ঢাকা ০৪:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
ভূমিকম্পের ঝুঁকি কমাতে ধাপে ধাপে রাজধানীর ভবন যাচাই করবে রাজউক আগামী ২৪ ঘণ্টায় সব বিভাগে বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস শিক্ষা-স্বাস্থ্য-জ্বালানিকে স্বনির্ভর করতে বাস্তবমুখী পরিকল্পনা: প্রধানমন্ত্রী অস্ট্রেলিয়া যেতে ভুয়া মাইগ্রেশন এজেন্ট থেকে সতর্ক থাকার পরামর্শ শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে কঠোর বিধিনিষেধ, হর্ন ও নির্মাণকাজে নতুন নির্দেশনা ‘জুলাই ১৭ বছরের আন্দোলনের পরিণতি’—রিজভী ২০২৭ সালের প্রথমার্ধেই স্বর্ণের দাম ৫ হাজার ডলারে উঠতে পারে: ইউবিএস সৌদি-তুরস্ক-পাকিস্তানের ‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি’, বদলে যাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতি ৫৪ রানে অলআউট বাংলাদেশ, তাইজুলকে নিয়ে মিলল বড় সুখবর বাবার নির্যাতন থেকে ৫০০ টাকা হাতে মুম্বাই, শৈশবের ভয়াবহ স্মৃতি জানালেন রবি কিষাণ

শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে কঠোর বিধিনিষেধ, হর্ন ও নির্মাণকাজে নতুন নির্দেশনা

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৫:২২:৪৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬
  • / 4

মানবস্বাস্থ্য ও জীববৈচিত্র্য সুরক্ষায় শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে কঠোর বিধিনিষেধ জারি করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। ‘শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০২৫’ অনুযায়ী নির্ধারিত শব্দমাত্রা মেনে চলতে নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।

পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. লুৎফর রহমান স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিটি বৃহস্পতিবার (৪ আগস্ট) প্রকাশ করা হয়। এতে এলাকাভেদে শব্দের সর্বোচ্চ মাত্রা নির্ধারণের পাশাপাশি হর্ন, উচ্চ শব্দের যন্ত্রপাতি, আতশবাজি ও নির্মাণকাজ ব্যবহারে বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নীরব এলাকায় সর্বোচ্চ শব্দমাত্রা ৪০ ডেসিবল এবং শিল্প এলাকায় ৭৫ ডেসিবল নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্ধারিত সীমার বেশি শব্দ সৃষ্টি করে এমন কোনো যন্ত্রপাতি বা কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা যাবে না।

সরকারি অনুমতি ছাড়া পাবলিক প্লেসে উচ্চ শব্দ উৎপন্নকারী যন্ত্র ব্যবহারও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অনুমতি পাওয়া গেলেও শব্দের মাত্রা সর্বোচ্চ ৯০ ডেসিবেলের মধ্যে রাখতে হবে এবং এসব যন্ত্র পাঁচ ঘণ্টার বেশি ব্যবহার করা যাবে না। রাত ১১টার পর এ ধরনের যন্ত্র ব্যবহারের অনুমতিও থাকবে না।

নির্ধারিত সীমার বেশি শব্দ উৎপন্নকারী হর্নের প্রস্তুত, আমদানি, মজুদ, বিক্রি ও ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ নীরব এলাকায় হর্ন বাজানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। একই সঙ্গে এসব এলাকায় পটকা, আতশবাজি বা অন্য কোনো উপায়ে শব্দদূষণ করা যাবে না।

আবাসিক এলাকায় রাত ৯টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত হর্ন বাজানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রাকৃতিক বনাঞ্চল ও বন্যপ্রাণীর আবাসস্থলে উচ্চ শব্দ সৃষ্টি করে এমন কর্মকাণ্ড বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বনাঞ্চলে বনভোজন আয়োজন এবং উচ্চ শব্দ উৎপন্নকারী যন্ত্র ব্যবহারের ওপরও বিধিনিষেধ রয়েছে।

