বন্ধ শিল্পকারখানায় বেসরকারি বিনিয়োগে জোর, নরসিংদীতে ১,০৫০ কোটি টাকার নতুন প্রকল্প
- আপডেট সময় : ০৪:০৮:২৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬
- / 31

রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বন্ধ ও অলস শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে উৎপাদনমুখী সম্পদে পরিণত করতে বেসরকারি বিনিয়োগের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। এ লক্ষ্যে বন্ধ শিল্পকারখানাগুলোকে আধুনিক প্রযুক্তি ও নতুন বিনিয়োগের মাধ্যমে পুনরুজ্জীবিত করে উৎপাদন বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সচিবালয়ে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ জুট মিলস লিমিটেডের (বিজেএমএল) নরসিংদী ইউনিটের অতিরিক্ত ১৪ দশমিক ৮০ একর জমি জুট অ্যালায়েন্স লিমিটেডের কাছে লিজ প্রদানসংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের পর আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন রাষ্ট্রীয় সম্পদ অলস পড়ে থাকলে তা সম্পদ নয়, বরং রাষ্ট্রের জন্য দায়ে পরিণত হয়। তাই সরকার নিজে শিল্প পরিচালনার পরিবর্তে দক্ষ বেসরকারি উদ্যোক্তাদের সম্পৃক্ত করে এসব শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে পুনরায় উৎপাদনে ফিরিয়ে আনতে কাজ করছে। দীর্ঘমেয়াদি লিজ, রাজস্ব ভাগাভাগি এবং পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) মডেলের মাধ্যমে এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
তিনি জানান, নরসিংদীর এ প্রকল্পে প্রায় ১ হাজার ৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগ হবে। এর মাধ্যমে বছরে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার পণ্য উৎপাদন সম্ভব হবে এবং নতুন করে প্রায় ৩ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি সয়াবিন বীজ প্রক্রিয়াজাত করে ভোজ্যতেল উৎপাদনের মাধ্যমে দেশের খাদ্যনিরাপত্তা জোরদার হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, আগামী দুই বছরের মধ্যে অধিকাংশ বন্ধ রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠানে উৎপাদন কার্যক্রম দৃশ্যমান হবে। ইতোমধ্যে উৎপাদন বন্ধ থাকা ২৫টি পাটকলের মধ্যে ২০টি লিজের জন্য নির্বাচন করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৪টি পাটকলের লিজ চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে এবং ৯টি পাটকলে উৎপাদন শুরু হয়েছে। এসব কারখানায় বর্তমানে প্রায় ৯ হাজার ৫০০ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে এবং প্রতিদিন প্রায় ১৬০ মেট্রিক টন পাটজাত পণ্য উৎপাদিত হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ জুট মিলস লিমিটেডের মোট ৭৭ দশমিক ০২ একর জমির মধ্যে আগে ৩৪ দশমিক ৫০ একর জমি জুট অ্যালায়েন্স লিমিটেডকে লিজ দেওয়া হয়েছিল। সেখানে বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ৪০ মেট্রিক টন পাটজাত পণ্য উৎপাদিত হচ্ছে এবং প্রায় ৩ হাজার ২০০ জনের কর্মসংস্থান হয়েছে। নতুন করে অতিরিক্ত জমি লিজ দেওয়ার ফলে প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন সক্ষমতা ও বিনিয়োগ আরও বাড়বে।
রপ্তানি আয় প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে শিল্পমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি, ইউরোপীয় বাজারে চাহিদা কমে যাওয়া এবং নতুন শুল্কনীতির প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে ভোক্তা ব্যয় কমেছে। তবে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত ধীরে ধীরে উচ্চমূল্যের ম্যানমেড ফাইবার এবং ভ্যালু-অ্যাডেড পণ্য উৎপাদনের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এই রূপান্তর সম্পন্ন হলে একই পরিমাণ পণ্য রপ্তানি করেও আরও বেশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব হবে।
বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম বলেন, বন্ধ শিল্পকারখানা পুনরায় চালু করা বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। পর্যায়ক্রমে বিজেএমসি, বিটিএমসি এবং অন্যান্য রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠানেও বেসরকারি বিনিয়োগের মাধ্যমে উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করা হবে। তিনি বিনিয়োগকারীদের প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
জুট অ্যালায়েন্স লিমিটেডের প্রতিনিধি হায়দার জানান, সরকারের উদ্যোগে বন্ধ পাটকল পুনরায় চালুর কর্মসূচির অংশ হিসেবে গত দুই বছরে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ৩ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে। কারখানার দৈনিক উৎপাদন সক্ষমতা ৩৫ টন থেকে ৫০ টনে উন্নীত হয়েছে এবং উৎপাদিত সব পণ্য বিদেশে রপ্তানি করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, পরবর্তী ধাপে ১ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগে দৈনিক ৩ হাজার টন সক্ষমতার একটি সিড ক্রাশিং প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। আন্তর্জাতিক অর্থায়ন সংস্থা আইএফসি (IFC)-এর সহযোগিতায় বাস্তবায়িত এ প্রকল্প থেকে সয়াবিন তেল ও সয়া মিল উৎপাদন করা হবে। এর মাধ্যমে দেশের খাদ্যনিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি নতুন করে প্রায় ৩ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।





















