ঢাকা ০৯:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
জাপানে নিটসু লজিস্টিকস হাব পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকা-চট্টগ্রামে গ্রিড বিপর্যয়, অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের তারিখ পরিবর্তন, নতুন সময়সূচি ৩১ অক্টোবর নতুন পে স্কেলে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন নিয়ে সিদ্ধান্ত অর্থ মন্ত্রণালয়ের হাতে দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শন ও জনসভায় যোগ দিতে রাজশাহীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ৯ মাসে ৫১৮ সাংবাদিক নির্যাতনের শিকার, মব সহিংসতায় নিহত ১৮৭: এইচআরএসএস জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধনে যাননি কেন, প্রধানমন্ত্রীর ক্ষোভের জবাব দিলেন গোলাম পরওয়ার তেলের দাম ও মূল্যস্ফীতির চাপে কমল স্বর্ণের দর, নজর ফেডের সুদের হার সিদ্ধান্তে লিবিয়ায় নিরাপত্তা বাহিনীর প্রশিক্ষণকেন্দ্রে গোলাবারুদ বিস্ফোরণ, নিহত ৮ ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়ে উয়েফার ৪২ প্রশ্ন, ২ নভেম্বরের মধ্যে জবাব চায় ফিফার ইউরোপীয় সংস্থা

আখতারুজ্জামানের মামলা প্রত্যাহার ও মুক্তির দাবি গোলাম পরওয়ারের

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৫:১৭:১৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬
  • / 57

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অব্যবস্থাপনার ঘটনায় দুজনকে বরখাস্ত করার মধ্য দিয়ে কর্তৃপক্ষ সেখানে অব্যবস্থাপনা থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছে। তার দাবি, সেই অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে কথা বলে বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান যথার্থ কাজ করেছেন। অথচ তার বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে। তিনি অবিলম্বে মামলা প্রত্যাহার, রিমান্ডের আদেশ বাতিল এবং আখতারুজ্জামানের মুক্তির দাবি জানান।

শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে সাজানো মামলায় গ্রেফতারের প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে এসব কথা বলেন গোলাম পরওয়ার। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

গোলাম পরওয়ার বলেন, ১ অক্টোবর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ঘটনায় সারা দেশের মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সংসদ সদস্যকে হাতকড়া পরিয়ে আদালতে তোলা এবং রিমান্ডে নেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, প্রায় ৩৪ জন সংসদ সদস্যসহ অনেক নেতা বিমানবন্দরে অবতরণের পর লাগেজ, জমজমের পানি ও ট্রলি না পেয়ে তিন থেকে চার ঘণ্টা অপেক্ষা করেছেন। তার ভাষ্য, ভিআইপি যাত্রী হিসেবে উত্তেজিত হয়ে কর্তৃপক্ষকে শক্ত কথা বলা নাগরিক অধিকার এবং আখতারুজ্জামান সেই অধিকারই প্রয়োগ করেছেন।

মামলার এজাহারে আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে গায়ে হাত দেওয়া, আঘাত ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগ আনা হয়েছে উল্লেখ করে গোলাম পরওয়ার বলেন, ওই সময় জামায়াতের এমপি কামাল হোসেন উপস্থিত ছিলেন। তার দাবি, কামাল হোসেন বলেছেন আখতারুজ্জামান কারও গায়ে হাত তোলেননি বা কাউকে নাজেহাল করেননি। আখতারুজ্জামান কী বলেছেন, তা ভিডিওতেও দেখা যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বিমানবন্দরের অব্যবস্থাপনার প্রসঙ্গ টেনে জামায়াতের এই নেতা বলেন, অব্যবস্থাপনার জন্য দুজনকে বরখাস্ত করার মধ্য দিয়ে কর্তৃপক্ষই সেখানে অব্যবস্থাপনা থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছে। তার বক্তব্য, সেই অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে কথা বলার কারণে আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে। তিনি মামলাটি প্রত্যাহার এবং রিমান্ডের আদেশ বাতিল করে তাকে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানান।

গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, আখতারুজ্জামান একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং তিনি সাহসী মানুষের মতো নিজের বাসা থেকে স্বেচ্ছায় পুলিশের সঙ্গে গেছেন। তার দাবি, তাকে গ্রেফতারের কারণ শুধু বিমানবন্দরের ঘটনা নয়।

আখতারুজ্জামানকে হেলমেট পরানোর বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, কারাবিধি অনুযায়ী দুর্ধর্ষ অপরাধী, খুনি, ডাকাত কিংবা পুলিশের কাছ থেকে পালিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে এমন আসামিদের ক্ষেত্রে এ ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তার প্রশ্ন, আখতারুজ্জামান কি দুর্ধর্ষ ডাকাত বা খুনি? তিনি তো স্বেচ্ছায় পুলিশের সঙ্গে গেছেন। তাহলে তাকে কেন হেলমেট পরানো হলো? তার অভিযোগ, দুই-তিন দিনের ঘটনায় যারা অপরাধী, তাদের গ্রেফতার করা হয়নি, অথচ একজন নিরপরাধ মানুষকে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, বর্তমানে সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও তার দলের কয়েকজন মন্ত্রী-এমপি জামায়াতে ইসলামী ও শিবিরের বিরুদ্ধে কথা বলছেন এবং জামায়াত-শিবিরকে ‘গুপ্ত’ বলা হচ্ছে। দায়িত্বপূর্ণ পদে থাকা ব্যক্তির মুখে এ ধরনের বক্তব্য মানায় কি না, সে প্রশ্ন তোলেন তিনি।

গোলাম পরওয়ার বলেন, জামায়াতকে ‘গুপ্ত’ ও ‘স্বাধীনতাবিরোধী’ বলা হলে এসব বক্তব্য রাজনৈতিকভাবে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধেই যেতে পারে। তার ভাষ্য, ২০ থেকে ২২ বছরের রাজনৈতিক আন্দোলনে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী একসঙ্গে রাজপথে ছিল এবং চারদলীয় জোটে তারা একসঙ্গে আন্দোলন করেছে। তখন জামায়াতকে গুপ্ত বলা হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর মা যখন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, তখন যুদ্ধাপরাধের মামলায় অভিযুক্ত জামায়াত নেতাদের মুক্তির দাবিতে বক্তব্য দেওয়া হয়েছিল। বিএনপির তৎকালীন মহাসচিব ও বর্তমান রাষ্ট্রপতিও সংসদে মাওলানা নিজামীর প্রশংসা করে বক্তব্য দিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। তার প্রশ্ন, এখন কেন ভিন্ন কথা বলা হচ্ছে?

জামায়াতকে ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাবিরোধী, রাজাকার ও গণহত্যাকারী হিসেবে আখ্যায়িত করা হলে এর রাজনৈতিক দায় সংশ্লিষ্টদের নিতে হবে বলেও মন্তব্য করেন গোলাম পরওয়ার। তার দাবি, ২০২৪ সালের আগে এসব বক্তব্য দেওয়া হয়নি। আওয়ামী লীগ ক্ষমতা ছাড়ার পর এখন আওয়ামী লীগের ভাষায় জামায়াতকে আক্রমণ করা হচ্ছে।

তিনি আরও প্রশ্ন করেন, আওয়ামী লীগের সঙ্গে বর্তমান বক্তব্যের এত মিল কেন এবং দিল্লির সঙ্গে গোপনে কোনো যোগাযোগ তৈরি হয়েছে কি না, সেই প্রশ্নও মানুষের মনে তৈরি হচ্ছে। একইসঙ্গে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের সঙ্গে জামায়াতকে এক করে দেখা উচিত নয়। তার দাবি, জামায়াতে ইসলামী দেশ ও গণতন্ত্র রক্ষার জন্য রাজনীতি করছে।

জাতিকে বিভক্ত করে ক্ষমতায় থাকার চেষ্টা করলে জনগণ তার জবাব দেবে বলেও মন্তব্য করেন জামায়াতের এই নেতা। তার ভাষ্য, বিরোধী দল ও সরকারি দল মিলে দেশের স্বার্থে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। সরকার ভালো কাজ করলে জামায়াতে ইসলামী সহযোগিতা করবে, আর দেশবিরোধী কাজ হলে তার বিরোধিতা করবে।

