যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় আর আস্থা নেই, বললেন ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান
- আপডেট সময় : ০৪:১০:০৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 69

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে আলোচনায় বসার ক্ষেত্রে আর কোনো আস্থা নেই বলে জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তার অভিযোগ, আগের দফায় আলোচনার পরও ইরানের ওপর হামলা চালানো হয়েছে এবং নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। ফলে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানোর বিষয়ে গভীর অনাস্থা তৈরি হয়েছে বলে জানান তিনি।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন পেজেশকিয়ান। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সাক্ষাৎকারটি প্রচার করা হয়।
পেজেশকিয়ান বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর তাদের কোনো আস্থা নেই। এমন পরিস্থিতিতে দেশটির সঙ্গে কীভাবে কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব, সেটিও তারা বুঝতে পারছেন না।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র সফর করেন পেজেশকিয়ান ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। সফরকালে যুদ্ধ বন্ধ এবং সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর একটি প্রস্তাব দেওয়া হয়।
ইরানের প্রস্তাবে যা রয়েছে
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, প্রস্তাব অনুযায়ী প্রাথমিক ধাপগুলো বাস্তবায়নে চার থেকে পাঁচ দিন সময় লাগবে। এরপর ষষ্ঠ দিনে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া হবে। সপ্তম দিনে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিসহ অন্যান্য বিষয় নিয়ে চূড়ান্ত চুক্তির আলোচনা শুরু করার কথা রয়েছে।
এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে কয়েকটি পদক্ষেপ দাবি করেছে ইরান। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, ইরানের তেল বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং আটকে থাকা প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলারের ইরানি সম্পদ ছাড় করা। পাশাপাশি লেবানন ও ইয়েমেনসহ পুরো অঞ্চলে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার দাবিও রয়েছে।
কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতার উদ্যোগ
পেজেশকিয়ান জানান, কাতার ও পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ইরানের বার্তা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমান আলোচনার ভিত্তি হিসেবে গত জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া একটি সমঝোতা স্মারককে ধরা হচ্ছে। তবে ওই সমঝোতার মেয়াদ গত মাসেই শেষ হয়েছে। তাই নতুন কোনো আলোচনায় অগ্রসর হওয়ার আগে যুক্তরাষ্ট্রকে ওই চুক্তি সম্পর্কে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে।
ইরানের প্রেসিডেন্টের বক্তব্য অনুযায়ী, আগের আলোচনার পর দেশটির ওপর হামলা ও নিষেধাজ্ঞার অভিজ্ঞতাই ওয়াশিংটনের সঙ্গে নতুন সমঝোতার পথে বড় ধরনের বিশ্বাসের সংকট তৈরি করেছে।



