নির্মাণকাজের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। আবাসিক এলাকার শেষ সীমানা থেকে ৫০০ মিটারের মধ্যে সন্ধ্যা ৭টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত নির্মাণযন্ত্র ব্যবহার বা পরিচালনা করা যাবে না।

পরিবেশ অধিদপ্তর জানিয়েছে, বিধিনিষেধ অমান্য করে শব্দদূষণ করা হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো ট্রাফিক সার্জেন্ট বা তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে শব্দদূষণ প্রত্যক্ষ করলে বিধিমালা অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারবেন।

শব্দদূষণের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে মানবস্বাস্থ্য ও পরিবেশ রক্ষায় নতুন বিধিমালা মেনে চলতে জনসাধারণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে কঠোর বিধিনিষেধ, হর্ন ও নির্মাণকাজে নতুন নির্দেশনা

আপডেট সময় : ০৫:২২:৪৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬

মানবস্বাস্থ্য ও জীববৈচিত্র্য সুরক্ষায় শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে কঠোর বিধিনিষেধ জারি করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। ‘শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০২৫’ অনুযায়ী নির্ধারিত শব্দমাত্রা মেনে চলতে নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।

পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. লুৎফর রহমান স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিটি বৃহস্পতিবার (৪ আগস্ট) প্রকাশ করা হয়। এতে এলাকাভেদে শব্দের সর্বোচ্চ মাত্রা নির্ধারণের পাশাপাশি হর্ন, উচ্চ শব্দের যন্ত্রপাতি, আতশবাজি ও নির্মাণকাজ ব্যবহারে বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নীরব এলাকায় সর্বোচ্চ শব্দমাত্রা ৪০ ডেসিবল এবং শিল্প এলাকায় ৭৫ ডেসিবল নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্ধারিত সীমার বেশি শব্দ সৃষ্টি করে এমন কোনো যন্ত্রপাতি বা কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা যাবে না।

সরকারি অনুমতি ছাড়া পাবলিক প্লেসে উচ্চ শব্দ উৎপন্নকারী যন্ত্র ব্যবহারও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অনুমতি পাওয়া গেলেও শব্দের মাত্রা সর্বোচ্চ ৯০ ডেসিবেলের মধ্যে রাখতে হবে এবং এসব যন্ত্র পাঁচ ঘণ্টার বেশি ব্যবহার করা যাবে না। রাত ১১টার পর এ ধরনের যন্ত্র ব্যবহারের অনুমতিও থাকবে না।

নির্ধারিত সীমার বেশি শব্দ উৎপন্নকারী হর্নের প্রস্তুত, আমদানি, মজুদ, বিক্রি ও ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ নীরব এলাকায় হর্ন বাজানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। একই সঙ্গে এসব এলাকায় পটকা, আতশবাজি বা অন্য কোনো উপায়ে শব্দদূষণ করা যাবে না।

আবাসিক এলাকায় রাত ৯টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত হর্ন বাজানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রাকৃতিক বনাঞ্চল ও বন্যপ্রাণীর আবাসস্থলে উচ্চ শব্দ সৃষ্টি করে এমন কর্মকাণ্ড বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বনাঞ্চলে বনভোজন আয়োজন এবং উচ্চ শব্দ উৎপন্নকারী যন্ত্র ব্যবহারের ওপরও বিধিনিষেধ রয়েছে।

নির্মাণকাজের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। আবাসিক এলাকার শেষ সীমানা থেকে ৫০০ মিটারের মধ্যে সন্ধ্যা ৭টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত নির্মাণযন্ত্র ব্যবহার বা পরিচালনা করা যাবে না।

পরিবেশ অধিদপ্তর জানিয়েছে, বিধিনিষেধ অমান্য করে শব্দদূষণ করা হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো ট্রাফিক সার্জেন্ট বা তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে শব্দদূষণ প্রত্যক্ষ করলে বিধিমালা অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারবেন।

শব্দদূষণের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে মানবস্বাস্থ্য ও পরিবেশ রক্ষায় নতুন বিধিমালা মেনে চলতে জনসাধারণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর।