ঢাকা ০৯:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
নতুন পে স্কেলে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন নিয়ে সিদ্ধান্ত অর্থ মন্ত্রণালয়ের হাতে দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শন ও জনসভায় যোগ দিতে রাজশাহীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ৯ মাসে ৫১৮ সাংবাদিক নির্যাতনের শিকার, মব সহিংসতায় নিহত ১৮৭: এইচআরএসএস জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধনে যাননি কেন, প্রধানমন্ত্রীর ক্ষোভের জবাব দিলেন গোলাম পরওয়ার তেলের দাম ও মূল্যস্ফীতির চাপে কমল স্বর্ণের দর, নজর ফেডের সুদের হার সিদ্ধান্তে লিবিয়ায় নিরাপত্তা বাহিনীর প্রশিক্ষণকেন্দ্রে গোলাবারুদ বিস্ফোরণ, নিহত ৮ ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়ে উয়েফার ৪২ প্রশ্ন, ২ নভেম্বরের মধ্যে জবাব চায় ফিফার ইউরোপীয় সংস্থা লাল পেড়ে সাদা শাড়িতে পূজা চেরীর মুগ্ধতা, মহাষ্টমীর সাজে মুগ্ধ ভক্তরা শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংকে চাকরির সুযোগ, আবেদন করা যাবে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত জাতীয়করণ হওয়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের এমপিও ইনডেক্স কর্তনের নির্দেশ

বাংলাদেশের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের অনুপ্রেরণায় ভারতে ক্ষমতার পরিবর্তনের পরিকল্পনা? বিজেপির অভিযোগ ঘিরে বিতর্ক

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৫:৪৩:০৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
  • / 31

বাংলাদেশের ছাত্র-জনতার আন্দোলন থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে ভারতে ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছে দেশটির ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। শিক্ষার্থী আন্দোলনের সংগঠক নেহা বোরার একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে এ অভিযোগ সামনে এনেছেন বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র প্রদীপ ভান্ডারি। তাঁর দাবি, ভিডিওতে বাংলাদেশের আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে নেহা বোরার দেওয়া বক্তব্য ভারতে ক্ষমতার পরিবর্তনের পরিকল্পনার ইঙ্গিত দেয়। তবে ভিডিওতে নেহা সরাসরি ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটানোর কোনো পরিকল্পনার কথা বলেননি।

দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষ করে জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব আর্টস অ্যান্ড অ্যাসথেটিকসে পিএইচডি শুরু করা ২৯ বছর বয়সী নেহা বোরার একটি তারিখবিহীন সাক্ষাৎকারের ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, ভারতে বর্তমানে যে জেন-জি আন্দোলন দেখা যাচ্ছে, তার সূচনা হয়েছিল বাংলাদেশে।

ভিডিওতে নেহা বলেন, ‘এই দেশে আমরা সর্বত্র যে জেন-জি আন্দোলন দেখছি, তা প্রথম শুরু হয়েছিল বাংলাদেশে। আমাদের পথ দেখানোর এবং এ দেশের তরুণদের প্রতি সংহতি জানানোর জন্য আপনাদের অভিনন্দন।’

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা ছাত্র-নেতৃত্বাধীন বিক্ষোভের মুখে বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের পতন ঘটে। পরবর্তী সময়ে ওই আন্দোলন দেশজুড়ে প্রাণঘাতী সহিংসতায় রূপ নেয়।

নেহা বোরার বক্তব্যে বাংলাদেশের আন্দোলনের পাশাপাশি ভারতের গণতান্ত্রিক অধিকার ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিও উঠে আসে। দেশটির প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে কথিত নির্বাচনি অনিয়মের অভিযোগে চলমান প্রতিবাদের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বাংলাদেশে শুরু হওয়া আন্দোলন ছিল গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে। ভারতে তরুণদের নেতৃত্বে চলমান আন্দোলনের লক্ষ্যও একই ধরনের অধিকার প্রতিষ্ঠা।

নেহা বলেন, ‘আমরা জানি, বাংলাদেশে যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল, তা ছিল গণতান্ত্রিক ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য। আজ ভারতের তরুণরা যে আন্দোলনে অংশ নিচ্ছেন এবং নেতৃত্ব দিচ্ছেন, সেটিও গণতান্ত্রিক অধিকার ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন।’

