ঢাকা ০৫:১৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো জামিনের দিনই আদালত প্রাঙ্গণে বিতর্কে পরীমনি, সাংবাদিকদের সঙ্গে অপ্রীতিকর ঘটনায় সমালোচনা স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসে চাকরির সুযোগ, অভিজ্ঞতা ছাড়াই আবেদন করতে পারবেন ৩২ বছর বয়সীরা বাগেরহাটে হযরত খানজাহান আলীর (রহ.) মাজার জিয়ারত করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসকদের ড্রেসআপ নেই, ডাক্তার নাকি দালাল বোঝা মুশকিল: দুদক চেয়ারম্যান সংসদ অধিবেশন ঘিরে ৮ নভেম্বর রাত থেকে সংসদ ভবন এলাকায় সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ ডিসেম্বরের মধ্যেই পোশাকশ্রমিকদের নতুন ন্যূনতম মজুরি ঘোষণার আশ্বাস সরকারের হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশি জাহাজের নিরাপদ পারাপারে সহযোগিতার আশ্বাস ইরানের সাংবাদিকদের গ্রেফতারে আদালতের পূর্বানুমতির বিধান রাখার আলোচনা, সংশোধন হচ্ছে সাইবার সুরক্ষা আইন দ্বিতীয় পদ্মা-যমুনা সেতু ও পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

কম দামে মানসম্মত ট্রলি ব্যাগের ঠিকানা বায়তুল মোকাররমের লাগেজ মার্কেট

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৪:২৯:৪৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬
  • / 35

টেকসই, আকর্ষণীয় ডিজাইন এবং সাশ্রয়ী দামে লাগেজ বা ট্রলি ব্যাগ কিনতে চাইলে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম লাগেজ মার্কেট হতে পারে অন্যতম ভরসার জায়গা। প্রায় ছয় দশকের পুরোনো এই বাজারে বর্তমানে প্রায় ৫০টি দোকানে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের লাগেজ বিক্রি হচ্ছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, একসময় এই মার্কেট ‘ব্যাগের মার্কেট’ বা ‘লেদার মার্কেট’ নামে পরিচিত থাকলেও এখন অধিকাংশ মানুষের কাছে এটি ‘লাগেজ মার্কেট’ নামেই পরিচিত। ডালাস লেদারের স্বত্বাধিকারী মিয়া ফয়সাল আহমেদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে মানসম্মত লাগেজের জন্য এ বাজার ক্রেতাদের আস্থার জায়গা হয়ে উঠেছে।

জানা যায়, ১৯৬৮ সালের দিকে বায়তুল মোকাররম মসজিদ মার্কেটকে কেন্দ্র করে লাগেজ ও ট্রাভেল ব্যাগের ব্যবসা শুরু হয়। আশির দশকে মধ্যপ্রাচ্যে কর্মসংস্থানের জন্য বাংলাদেশিদের ব্যাপক যাত্রা শুরু হলে বাজারটির জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়ে। সে সময় বিদেশগামীদের প্রধান ভরসা ছিল লোহার ট্রাংক ও শক্ত প্লাস্টিকের স্যুটকেস। পরে নব্বইয়ের দশকে চাকাযুক্ত আধুনিক ট্রলি ব্যাগ বাজারে এলে ব্যবসায় নতুন মাত্রা যোগ হয়।

বর্তমানে বাজারে সবচেয়ে বেশি চাহিদা রয়েছে পলিকার্বোনেটের তৈরি ওয়াটারপ্রুফ ফাইবার লাগেজের। এসব লাগেজ হালকা, টেকসই এবং ভেতরের জিনিসপত্র ভালোভাবে সুরক্ষিত রাখে। পাশাপাশি অতিরিক্ত পকেট ও জায়গার সুবিধার কারণে কাপড়ের তৈরি ট্রলি ব্যাগও অনেক ক্রেতার পছন্দের তালিকায় রয়েছে।

লাগেজ কেনার আগে ভ্রমণের সময়কাল, যাতায়াতের মাধ্যম এবং বহনযোগ্য মালামালের পরিমাণ বিবেচনা করার পরামর্শ দেন বিক্রেতারা। সাধারণত বাজারে তিন ধরনের স্ট্যান্ডার্ড সাইজের লাগেজ পাওয়া যায়।

২০ ইঞ্চির কেবিন সাইজ ট্রলি ব্যাগ ১ থেকে ৩ দিনের স্বল্পমেয়াদি ভ্রমণের জন্য উপযোগী। এতে প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ লিটার ধারণক্ষমতা থাকে এবং ৭ থেকে ১০ কেজি পর্যন্ত মালামাল বহন করা যায়। বিমানে এটি কেবিন ব্যাগ হিসেবেও ব্যবহার করা যায়।

২৪ ইঞ্চির মাঝারি সাইজের লাগেজ ৪ থেকে ৭ দিনের ভ্রমণের জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয়। এতে প্রায় ৬০ থেকে ৭৫ লিটার ধারণক্ষমতা থাকে এবং ১৫ থেকে ২০ কেজি পর্যন্ত মালামাল রাখা সম্ভব। সাধারণত এটি বিমানে চেক-ইন লাগেজ হিসেবে বহন করা হয়।

অন্যদিকে ২৮ থেকে ৩২ ইঞ্চির বড় সাইজের লাগেজ দীর্ঘমেয়াদি ভ্রমণ, বিদেশে পড়াশোনা বা চাকরির জন্য উপযুক্ত। এসব লাগেজে ১০০ থেকে ১২০ লিটার বা তারও বেশি মালামাল বহন করা যায় এবং এয়ারলাইনসের নিয়ম অনুযায়ী ২৩ থেকে ৩২ কেজি পর্যন্ত ওজন নেওয়া সম্ভব।

বাজারটিতে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড যেমন স্যামসোনাইট, আমেরিকান ট্যুরিস্টার, ডেলসি ও প্রেসিডেন্টের পাশাপাশি এলিগ্যান্ট, অরনেট, ট্রাভেল কার, আরিয়ান, ডেলটা, ফরচুন, ম্যাক্স, উইনার ও ট্রাভেলোসহ বিভিন্ন দেশি-বিদেশি ব্র্যান্ডের লাগেজ পাওয়া যায়।

দামের দিক থেকেও রয়েছে বিভিন্ন বিকল্প। কাপড়ের তৈরি ট্রলি ব্যাগের দাম সাধারণত আড়াই হাজার থেকে পাঁচ হাজার টাকার মধ্যে। অন্যদিকে ফাইবার লাগেজের দাম শুরু হয় প্রায় তিন হাজার টাকা থেকে, যা ব্র্যান্ড ও মানভেদে ১৪ হাজার টাকা বা তারও বেশি হতে পারে।

ব্যবসায়ীরা জানান, অধিকাংশ লাগেজের সঙ্গে কমপক্ষে দুই বছরের ওয়ারেন্টি দেওয়া হয়। চাকা, জিপার বা লকের মতো যেকোনো সমস্যায় দ্রুত সার্ভিস সুবিধাও পাওয়া যায়।

বায়তুল মোকাররম লাগেজ মার্কেট শুক্রবার সাপ্তাহিক বন্ধ থাকে। অন্যদিনগুলোতে সকাল ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মার্কেট খোলা থাকে। বাস কিংবা মেট্রোরেলে সহজেই এখানে যাওয়া যায়। মেট্রোরেলে ভ্রমণ করলে বাংলাদেশ সচিবালয় স্টেশনে নেমে পল্টন মোড় পার হলেই অল্প দূরত্বে পাওয়া যাবে এই জনপ্রিয় লাগেজ মার্কেট।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

কম দামে মানসম্মত ট্রলি ব্যাগের ঠিকানা বায়তুল মোকাররমের লাগেজ মার্কেট

আপডেট সময় : ০৪:২৯:৪৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

টেকসই, আকর্ষণীয় ডিজাইন এবং সাশ্রয়ী দামে লাগেজ বা ট্রলি ব্যাগ কিনতে চাইলে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম লাগেজ মার্কেট হতে পারে অন্যতম ভরসার জায়গা। প্রায় ছয় দশকের পুরোনো এই বাজারে বর্তমানে প্রায় ৫০টি দোকানে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের লাগেজ বিক্রি হচ্ছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, একসময় এই মার্কেট ‘ব্যাগের মার্কেট’ বা ‘লেদার মার্কেট’ নামে পরিচিত থাকলেও এখন অধিকাংশ মানুষের কাছে এটি ‘লাগেজ মার্কেট’ নামেই পরিচিত। ডালাস লেদারের স্বত্বাধিকারী মিয়া ফয়সাল আহমেদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে মানসম্মত লাগেজের জন্য এ বাজার ক্রেতাদের আস্থার জায়গা হয়ে উঠেছে।

জানা যায়, ১৯৬৮ সালের দিকে বায়তুল মোকাররম মসজিদ মার্কেটকে কেন্দ্র করে লাগেজ ও ট্রাভেল ব্যাগের ব্যবসা শুরু হয়। আশির দশকে মধ্যপ্রাচ্যে কর্মসংস্থানের জন্য বাংলাদেশিদের ব্যাপক যাত্রা শুরু হলে বাজারটির জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়ে। সে সময় বিদেশগামীদের প্রধান ভরসা ছিল লোহার ট্রাংক ও শক্ত প্লাস্টিকের স্যুটকেস। পরে নব্বইয়ের দশকে চাকাযুক্ত আধুনিক ট্রলি ব্যাগ বাজারে এলে ব্যবসায় নতুন মাত্রা যোগ হয়।