গোলাম পরওয়ার বলেন, জামায়াতে ইসলামী কোনো অপরিণত রাজনৈতিক দল নয় এবং তারা দেশের স্বার্থে রাজনীতি করছে। তার বক্তব্য, সরকারের সঙ্গে ‘ফ্যাসিবাদী রাজনীতি’ বা দিল্লির স্বার্থের কোনো মিল থাকলে নিয়মতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে তার বিরোধিতা করা হবে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আখতারুজ্জামানের মামলা প্রত্যাহার ও মুক্তির দাবি গোলাম পরওয়ারের

আপডেট সময় : ০৫:১৭:১৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অব্যবস্থাপনার ঘটনায় দুজনকে বরখাস্ত করার মধ্য দিয়ে কর্তৃপক্ষ সেখানে অব্যবস্থাপনা থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছে। তার দাবি, সেই অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে কথা বলে বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান যথার্থ কাজ করেছেন। অথচ তার বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে। তিনি অবিলম্বে মামলা প্রত্যাহার, রিমান্ডের আদেশ বাতিল এবং আখতারুজ্জামানের মুক্তির দাবি জানান।

শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে সাজানো মামলায় গ্রেফতারের প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে এসব কথা বলেন গোলাম পরওয়ার। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

গোলাম পরওয়ার বলেন, ১ অক্টোবর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ঘটনায় সারা দেশের মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সংসদ সদস্যকে হাতকড়া পরিয়ে আদালতে তোলা এবং রিমান্ডে নেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, প্রায় ৩৪ জন সংসদ সদস্যসহ অনেক নেতা বিমানবন্দরে অবতরণের পর লাগেজ, জমজমের পানি ও ট্রলি না পেয়ে তিন থেকে চার ঘণ্টা অপেক্ষা করেছেন। তার ভাষ্য, ভিআইপি যাত্রী হিসেবে উত্তেজিত হয়ে কর্তৃপক্ষকে শক্ত কথা বলা নাগরিক অধিকার এবং আখতারুজ্জামান সেই অধিকারই প্রয়োগ করেছেন।

মামলার এজাহারে আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে গায়ে হাত দেওয়া, আঘাত ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগ আনা হয়েছে উল্লেখ করে গোলাম পরওয়ার বলেন, ওই সময় জামায়াতের এমপি কামাল হোসেন উপস্থিত ছিলেন। তার দাবি, কামাল হোসেন বলেছেন আখতারুজ্জামান কারও গায়ে হাত তোলেননি বা কাউকে নাজেহাল করেননি। আখতারুজ্জামান কী বলেছেন, তা ভিডিওতেও দেখা যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বিমানবন্দরের অব্যবস্থাপনার প্রসঙ্গ টেনে জামায়াতের এই নেতা বলেন, অব্যবস্থাপনার জন্য দুজনকে বরখাস্ত করার মধ্য দিয়ে কর্তৃপক্ষই সেখানে অব্যবস্থাপনা থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছে। তার বক্তব্য, সেই অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে কথা বলার কারণে আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে। তিনি মামলাটি প্রত্যাহার এবং রিমান্ডের আদেশ বাতিল করে তাকে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানান।

গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, আখতারুজ্জামান একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং তিনি সাহসী মানুষের মতো নিজের বাসা থেকে স্বেচ্ছায় পুলিশের সঙ্গে গেছেন। তার দাবি, তাকে গ্রেফতারের কারণ শুধু বিমানবন্দরের ঘটনা নয়।