বাংলাদেশে ধর্মীয় মৌলবাদের বিরুদ্ধে চলমান লড়াইয়ের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘আপনাদের দেশে ধর্মীয় মৌলবাদের বিরুদ্ধে যে লড়াই চলছে, আজ এ দেশের জেন-জি ও তরুণরাও একই ধরনের লড়াই করছেন।’

নেহার এই বক্তব্যের ভিত্তিতে বিজেপির মুখপাত্র প্রদীপ ভান্ডারি অভিযোগ করেন, কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও তাঁর রাজনৈতিক বলয়ের লক্ষ্য কেবল সরকারের বিরোধিতা করা নয়; বরং ভারতে ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটানো। ভিডিওতে ভান্ডারিকে উচ্চকণ্ঠে এসব অভিযোগ উত্থাপন করতে দেখা যায়।

ভান্ডারির দাবি, বাংলাদেশের জেন-জি আন্দোলন থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে ভারতে একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরির পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, রাহুল গান্ধীর উদ্দেশ্য রাজনৈতিক প্রতিরোধের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং ভারতের সংবিধান ও গণতন্ত্রকে দুর্বল করাও এর অংশ। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, কংগ্রেসের পুরো রাজনৈতিক বলয় বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া ঘটনার মতো ভারতে ক্ষমতার পরিবর্তনের দিকে মনোযোগী। তবে এসব বক্তব্য বিজেপি মুখপাত্রের রাজনৈতিক অভিযোগ; নেহা বোরার ভিডিওতে সরাসরি এমন পরিকল্পনার কথা উল্লেখ নেই।

একই সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশ ও ভারতের জনগণের একসঙ্গে কাজ করার মাধ্যমে উন্নত দক্ষিণ এশিয়া এবং আরও ভালো বিশ্ব গড়ে তোলার আশাবাদ ব্যক্ত করেন নেহা। তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করি, বাংলাদেশে আপনারা এবং ভারতে আমরা একসঙ্গে একটি উন্নত দক্ষিণ এশিয়া ও আরও ভালো বিশ্বের জন্য লড়াই করতে পারব।’
চলতি সপ্তাহে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র নেতাদের সঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের উদ্দেশে আয়োজিত মিছিলে অংশ নেন নেহা বোরা।

পরে এক সংবাদ সম্মেলনে রাহুল গান্ধী বিভিন্ন প্রতিবাদ কর্মসূচিকে পৃথক আন্দোলন হিসেবে বিবেচনা করতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি বলেন, ‘সব প্রতিবাদই একটি প্রতিবাদ। এখানে সমান্তরাল কোনো প্রতিবাদ নেই। ভারত এগিয়ে যাচ্ছে।’

রাহুল গান্ধী আরও জানান, সংবিধান রক্ষার জন্য যাঁরা আন্দোলন করছেন, তাঁরা যে রাজনৈতিক সংগঠনেরই হোন না কেন, তাঁদের পাশে থাকবে তাঁর দল। ভারতের জনগণের প্রতি ভালোবাসার প্রকাশ হিসেবেও প্রতিবাদকে উল্লেখ করেন তিনি।

বিক্ষোভে পরিচিত মুখ নেহা বোরা
কথাবার্তায় শান্ত স্বভাবের হলেও মাইক্রোফোন হাতে জোরালো বক্তব্য দেওয়ার জন্য পরিচিত নেহা বোরা। হিন্দি ও ইংরেজিতে বক্তৃতার মাধ্যমে তিনি অনুসারী তৈরি করেছেন। তাঁর বক্তব্যে প্রায়ই সাংবিধানিক অধিকার, বৈষম্য এবং সরকারের জবাবদিহির মতো বিষয় গুরুত্ব পায়।

পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে গত জুলাইয়ে আয়োজিত বিক্ষোভের সময় ব্যাপক পরিচিতি পান নেহা। সে সময় অন্য আন্দোলনকারীদের সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে সোচ্চার হন তিনি। ঐতিহাসিক প্রতিবাদস্থল যন্তর মন্তরে সরকারের ভূমিকা এবং বিক্ষোভকারীদের প্রতি পুলিশের আচরণের সমালোচনা করে দেওয়া তাঁর বক্তব্য অনলাইনে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।

