ঢাকা ০৫:২০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো জামিনের দিনই আদালত প্রাঙ্গণে বিতর্কে পরীমনি, সাংবাদিকদের সঙ্গে অপ্রীতিকর ঘটনায় সমালোচনা স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসে চাকরির সুযোগ, অভিজ্ঞতা ছাড়াই আবেদন করতে পারবেন ৩২ বছর বয়সীরা বাগেরহাটে হযরত খানজাহান আলীর (রহ.) মাজার জিয়ারত করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসকদের ড্রেসআপ নেই, ডাক্তার নাকি দালাল বোঝা মুশকিল: দুদক চেয়ারম্যান সংসদ অধিবেশন ঘিরে ৮ নভেম্বর রাত থেকে সংসদ ভবন এলাকায় সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ ডিসেম্বরের মধ্যেই পোশাকশ্রমিকদের নতুন ন্যূনতম মজুরি ঘোষণার আশ্বাস সরকারের হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশি জাহাজের নিরাপদ পারাপারে সহযোগিতার আশ্বাস ইরানের সাংবাদিকদের গ্রেফতারে আদালতের পূর্বানুমতির বিধান রাখার আলোচনা, সংশোধন হচ্ছে সাইবার সুরক্ষা আইন দ্বিতীয় পদ্মা-যমুনা সেতু ও পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

বর্ষায় হাওরের মোহে পর্যটকদের ভিড়, মৌলভীবাজারের ‘ভুরভুরি জোড়া পুল’ এখন নতুন আকর্ষণ

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৪:২৬:১২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬
  • / 33

বর্ষার সৌন্দর্যে নতুন রূপ পেয়েছে মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার ‘ভুরভুরি জোড়া পুল’। ঘন মেঘ, গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি, বিস্তীর্ণ হাওরের জলরাশি আর খোলা বাতাসের টানে প্রতিদিনই সেখানে ভিড় করছেন বিভিন্ন বয়সী মানুষ। স্থানীয়দের পাশাপাশি দূর-দূরান্ত থেকেও দর্শনার্থীরা ছুটে আসছেন প্রকৃতির এই অপার সৌন্দর্য উপভোগ করতে।

রাজনগর-বালাগঞ্জ সড়কের মেদেনীমহল এলাকায় অবস্থিত ভুরভুরি জোড়া পুল বর্তমানে বৈকালিক আড্ডা ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগের অন্যতম জনপ্রিয় স্থানে পরিণত হয়েছে। রাজনগর উপজেলা সদর থেকে উত্তর দিকে কুশিয়ারা নদীর তীরঘেঁষা এ সড়ক গ্রাম, হাওর ও বিস্তীর্ণ জলাভূমির মনোমুগ্ধকর দৃশ্য উপহার দেয়। পথে রয়েছে নারী আন্দোলনের অগ্রদূত ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ছাত্রী লীলা নাগের পৈতৃক বাড়িও।

ভুরভুরি জোড়া পুলের চারপাশজুড়ে বর্ষার পানিতে টইটম্বুর হাওর। দূরদূরান্ত পর্যন্ত ছড়িয়ে থাকা জলরাশির মাঝে ভেসে থাকে শাপলা-শালুক, কচুরিপানা ও সবুজ ঘাস। টলটলে পানিতে হাঁসের বিচরণ, আকাশে উড়তে থাকা চিল, মাছ ধরার নৌকা এবং পানিতে ডুবে যাওয়া গ্রামীণ পথের বিকল্প হিসেবে নৌযান চলাচল—সব মিলিয়ে প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য অনন্য এক পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানটির নামকরণের পেছনেও রয়েছে একটি ইতিহাস। আগে ভুরভুরি খালের ওপর একটি উঁচু সেতু ছিল, যার নিচ দিয়ে বর্ষাকালে নৌকা চলাচল করত। পরবর্তীতে পুরোনো সেতুর পাশেই নতুন একটি নিচু সেতু নির্মাণ করা হয়। পাশাপাশি দুটি সেতু থাকায় এলাকাটি স্থানীয়দের কাছে ‘ভুরভুরি জোড়া পুল’ নামে পরিচিতি পায়।

তবে নতুন সেতু নির্মাণের পর নৌযান চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে কিছুটা আক্ষেপ রয়েছে। তারপরও নতুন সড়ক সংস্কার ও সহজ যাতায়াতের কারণে এলাকাটি এখন পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে বিকেলের দিকে আশপাশের গ্রাম ছাড়াও বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ এসে হাওরের খোলা বাতাসে সময় কাটাচ্ছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা গেন্দু মিয়া জানান, বৈশাখ মাসে এ এলাকায় ধান মাড়াই ও কৃষিকাজ চলে, আর বর্ষায় মাছ ধরার ব্যস্ততা থাকে। তবে গত দুই মাস ধরে প্রতিদিনই অনেক মানুষ বেড়াতে আসছেন। ছুটির দিনে দর্শনার্থীর সংখ্যা আরও বেড়ে যায়।

পর্যটকদের আগমনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় তরুণ, প্রবাসী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এলাকাটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে নানা উদ্যোগ নিয়েছেন। ব্রিজের রেলিং ও আশপাশের গাছ রং করা হয়েছে, বসার জন্য বেঞ্চ স্থাপন করা হয়েছে এবং কৃষ্ণচূড়ার চারা রোপণ করা হয়েছে। পাশাপাশি বৃষ্টির সময় আশ্রয়ের জন্য ছাউনি নির্মাণ, হালকা খাবারের দোকান, ফুলের বাগান এবং পরিবেশ রক্ষায় ডাস্টবিন স্থাপনের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।

