতুন সরকারি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার অনুমোদন দিল সরকার শিক্ষা বাজেটে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার তিন বিষয়ে: ‘শিক্ষা, শিক্ষা ও শিক্ষা’—শিক্ষামন্ত্রী মণিরামপুরে জামায়াতের তিন নেতা পদ স্থগিত, মাটি বাণিজ্য ও সংঘর্ষের অভিযোগে বড় সিদ্ধান্ত তারল্য সংকটে ইসলামী ব্যাংককে ২,৫০০ কোটি টাকা বিশেষ সহায়তা দিল বাংলাদেশ ব্যাংক

হামকে জরুরি জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি ঘোষণার দাবি চিকিৎসকদের

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:৫৮:৪৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
  • / 54
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দেশে হামের প্রাদুর্ভাব ও শিশু মৃত্যুর ঘটনায় দায়ীদের শাস্তির আওতায় আনা এবং এটিকে ‘জরুরি জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি’ হিসেবে ঘোষণা করার দাবি জানিয়েছে চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস প্ল্যাটফর্ম ফর পিপলস হেলথ।

শনিবার রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘হামে শিশুমৃত্যু: জরুরি জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতিতে করণীয়’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটি এ দাবি জানায়।

সংবাদ সম্মেলনে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও সংগঠনের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী গত ১৫ মার্চ থেকে ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত মাত্র এক মাসে হাম ও হাম-সদৃশ উপসর্গে ২০৬ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৩৪ জনের মৃত্যু পরীক্ষাগারে নিশ্চিত হয়েছে এবং বাকিদের শরীরে হামের স্পষ্ট লক্ষণ ছিল।

তিনি আরও জানান, বর্তমানে সারাদেশে ২০ হাজারেরও বেশি শিশু এই রোগে আক্রান্ত এবং ৩ হাজারের বেশি শিশু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, এসব মৃত্যু প্রতিরোধযোগ্য ছিল। সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া গেলে অনেক শিশুর প্রাণ রক্ষা করা যেত। তার মতে, টিকা সংগ্রহে অবহেলা ও প্রশাসনিক দেরির কারণে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি দুর্বল হয়ে পড়েছে। এজন্য দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত।

দেশে হামের মহামারি চলছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকার স্বীকার করুক বা না করুক, দেশে বর্তমানে হামের মহামারির পরিস্থিতি বিদ্যমান। জনমনে আতঙ্ক বা প্রশাসনিক জটিলতার কারণে সরকার এটিকে জরুরি জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি ঘোষণা করছে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন, ইতোমধ্যে শুরু হওয়া গণটিকাদান কর্মসূচির ফলে আগামী দেড় মাসের মধ্যে সংক্রমণ এবং আড়াই মাসের মধ্যে মৃত্যুহার কমে আসতে পারে।

সংগঠনের আহ্বায়ক অধ্যাপক মাহবুব-ই-রশিদ বলেন, এক সময় বাংলাদেশ সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে সফল ছিল। কিন্তু দায়িত্বশীলতার ঘাটতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে হামের মতো রোগ নিয়ন্ত্রণে দেশ পিছিয়ে পড়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

হামকে জরুরি জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি ঘোষণার দাবি চিকিৎসকদের

আপডেট সময় : ০৬:৫৮:৪৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

দেশে হামের প্রাদুর্ভাব ও শিশু মৃত্যুর ঘটনায় দায়ীদের শাস্তির আওতায় আনা এবং এটিকে ‘জরুরি জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি’ হিসেবে ঘোষণা করার দাবি জানিয়েছে চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস প্ল্যাটফর্ম ফর পিপলস হেলথ।

শনিবার রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘হামে শিশুমৃত্যু: জরুরি জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতিতে করণীয়’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটি এ দাবি জানায়।

সংবাদ সম্মেলনে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও সংগঠনের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী গত ১৫ মার্চ থেকে ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত মাত্র এক মাসে হাম ও হাম-সদৃশ উপসর্গে ২০৬ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৩৪ জনের মৃত্যু পরীক্ষাগারে নিশ্চিত হয়েছে এবং বাকিদের শরীরে হামের স্পষ্ট লক্ষণ ছিল।

তিনি আরও জানান, বর্তমানে সারাদেশে ২০ হাজারেরও বেশি শিশু এই রোগে আক্রান্ত এবং ৩ হাজারের বেশি শিশু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, এসব মৃত্যু প্রতিরোধযোগ্য ছিল। সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া গেলে অনেক শিশুর প্রাণ রক্ষা করা যেত। তার মতে, টিকা সংগ্রহে অবহেলা ও প্রশাসনিক দেরির কারণে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি দুর্বল হয়ে পড়েছে। এজন্য দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত।

দেশে হামের মহামারি চলছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকার স্বীকার করুক বা না করুক, দেশে বর্তমানে হামের মহামারির পরিস্থিতি বিদ্যমান। জনমনে আতঙ্ক বা প্রশাসনিক জটিলতার কারণে সরকার এটিকে জরুরি জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি ঘোষণা করছে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন, ইতোমধ্যে শুরু হওয়া গণটিকাদান কর্মসূচির ফলে আগামী দেড় মাসের মধ্যে সংক্রমণ এবং আড়াই মাসের মধ্যে মৃত্যুহার কমে আসতে পারে।

সংগঠনের আহ্বায়ক অধ্যাপক মাহবুব-ই-রশিদ বলেন, এক সময় বাংলাদেশ সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে সফল ছিল। কিন্তু দায়িত্বশীলতার ঘাটতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে হামের মতো রোগ নিয়ন্ত্রণে দেশ পিছিয়ে পড়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।