ঢাকা ০১:২৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
লিবিয়া থেকে দেশে ফিরলেন ১৬৮ বাংলাদেশি এসএসসির খাতা মূল্যায়নে গাফিলতি করা পরীক্ষকদের শাস্তি হবে: শিক্ষামন্ত্রী গুজরাট থেকে বাংলাদেশে আসছে ইলিশ, এবার উল্টো রপ্তানির অনুমতি চাইছে ভারত ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীকে যথাযথ মর্যাদায় আমন্ত্রণ জানানো হয়নি: স্পিকার ডিএজি নজরুল ইসলাম ছোটনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চেয়ে অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে রুমিন ফারহানার আবেদন নিজ কার্যালয় থেকেই চিকিৎসক-নার্সদের হাজিরা মনিটর করবেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী শেভরনের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক, জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘুষের অভিযোগের তদন্তের পরই বদলি শিক্ষা কর্মকর্তা, উঠছে প্রশ্ন আদানির গোড্ডা কেন্দ্রের ৮০০ মেগাওয়াট ইউনিট থেকে ফের বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ

হামকে জরুরি জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি ঘোষণার দাবি চিকিৎসকদের

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:৫৮:৪৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
  • / 111

দেশে হামের প্রাদুর্ভাব ও শিশু মৃত্যুর ঘটনায় দায়ীদের শাস্তির আওতায় আনা এবং এটিকে ‘জরুরি জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি’ হিসেবে ঘোষণা করার দাবি জানিয়েছে চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস প্ল্যাটফর্ম ফর পিপলস হেলথ।

শনিবার রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘হামে শিশুমৃত্যু: জরুরি জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতিতে করণীয়’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটি এ দাবি জানায়।

সংবাদ সম্মেলনে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও সংগঠনের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী গত ১৫ মার্চ থেকে ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত মাত্র এক মাসে হাম ও হাম-সদৃশ উপসর্গে ২০৬ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৩৪ জনের মৃত্যু পরীক্ষাগারে নিশ্চিত হয়েছে এবং বাকিদের শরীরে হামের স্পষ্ট লক্ষণ ছিল।

তিনি আরও জানান, বর্তমানে সারাদেশে ২০ হাজারেরও বেশি শিশু এই রোগে আক্রান্ত এবং ৩ হাজারের বেশি শিশু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, এসব মৃত্যু প্রতিরোধযোগ্য ছিল। সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া গেলে অনেক শিশুর প্রাণ রক্ষা করা যেত। তার মতে, টিকা সংগ্রহে অবহেলা ও প্রশাসনিক দেরির কারণে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি দুর্বল হয়ে পড়েছে। এজন্য দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত।

দেশে হামের মহামারি চলছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকার স্বীকার করুক বা না করুক, দেশে বর্তমানে হামের মহামারির পরিস্থিতি বিদ্যমান। জনমনে আতঙ্ক বা প্রশাসনিক জটিলতার কারণে সরকার এটিকে জরুরি জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি ঘোষণা করছে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন, ইতোমধ্যে শুরু হওয়া গণটিকাদান কর্মসূচির ফলে আগামী দেড় মাসের মধ্যে সংক্রমণ এবং আড়াই মাসের মধ্যে মৃত্যুহার কমে আসতে পারে।

সংগঠনের আহ্বায়ক অধ্যাপক মাহবুব-ই-রশিদ বলেন, এক সময় বাংলাদেশ সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে সফল ছিল। কিন্তু দায়িত্বশীলতার ঘাটতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে হামের মতো রোগ নিয়ন্ত্রণে দেশ পিছিয়ে পড়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

হামকে জরুরি জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি ঘোষণার দাবি চিকিৎসকদের

আপডেট সময় : ০৬:৫৮:৪৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

দেশে হামের প্রাদুর্ভাব ও শিশু মৃত্যুর ঘটনায় দায়ীদের শাস্তির আওতায় আনা এবং এটিকে ‘জরুরি জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি’ হিসেবে ঘোষণা করার দাবি জানিয়েছে চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস প্ল্যাটফর্ম ফর পিপলস হেলথ।

শনিবার রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘হামে শিশুমৃত্যু: জরুরি জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতিতে করণীয়’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটি এ দাবি জানায়।

সংবাদ সম্মেলনে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও সংগঠনের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী গত ১৫ মার্চ থেকে ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত মাত্র এক মাসে হাম ও হাম-সদৃশ উপসর্গে ২০৬ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৩৪ জনের মৃত্যু পরীক্ষাগারে নিশ্চিত হয়েছে এবং বাকিদের শরীরে হামের স্পষ্ট লক্ষণ ছিল।

তিনি আরও জানান, বর্তমানে সারাদেশে ২০ হাজারেরও বেশি শিশু এই রোগে আক্রান্ত এবং ৩ হাজারের বেশি শিশু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, এসব মৃত্যু প্রতিরোধযোগ্য ছিল। সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া গেলে অনেক শিশুর প্রাণ রক্ষা করা যেত। তার মতে, টিকা সংগ্রহে অবহেলা ও প্রশাসনিক দেরির কারণে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি দুর্বল হয়ে পড়েছে। এজন্য দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত।

দেশে হামের মহামারি চলছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকার স্বীকার করুক বা না করুক, দেশে বর্তমানে হামের মহামারির পরিস্থিতি বিদ্যমান। জনমনে আতঙ্ক বা প্রশাসনিক জটিলতার কারণে সরকার এটিকে জরুরি জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি ঘোষণা করছে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন, ইতোমধ্যে শুরু হওয়া গণটিকাদান কর্মসূচির ফলে আগামী দেড় মাসের মধ্যে সংক্রমণ এবং আড়াই মাসের মধ্যে মৃত্যুহার কমে আসতে পারে।

সংগঠনের আহ্বায়ক অধ্যাপক মাহবুব-ই-রশিদ বলেন, এক সময় বাংলাদেশ সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে সফল ছিল। কিন্তু দায়িত্বশীলতার ঘাটতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে হামের মতো রোগ নিয়ন্ত্রণে দেশ পিছিয়ে পড়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।