আখতারুজ্জামানকে হেলমেট পরানোর বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, কারাবিধি অনুযায়ী দুর্ধর্ষ অপরাধী, খুনি, ডাকাত কিংবা পুলিশের কাছ থেকে পালিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে এমন আসামিদের ক্ষেত্রে এ ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তার প্রশ্ন, আখতারুজ্জামান কি দুর্ধর্ষ ডাকাত বা খুনি? তিনি তো স্বেচ্ছায় পুলিশের সঙ্গে গেছেন। তাহলে তাকে কেন হেলমেট পরানো হলো? তার অভিযোগ, দুই-তিন দিনের ঘটনায় যারা অপরাধী, তাদের গ্রেফতার করা হয়নি, অথচ একজন নিরপরাধ মানুষকে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, বর্তমানে সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও তার দলের কয়েকজন মন্ত্রী-এমপি জামায়াতে ইসলামী ও শিবিরের বিরুদ্ধে কথা বলছেন এবং জামায়াত-শিবিরকে ‘গুপ্ত’ বলা হচ্ছে। দায়িত্বপূর্ণ পদে থাকা ব্যক্তির মুখে এ ধরনের বক্তব্য মানায় কি না, সে প্রশ্ন তোলেন তিনি।

গোলাম পরওয়ার বলেন, জামায়াতকে ‘গুপ্ত’ ও ‘স্বাধীনতাবিরোধী’ বলা হলে এসব বক্তব্য রাজনৈতিকভাবে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধেই যেতে পারে। তার ভাষ্য, ২০ থেকে ২২ বছরের রাজনৈতিক আন্দোলনে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী একসঙ্গে রাজপথে ছিল এবং চারদলীয় জোটে তারা একসঙ্গে আন্দোলন করেছে। তখন জামায়াতকে গুপ্ত বলা হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর মা যখন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, তখন যুদ্ধাপরাধের মামলায় অভিযুক্ত জামায়াত নেতাদের মুক্তির দাবিতে বক্তব্য দেওয়া হয়েছিল। বিএনপির তৎকালীন মহাসচিব ও বর্তমান রাষ্ট্রপতিও সংসদে মাওলানা নিজামীর প্রশংসা করে বক্তব্য দিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। তার প্রশ্ন, এখন কেন ভিন্ন কথা বলা হচ্ছে?

জামায়াতকে ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাবিরোধী, রাজাকার ও গণহত্যাকারী হিসেবে আখ্যায়িত করা হলে এর রাজনৈতিক দায় সংশ্লিষ্টদের নিতে হবে বলেও মন্তব্য করেন গোলাম পরওয়ার। তার দাবি, ২০২৪ সালের আগে এসব বক্তব্য দেওয়া হয়নি। আওয়ামী লীগ ক্ষমতা ছাড়ার পর এখন আওয়ামী লীগের ভাষায় জামায়াতকে আক্রমণ করা হচ্ছে।

তিনি আরও প্রশ্ন করেন, আওয়ামী লীগের সঙ্গে বর্তমান বক্তব্যের এত মিল কেন এবং দিল্লির সঙ্গে গোপনে কোনো যোগাযোগ তৈরি হয়েছে কি না, সেই প্রশ্নও মানুষের মনে তৈরি হচ্ছে। একইসঙ্গে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের সঙ্গে জামায়াতকে এক করে দেখা উচিত নয়। তার দাবি, জামায়াতে ইসলামী দেশ ও গণতন্ত্র রক্ষার জন্য রাজনীতি করছে।

জাতিকে বিভক্ত করে ক্ষমতায় থাকার চেষ্টা করলে জনগণ তার জবাব দেবে বলেও মন্তব্য করেন জামায়াতের এই নেতা। তার ভাষ্য, বিরোধী দল ও সরকারি দল মিলে দেশের স্বার্থে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। সরকার ভালো কাজ করলে জামায়াতে ইসলামী সহযোগিতা করবে, আর দেশবিরোধী কাজ হলে তার বিরোধিতা করবে।

গোলাম পরওয়ার বলেন, জামায়াতে ইসলামী কোনো অপরিণত রাজনৈতিক দল নয় এবং তারা দেশের স্বার্থে রাজনীতি করছে। তার বক্তব্য, সরকারের সঙ্গে ‘ফ্যাসিবাদী রাজনীতি’ বা দিল্লির স্বার্থের কোনো মিল থাকলে নিয়মতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে তার বিরোধিতা করা হবে।