বর্তমানে বাজারে সবচেয়ে বেশি চাহিদা রয়েছে পলিকার্বোনেটের তৈরি ওয়াটারপ্রুফ ফাইবার লাগেজের। এসব লাগেজ হালকা, টেকসই এবং ভেতরের জিনিসপত্র ভালোভাবে সুরক্ষিত রাখে। পাশাপাশি অতিরিক্ত পকেট ও জায়গার সুবিধার কারণে কাপড়ের তৈরি ট্রলি ব্যাগও অনেক ক্রেতার পছন্দের তালিকায় রয়েছে।

লাগেজ কেনার আগে ভ্রমণের সময়কাল, যাতায়াতের মাধ্যম এবং বহনযোগ্য মালামালের পরিমাণ বিবেচনা করার পরামর্শ দেন বিক্রেতারা। সাধারণত বাজারে তিন ধরনের স্ট্যান্ডার্ড সাইজের লাগেজ পাওয়া যায়।

২০ ইঞ্চির কেবিন সাইজ ট্রলি ব্যাগ ১ থেকে ৩ দিনের স্বল্পমেয়াদি ভ্রমণের জন্য উপযোগী। এতে প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ লিটার ধারণক্ষমতা থাকে এবং ৭ থেকে ১০ কেজি পর্যন্ত মালামাল বহন করা যায়। বিমানে এটি কেবিন ব্যাগ হিসেবেও ব্যবহার করা যায়।

২৪ ইঞ্চির মাঝারি সাইজের লাগেজ ৪ থেকে ৭ দিনের ভ্রমণের জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয়। এতে প্রায় ৬০ থেকে ৭৫ লিটার ধারণক্ষমতা থাকে এবং ১৫ থেকে ২০ কেজি পর্যন্ত মালামাল রাখা সম্ভব। সাধারণত এটি বিমানে চেক-ইন লাগেজ হিসেবে বহন করা হয়।

অন্যদিকে ২৮ থেকে ৩২ ইঞ্চির বড় সাইজের লাগেজ দীর্ঘমেয়াদি ভ্রমণ, বিদেশে পড়াশোনা বা চাকরির জন্য উপযুক্ত। এসব লাগেজে ১০০ থেকে ১২০ লিটার বা তারও বেশি মালামাল বহন করা যায় এবং এয়ারলাইনসের নিয়ম অনুযায়ী ২৩ থেকে ৩২ কেজি পর্যন্ত ওজন নেওয়া সম্ভব।

বাজারটিতে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড যেমন স্যামসোনাইট, আমেরিকান ট্যুরিস্টার, ডেলসি ও প্রেসিডেন্টের পাশাপাশি এলিগ্যান্ট, অরনেট, ট্রাভেল কার, আরিয়ান, ডেলটা, ফরচুন, ম্যাক্স, উইনার ও ট্রাভেলোসহ বিভিন্ন দেশি-বিদেশি ব্র্যান্ডের লাগেজ পাওয়া যায়।

দামের দিক থেকেও রয়েছে বিভিন্ন বিকল্প। কাপড়ের তৈরি ট্রলি ব্যাগের দাম সাধারণত আড়াই হাজার থেকে পাঁচ হাজার টাকার মধ্যে। অন্যদিকে ফাইবার লাগেজের দাম শুরু হয় প্রায় তিন হাজার টাকা থেকে, যা ব্র্যান্ড ও মানভেদে ১৪ হাজার টাকা বা তারও বেশি হতে পারে।

ব্যবসায়ীরা জানান, অধিকাংশ লাগেজের সঙ্গে কমপক্ষে দুই বছরের ওয়ারেন্টি দেওয়া হয়। চাকা, জিপার বা লকের মতো যেকোনো সমস্যায় দ্রুত সার্ভিস সুবিধাও পাওয়া যায়।

বায়তুল মোকাররম লাগেজ মার্কেট শুক্রবার সাপ্তাহিক বন্ধ থাকে। অন্যদিনগুলোতে সকাল ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মার্কেট খোলা থাকে। বাস কিংবা মেট্রোরেলে সহজেই এখানে যাওয়া যায়। মেট্রোরেলে ভ্রমণ করলে বাংলাদেশ সচিবালয় স্টেশনে নেমে পল্টন মোড় পার হলেই অল্প দূরত্বে পাওয়া যাবে এই জনপ্রিয় লাগেজ মার্কেট।