বিকেলের শেষ আলো, মেঘলা আকাশ আর গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টির মধ্যে হাওরের মনোমুগ্ধকর পরিবেশ দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে। সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলেও অনেকে বৃষ্টিতে ভিজে আড্ডা দেন, ছবি তোলেন কিংবা প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করেন। রাত নেমে এলে ধীরে ধীরে দর্শনার্থীরা ফিরে যান, আর নির্জনতায় ডুবে যায় ভুরভুরি জোড়া পুল।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

বর্ষায় হাওরের মোহে পর্যটকদের ভিড়, মৌলভীবাজারের ‘ভুরভুরি জোড়া পুল’ এখন নতুন আকর্ষণ

আপডেট সময় : ০৪:২৬:১২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

বর্ষার সৌন্দর্যে নতুন রূপ পেয়েছে মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার ‘ভুরভুরি জোড়া পুল’। ঘন মেঘ, গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি, বিস্তীর্ণ হাওরের জলরাশি আর খোলা বাতাসের টানে প্রতিদিনই সেখানে ভিড় করছেন বিভিন্ন বয়সী মানুষ। স্থানীয়দের পাশাপাশি দূর-দূরান্ত থেকেও দর্শনার্থীরা ছুটে আসছেন প্রকৃতির এই অপার সৌন্দর্য উপভোগ করতে।

রাজনগর-বালাগঞ্জ সড়কের মেদেনীমহল এলাকায় অবস্থিত ভুরভুরি জোড়া পুল বর্তমানে বৈকালিক আড্ডা ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগের অন্যতম জনপ্রিয় স্থানে পরিণত হয়েছে। রাজনগর উপজেলা সদর থেকে উত্তর দিকে কুশিয়ারা নদীর তীরঘেঁষা এ সড়ক গ্রাম, হাওর ও বিস্তীর্ণ জলাভূমির মনোমুগ্ধকর দৃশ্য উপহার দেয়। পথে রয়েছে নারী আন্দোলনের অগ্রদূত ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ছাত্রী লীলা নাগের পৈতৃক বাড়িও।

ভুরভুরি জোড়া পুলের চারপাশজুড়ে বর্ষার পানিতে টইটম্বুর হাওর। দূরদূরান্ত পর্যন্ত ছড়িয়ে থাকা জলরাশির মাঝে ভেসে থাকে শাপলা-শালুক, কচুরিপানা ও সবুজ ঘাস। টলটলে পানিতে হাঁসের বিচরণ, আকাশে উড়তে থাকা চিল, মাছ ধরার নৌকা এবং পানিতে ডুবে যাওয়া গ্রামীণ পথের বিকল্প হিসেবে নৌযান চলাচল—সব মিলিয়ে প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য অনন্য এক পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানটির নামকরণের পেছনেও রয়েছে একটি ইতিহাস। আগে ভুরভুরি খালের ওপর একটি উঁচু সেতু ছিল, যার নিচ দিয়ে বর্ষাকালে নৌকা চলাচল করত। পরবর্তীতে পুরোনো সেতুর পাশেই নতুন একটি নিচু সেতু নির্মাণ করা হয়। পাশাপাশি দুটি সেতু থাকায় এলাকাটি স্থানীয়দের কাছে ‘ভুরভুরি জোড়া পুল’ নামে পরিচিতি পায়।

তবে নতুন সেতু নির্মাণের পর নৌযান চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে কিছুটা আক্ষেপ রয়েছে। তারপরও নতুন সড়ক সংস্কার ও সহজ যাতায়াতের কারণে এলাকাটি এখন পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে বিকেলের দিকে আশপাশের গ্রাম ছাড়াও বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ এসে হাওরের খোলা বাতাসে সময় কাটাচ্ছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা গেন্দু মিয়া জানান, বৈশাখ মাসে এ এলাকায় ধান মাড়াই ও কৃষিকাজ চলে, আর বর্ষায় মাছ ধরার ব্যস্ততা থাকে। তবে গত দুই মাস ধরে প্রতিদিনই অনেক মানুষ বেড়াতে আসছেন। ছুটির দিনে দর্শনার্থীর সংখ্যা আরও বেড়ে যায়।

পর্যটকদের আগমনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় তরুণ, প্রবাসী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এলাকাটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে নানা উদ্যোগ নিয়েছেন। ব্রিজের রেলিং ও আশপাশের গাছ রং করা হয়েছে, বসার জন্য বেঞ্চ স্থাপন করা হয়েছে এবং কৃষ্ণচূড়ার চারা রোপণ করা হয়েছে। পাশাপাশি বৃষ্টির সময় আশ্রয়ের জন্য ছাউনি নির্মাণ, হালকা খাবারের দোকান, ফুলের বাগান এবং পরিবেশ রক্ষায় ডাস্টবিন স্থাপনের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।

বিকেলের শেষ আলো, মেঘলা আকাশ আর গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টির মধ্যে হাওরের মনোমুগ্ধকর পরিবেশ দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে। সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলেও অনেকে বৃষ্টিতে ভিজে আড্ডা দেন, ছবি তোলেন কিংবা প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করেন। রাত নেমে এলে ধীরে ধীরে দর্শনার্থীরা ফিরে যান, আর নির্জনতায় ডুবে যায় ভুরভুরি জোড়া পুল।