‘মব সংস্কৃতি’ কঠোর হাতে দমন করা হবে, দুই বছরে দেশে আসবে অত্যাধুনিক ড্রোন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- আপডেট সময় : ০৮:০৭:৪৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 129

দেশে তৈরি হওয়া ‘মব সংস্কৃতি’ কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না বলে সাফ জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা কঠোর হাতে দমন করা হবে বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে আন্তঃসীমান্ত অপরাধ ও চোরাচালান মোকাবিলায় আধুনিক ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে আগামী দুই বছরের মধ্যে বিশ্বের সর্বাধুনিক প্রযুক্তির ড্রোন দেশে আনার ঘোষণা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
মঙ্গলবার দুপুরে সিলেট বিজিবি সেক্টর সদর দপ্তরে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) নবপ্রতিষ্ঠিত ‘সীমান্ত স্কুল অব সারভেইলেন্স অ্যান্ড ড্রোন ওয়ারফেয়ার’ (SSSDW)-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।
বাংলাদেশের সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, তথ্যনির্ভর ও প্রযুক্তিসক্ষম করার লক্ষ্যে বিশেষায়িত এই ড্রোন প্রশিক্ষণ স্কুলের কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ এসএসএসডিডব্লিউয়ের ফলক উন্মোচন করেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী।
উদ্বোধন শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফটোসেশনে অংশ নেন এবং এসএসএসডিডব্লিউয়ের কমপ্লেক্স ও ডিসপ্লে সেন্টার পরিদর্শন করেন। এ সময় প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত কমান্ড্যান্ট ও চিফ ইন্সট্রাক্টর কর্নেল মোহাম্মদ সালাহ উদ্দীন নবপ্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানের প্রশিক্ষণ সুবিধা ও ড্রোনের আভিযানিক পরিকল্পনা সম্পর্কে মন্ত্রীকে বিস্তারিত অবহিত করেন।
পরে প্রশিক্ষণ মাঠে বিজিবির দক্ষ ও প্রশিক্ষিত পাইলটদের অংশগ্রহণে ড্রোনের অপারেশনাল সক্ষমতার বাস্তব মহড়া প্রদর্শন করা হয়। এতে ড্রোনের নজরদারির মাধ্যমে বিজিবির ‘সিক্সম্যান পেট্রোল টিম’-এর কার্যকর টহল পরিচালনা, চোরাচালানবিরোধী অভিযানে ড্রোনের সহায়তায় চোরাকারবারিদের শনাক্ত ও আটক, সীমান্তে পুশইন বা অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে রিয়েল-টাইম নজরদারি এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সক্ষমতা দেখানো হয়।
এ ছাড়া ‘অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম’ ব্যবহার করে শত্রুপক্ষ বা অজ্ঞাত ড্রোন প্রতিহত ও নিয়ন্ত্রণ এবং বিজিবিতে সংযোজিত অত্যাধুনিক ‘ম্যাভিক ড্রোন’-এর বর্ণাঢ্য ফ্লাই-পাস্ট মহড়াও প্রদর্শন করা হয়।
ড্রোন মহড়া পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া কিংবা মব তৈরির যে প্রবণতা দেখা গিয়েছিল, তা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। সরকার এ ধরনের কর্মকাণ্ড কঠোরভাবে দমন করবে।
তিনি আরও বলেন, আন্তঃসীমান্ত অপরাধ ও চোরাচালান শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সীমান্তে নজরদারি আরও জোরদার করতে আগামী দুই বছরের মধ্যে বিশ্বমানের ড্রোন সংযোজন করা হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনকে আরও শক্তিশালী ও যুগোপযোগী করার কাজ চলছে। পাশাপাশি সীমান্তে চোরাকারবারি ও মাদক ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণে মালখানা ও হাজতখানার সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে। বিজিবিকেও পূর্ণাঙ্গ আধুনিকায়নের আওতায় আনা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে বিজিবি সদর দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সরাইল রিজিয়ন কমান্ডার, সিলেট অঞ্চলের সামরিক ও বেসামরিক শীর্ষ কর্মকর্তা এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
এক দিনের সরকারি সফরে মঙ্গলবার দুপুরে আকাশপথে সিলেটে পৌঁছান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বিজিবির অনুষ্ঠান শেষে বিকেলে সিলেট সার্কিট হাউসে জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের মতবিনিময় সভায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তার।





















