ঢাকা ১১:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
আগস্টেও বাড়ছে না জ্বালানি তেলের দাম, অপরিবর্তিত থাকছে সব ধরনের জ্বালানির মূল্য প্রথমবার লটারিতে গণপূর্তের ৭৬৭ উপ-সহকারী প্রকৌশলীর বদলি, নতুন নজির সরকারের মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খুলল, আগস্টের শেষ সপ্তাহ থেকেই যেতে পারবেন বাংলাদেশি কর্মীরা হজযাত্রীদের জন্য বড় সুখবর, বিমান টিকিটে আরও ২৫ হাজার টাকা কমানোর ঘোষণা ধামা ইলিয়াছের তথ্যে গ্রেফতার ডেভিড ইমন, উদ্ধার বিদেশি পিস্তলসহ অস্ত্রের মজুদ ৪ আগস্ট বিএনপির আলোচনা সভা, প্রধান অতিথি থাকবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একীভূত ৫ ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের জন্য সুখবর, ১০ লাখ টাকা উত্তোলনের সুযোগ আরও সহজ বাংলাদেশের ৩ লাখ ও মালয়েশিয়ার ৫ হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরত নিতে রাজি মিয়ানমার ১০০ মিলিয়ন ইউরোর প্রস্তাব ফিরিয়েছিলেন লেভানডফস্কি, কারণ জানালেন তার এজেন্ট আমি আইনের ওপর বিশ্বাসী, সত্য একদিন প্রকাশ হবেই’— বিয়ে ও মামলা নিয়ে মুখ খুললেন পরীমনি

হামকে জরুরি জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি ঘোষণার দাবি চিকিৎসকদের

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:৫৮:৪৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
  • / 86

দেশে হামের প্রাদুর্ভাব ও শিশু মৃত্যুর ঘটনায় দায়ীদের শাস্তির আওতায় আনা এবং এটিকে ‘জরুরি জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি’ হিসেবে ঘোষণা করার দাবি জানিয়েছে চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস প্ল্যাটফর্ম ফর পিপলস হেলথ।

শনিবার রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘হামে শিশুমৃত্যু: জরুরি জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতিতে করণীয়’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটি এ দাবি জানায়।

সংবাদ সম্মেলনে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও সংগঠনের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী গত ১৫ মার্চ থেকে ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত মাত্র এক মাসে হাম ও হাম-সদৃশ উপসর্গে ২০৬ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৩৪ জনের মৃত্যু পরীক্ষাগারে নিশ্চিত হয়েছে এবং বাকিদের শরীরে হামের স্পষ্ট লক্ষণ ছিল।

তিনি আরও জানান, বর্তমানে সারাদেশে ২০ হাজারেরও বেশি শিশু এই রোগে আক্রান্ত এবং ৩ হাজারের বেশি শিশু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, এসব মৃত্যু প্রতিরোধযোগ্য ছিল। সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া গেলে অনেক শিশুর প্রাণ রক্ষা করা যেত। তার মতে, টিকা সংগ্রহে অবহেলা ও প্রশাসনিক দেরির কারণে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি দুর্বল হয়ে পড়েছে। এজন্য দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত।

দেশে হামের মহামারি চলছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকার স্বীকার করুক বা না করুক, দেশে বর্তমানে হামের মহামারির পরিস্থিতি বিদ্যমান। জনমনে আতঙ্ক বা প্রশাসনিক জটিলতার কারণে সরকার এটিকে জরুরি জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি ঘোষণা করছে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন, ইতোমধ্যে শুরু হওয়া গণটিকাদান কর্মসূচির ফলে আগামী দেড় মাসের মধ্যে সংক্রমণ এবং আড়াই মাসের মধ্যে মৃত্যুহার কমে আসতে পারে।

সংগঠনের আহ্বায়ক অধ্যাপক মাহবুব-ই-রশিদ বলেন, এক সময় বাংলাদেশ সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে সফল ছিল। কিন্তু দায়িত্বশীলতার ঘাটতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে হামের মতো রোগ নিয়ন্ত্রণে দেশ পিছিয়ে পড়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

হামকে জরুরি জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি ঘোষণার দাবি চিকিৎসকদের

আপডেট সময় : ০৬:৫৮:৪৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

দেশে হামের প্রাদুর্ভাব ও শিশু মৃত্যুর ঘটনায় দায়ীদের শাস্তির আওতায় আনা এবং এটিকে ‘জরুরি জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি’ হিসেবে ঘোষণা করার দাবি জানিয়েছে চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস প্ল্যাটফর্ম ফর পিপলস হেলথ।

শনিবার রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘হামে শিশুমৃত্যু: জরুরি জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতিতে করণীয়’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটি এ দাবি জানায়।

সংবাদ সম্মেলনে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও সংগঠনের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী গত ১৫ মার্চ থেকে ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত মাত্র এক মাসে হাম ও হাম-সদৃশ উপসর্গে ২০৬ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৩৪ জনের মৃত্যু পরীক্ষাগারে নিশ্চিত হয়েছে এবং বাকিদের শরীরে হামের স্পষ্ট লক্ষণ ছিল।

তিনি আরও জানান, বর্তমানে সারাদেশে ২০ হাজারেরও বেশি শিশু এই রোগে আক্রান্ত এবং ৩ হাজারের বেশি শিশু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, এসব মৃত্যু প্রতিরোধযোগ্য ছিল। সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া গেলে অনেক শিশুর প্রাণ রক্ষা করা যেত। তার মতে, টিকা সংগ্রহে অবহেলা ও প্রশাসনিক দেরির কারণে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি দুর্বল হয়ে পড়েছে। এজন্য দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত।

দেশে হামের মহামারি চলছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকার স্বীকার করুক বা না করুক, দেশে বর্তমানে হামের মহামারির পরিস্থিতি বিদ্যমান। জনমনে আতঙ্ক বা প্রশাসনিক জটিলতার কারণে সরকার এটিকে জরুরি জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি ঘোষণা করছে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন, ইতোমধ্যে শুরু হওয়া গণটিকাদান কর্মসূচির ফলে আগামী দেড় মাসের মধ্যে সংক্রমণ এবং আড়াই মাসের মধ্যে মৃত্যুহার কমে আসতে পারে।

সংগঠনের আহ্বায়ক অধ্যাপক মাহবুব-ই-রশিদ বলেন, এক সময় বাংলাদেশ সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে সফল ছিল। কিন্তু দায়িত্বশীলতার ঘাটতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে হামের মতো রোগ নিয়ন্ত্রণে দেশ পিছিয়ে পড়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।