পাহাড় ভ্রমণে উচ্চতাভীতি? হাইট ফোবিয়া থাকলে যেসব সতর্কতা মানতেই হবে
- আপডেট সময় : ০৪:১৪:২৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬
- / 10

বর্ষাকালে পাহাড়ি অঞ্চলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নতুন মাত্রা পায়। মেঘে ঢাকা পাহাড়, সবুজ অরণ্য ও ঝরনার আকর্ষণে অনেকেই ছুটে যান বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়িসহ দেশের বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায়। তবে মনোরম এই পরিবেশ উপভোগের মাঝেও অনেকের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায় উচ্চতাভীতি বা হাইট ফোবিয়া (অ্যাক্রোফোবিয়া)। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ বিষয়ে সচেতনতা ও কিছু সতর্কতা মেনে চললে ভ্রমণ হতে পারে আরও নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় হাইট ফোবিয়াকে অ্যাক্রোফোবিয়া বলা হয়। এটি এমন একটি মানসিক অবস্থা, যেখানে উঁচু স্থান দেখলে বা সেখানে অবস্থান করলে অস্বাভাবিক ভয় ও উদ্বেগ তৈরি হয়। সাধারণ সতর্কতা থেকে এটি ভিন্ন। নিরাপদ অবস্থানেও আক্রান্ত ব্যক্তি ভারসাম্য হারানোর বা নিচে পড়ে যাওয়ার অযৌক্তিক আশঙ্কায় আতঙ্কিত হয়ে পড়তে পারেন। পাহাড়ের চূড়া, খাড়া ঢাল, ঝুলন্ত সেতু, পর্যবেক্ষণ টাওয়ার কিংবা বিমানে ভ্রমণের সময়ও এমন অনুভূতি দেখা দিতে পারে।
উচ্চতাভীতির লক্ষণ ব্যক্তি ভেদে ভিন্ন হতে পারে। কারও মাথা ঘোরে, বুক ধড়ফড় করে, হাত-পা কাঁপে বা অতিরিক্ত ঘাম হয়। আবার অনেকের মনে হয় তারা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলবেন বা নিচে পড়ে যাবেন। গুরুতর ক্ষেত্রে প্যানিক অ্যাটাকও হতে পারে, যা ভ্রমণের আনন্দকে মুহূর্তেই উদ্বেগে পরিণত করে। তবে প্রথমবার পাহাড়ে গিয়ে সাময়িক ভয় অনুভব করা স্বাভাবিক। কিন্তু এই ভয় যদি অতিরিক্ত হয় এবং স্বাভাবিক চলাফেরা বা ভ্রমণে বাধা সৃষ্টি করে, তাহলে সেটি হাইট ফোবিয়ার লক্ষণ হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, উচ্চতাভীতি থাকলে ভ্রমণের আগে গন্তব্য ও পাহাড়ি পথ সম্পর্কে ধারণা নেওয়া উচিত। খুব উঁচু বা ঝুঁকিপূর্ণ স্থান এড়িয়ে চলা, অভিজ্ঞ গাইডের সঙ্গে থাকা এবং দলবদ্ধভাবে ভ্রমণ করলে আত্মবিশ্বাস বাড়ে। খাড়া পাহাড়ের কিনারায় না যাওয়া, ছবি তুলতে গিয়ে অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকি না নেওয়া এবং প্রয়োজনে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি ধীরে ধীরে গভীর শ্বাস নেওয়ার অভ্যাস উদ্বেগ কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
বর্ষাকালে পাহাড় ভ্রমণে অতিরিক্ত সতর্কতা জরুরি। বৃষ্টির কারণে পাহাড়ি পথ পিচ্ছিল হয়ে যায় এবং ভূমিধসের ঝুঁকিও বেড়ে যায়। তাই ভ্রমণের আগে আবহাওয়ার পূর্বাভাস জেনে নেওয়া, স্থানীয় প্রশাসনের সতর্কবার্তা অনুসরণ করা এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় না যাওয়াই নিরাপদ। এ ছাড়া ভালো গ্রিপযুক্ত জুতা, রেইনকোট, প্রাথমিক চিকিৎসার সরঞ্জাম এবং পর্যাপ্ত পানীয় জল সঙ্গে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
তাদের মতে, উচ্চতার ভয় এবং প্রাকৃতিক ঝুঁকি অনেক সময় একে অপরকে আরও বাড়িয়ে তোলে। বর্ষার কুয়াশা, ভেজা পথ বা পিচ্ছিল ঢাল উচ্চতাভীতিতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের উদ্বেগ আরও বাড়াতে পারে। তাই নিজের মানসিক অবস্থা সম্পর্কে সচেতন থাকার পাশাপাশি পরিবেশগত ঝুঁকিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।
সঠিক প্রস্তুতি, সচেতনতা এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা অনুসরণ করলে উচ্চতাভীতি থাকলেও পাহাড় ভ্রমণ নিরাপদ, উপভোগ্য ও স্মরণীয় হয়ে উঠতে পারে।


