এরপর থেকে দিল্লির বিভিন্ন প্রতিবাদ কর্মসূচিতে নিয়মিত দেখা যাচ্ছে তাঁকে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত বিক্ষোভের সময় একাধিকবার আটকও হন তিনি। মুক্তি পাওয়ার পর আবারও প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যোগ দেন নেহা।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেহা বলেন, বর্তমান আন্দোলন কেবল কোনো নির্দিষ্ট আদর্শের ওপর নির্ভরশীল নয়; মানুষের মধ্যে আশার সঞ্চারও এর অন্যতম চালিকাশক্তি। তাঁর ভাষায়, ‘ভয় অবশ্যই সংক্রামক। কিন্তু আশাও সংক্রামক। মানুষ এখন সাহস পাচ্ছে, কারণ তারা মনে করছে, তারাও সাহস দেখাতে পারে।’
নেহার মতে, সাম্প্রতিক বিক্ষোভগুলো দীর্ঘদিন ধরে মানুষের মধ্যে জমে থাকা অসন্তোষেরই বহিঃপ্রকাশ।

সূত্র: এনডিটিভি

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের অনুপ্রেরণায় ভারতে ক্ষমতার পরিবর্তনের পরিকল্পনা? বিজেপির অভিযোগ ঘিরে বিতর্ক

আপডেট সময় : ০৫:৪৩:০৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

বাংলাদেশের ছাত্র-জনতার আন্দোলন থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে ভারতে ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছে দেশটির ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। শিক্ষার্থী আন্দোলনের সংগঠক নেহা বোরার একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে এ অভিযোগ সামনে এনেছেন বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র প্রদীপ ভান্ডারি। তাঁর দাবি, ভিডিওতে বাংলাদেশের আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে নেহা বোরার দেওয়া বক্তব্য ভারতে ক্ষমতার পরিবর্তনের পরিকল্পনার ইঙ্গিত দেয়। তবে ভিডিওতে নেহা সরাসরি ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটানোর কোনো পরিকল্পনার কথা বলেননি।

দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষ করে জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব আর্টস অ্যান্ড অ্যাসথেটিকসে পিএইচডি শুরু করা ২৯ বছর বয়সী নেহা বোরার একটি তারিখবিহীন সাক্ষাৎকারের ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, ভারতে বর্তমানে যে জেন-জি আন্দোলন দেখা যাচ্ছে, তার সূচনা হয়েছিল বাংলাদেশে।

ভিডিওতে নেহা বলেন, ‘এই দেশে আমরা সর্বত্র যে জেন-জি আন্দোলন দেখছি, তা প্রথম শুরু হয়েছিল বাংলাদেশে। আমাদের পথ দেখানোর এবং এ দেশের তরুণদের প্রতি সংহতি জানানোর জন্য আপনাদের অভিনন্দন।’

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা ছাত্র-নেতৃত্বাধীন বিক্ষোভের মুখে বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের পতন ঘটে। পরবর্তী সময়ে ওই আন্দোলন দেশজুড়ে প্রাণঘাতী সহিংসতায় রূপ নেয়।

নেহা বোরার বক্তব্যে বাংলাদেশের আন্দোলনের পাশাপাশি ভারতের গণতান্ত্রিক অধিকার ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিও উঠে আসে। দেশটির প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে কথিত নির্বাচনি অনিয়মের অভিযোগে চলমান প্রতিবাদের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বাংলাদেশে শুরু হওয়া আন্দোলন ছিল গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে। ভারতে তরুণদের নেতৃত্বে চলমান আন্দোলনের লক্ষ্যও একই ধরনের অধিকার প্রতিষ্ঠা।

নেহা বলেন, ‘আমরা জানি, বাংলাদেশে যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল, তা ছিল গণতান্ত্রিক ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য। আজ ভারতের তরুণরা যে আন্দোলনে অংশ নিচ্ছেন এবং নেতৃত্ব দিচ্ছেন, সেটিও গণতান্ত্রিক অধিকার ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন।’

বাংলাদেশে ধর্মীয় মৌলবাদের বিরুদ্ধে চলমান লড়াইয়ের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘আপনাদের দেশে ধর্মীয় মৌলবাদের বিরুদ্ধে যে লড়াই চলছে, আজ এ দেশের জেন-জি ও তরুণরাও একই ধরনের লড়াই করছেন।’

নেহার এই বক্তব্যের ভিত্তিতে বিজেপির মুখপাত্র প্রদীপ ভান্ডারি অভিযোগ করেন, কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও তাঁর রাজনৈতিক বলয়ের লক্ষ্য কেবল সরকারের বিরোধিতা করা নয়; বরং ভারতে ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটানো। ভিডিওতে ভান্ডারিকে উচ্চকণ্ঠে এসব অভিযোগ উত্থাপন করতে দেখা যায়।

ভান্ডারির দাবি, বাংলাদেশের জেন-জি আন্দোলন থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে ভারতে একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরির পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, রাহুল গান্ধীর উদ্দেশ্য রাজনৈতিক প্রতিরোধের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং ভারতের সংবিধান ও গণতন্ত্রকে দুর্বল করাও এর অংশ। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, কংগ্রেসের পুরো রাজনৈতিক বলয় বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া ঘটনার মতো ভারতে ক্ষমতার পরিবর্তনের দিকে মনোযোগী। তবে এসব বক্তব্য বিজেপি মুখপাত্রের রাজনৈতিক অভিযোগ; নেহা বোরার ভিডিওতে সরাসরি এমন পরিকল্পনার কথা উল্লেখ নেই।

একই সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশ ও ভারতের জনগণের একসঙ্গে কাজ করার মাধ্যমে উন্নত দক্ষিণ এশিয়া এবং আরও ভালো বিশ্ব গড়ে তোলার আশাবাদ ব্যক্ত করেন নেহা। তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করি, বাংলাদেশে আপনারা এবং ভারতে আমরা একসঙ্গে একটি উন্নত দক্ষিণ এশিয়া ও আরও ভালো বিশ্বের জন্য লড়াই করতে পারব।’
চলতি সপ্তাহে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র নেতাদের সঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের উদ্দেশে আয়োজিত মিছিলে অংশ নেন নেহা বোরা।

পরে এক সংবাদ সম্মেলনে রাহুল গান্ধী বিভিন্ন প্রতিবাদ কর্মসূচিকে পৃথক আন্দোলন হিসেবে বিবেচনা করতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি বলেন, ‘সব প্রতিবাদই একটি প্রতিবাদ। এখানে সমান্তরাল কোনো প্রতিবাদ নেই। ভারত এগিয়ে যাচ্ছে।’

রাহুল গান্ধী আরও জানান, সংবিধান রক্ষার জন্য যাঁরা আন্দোলন করছেন, তাঁরা যে রাজনৈতিক সংগঠনেরই হোন না কেন, তাঁদের পাশে থাকবে তাঁর দল। ভারতের জনগণের প্রতি ভালোবাসার প্রকাশ হিসেবেও প্রতিবাদকে উল্লেখ করেন তিনি।

বিক্ষোভে পরিচিত মুখ নেহা বোরা
কথাবার্তায় শান্ত স্বভাবের হলেও মাইক্রোফোন হাতে জোরালো বক্তব্য দেওয়ার জন্য পরিচিত নেহা বোরা। হিন্দি ও ইংরেজিতে বক্তৃতার মাধ্যমে তিনি অনুসারী তৈরি করেছেন। তাঁর বক্তব্যে প্রায়ই সাংবিধানিক অধিকার, বৈষম্য এবং সরকারের জবাবদিহির মতো বিষয় গুরুত্ব পায়।

পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে গত জুলাইয়ে আয়োজিত বিক্ষোভের সময় ব্যাপক পরিচিতি পান নেহা। সে সময় অন্য আন্দোলনকারীদের সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে সোচ্চার হন তিনি। ঐতিহাসিক প্রতিবাদস্থল যন্তর মন্তরে সরকারের ভূমিকা এবং বিক্ষোভকারীদের প্রতি পুলিশের আচরণের সমালোচনা করে দেওয়া তাঁর বক্তব্য অনলাইনে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।

এরপর থেকে দিল্লির বিভিন্ন প্রতিবাদ কর্মসূচিতে নিয়মিত দেখা যাচ্ছে তাঁকে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত বিক্ষোভের সময় একাধিকবার আটকও হন তিনি। মুক্তি পাওয়ার পর আবারও প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যোগ দেন নেহা।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেহা বলেন, বর্তমান আন্দোলন কেবল কোনো নির্দিষ্ট আদর্শের ওপর নির্ভরশীল নয়; মানুষের মধ্যে আশার সঞ্চারও এর অন্যতম চালিকাশক্তি। তাঁর ভাষায়, ‘ভয় অবশ্যই সংক্রামক। কিন্তু আশাও সংক্রামক। মানুষ এখন সাহস পাচ্ছে, কারণ তারা মনে করছে, তারাও সাহস দেখাতে পারে।’
নেহার মতে, সাম্প্রতিক বিক্ষোভগুলো দীর্ঘদিন ধরে মানুষের মধ্যে জমে থাকা অসন্তোষেরই বহিঃপ্রকাশ।

সূত্র: এনডিটিভি