ঢাকা ০৮:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো জামিনের দিনই আদালত প্রাঙ্গণে বিতর্কে পরীমনি, সাংবাদিকদের সঙ্গে অপ্রীতিকর ঘটনায় সমালোচনা স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসে চাকরির সুযোগ, অভিজ্ঞতা ছাড়াই আবেদন করতে পারবেন ৩২ বছর বয়সীরা বাগেরহাটে হযরত খানজাহান আলীর (রহ.) মাজার জিয়ারত করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসকদের ড্রেসআপ নেই, ডাক্তার নাকি দালাল বোঝা মুশকিল: দুদক চেয়ারম্যান সংসদ অধিবেশন ঘিরে ৮ নভেম্বর রাত থেকে সংসদ ভবন এলাকায় সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ ডিসেম্বরের মধ্যেই পোশাকশ্রমিকদের নতুন ন্যূনতম মজুরি ঘোষণার আশ্বাস সরকারের হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশি জাহাজের নিরাপদ পারাপারে সহযোগিতার আশ্বাস ইরানের সাংবাদিকদের গ্রেফতারে আদালতের পূর্বানুমতির বিধান রাখার আলোচনা, সংশোধন হচ্ছে সাইবার সুরক্ষা আইন দ্বিতীয় পদ্মা-যমুনা সেতু ও পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

নবম পে স্কেলে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত, কমছে বেতন বৈষম্য; বাড়তে পারে বিভিন্ন ভাতা

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৪:১৯:৫১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬
  • / 99

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বহুল প্রত্যাশিত নবম জাতীয় পে স্কেল চূড়ান্ত করার কার্যক্রম শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। নতুন বেতন কাঠামোয় সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন মূল বেতনের ব্যবধান কমানোর পাশাপাশি বিভিন্ন ভাতা পুনর্নির্ধারণ এবং দুই ধাপে পে স্কেল বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

যদিও গত ১ জুলাই থেকে নবম জাতীয় পে স্কেল কার্যকরের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, এখনো এ-সংক্রান্ত কোনো গেজেট প্রকাশ হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধারণা, প্রজ্ঞাপন জারি হতে আরও দুই থেকে তিন মাস সময় লাগতে পারে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সুপারিশ পর্যালোচনাকারী সচিব কমিটি বর্তমান ১:৯.৪ অনুপাত কমিয়ে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন মূল বেতনের ব্যবধান ১:৭.৫ করার পক্ষে মত দিয়েছে। এর আগে জাতীয় বেতন কমিশন এই অনুপাত ১:৮ করার সুপারিশ করেছিল।

নতুন পে স্কেলে বার্ষিক ইনক্রিমেন্টেও পরিবর্তনের পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে সব গ্রেডে একই ধরনের ইনক্রিমেন্ট কার্যকর থাকলেও নতুন কাঠামোয় গ্রেডভেদে ভিন্ন হারে বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব রাখা হয়েছে। পাশাপাশি বেতন কাঠামো, বিভিন্ন ভাতা এবং বাস্তবায়ন পদ্ধতিতেও পরিবর্তন আনার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।

নতুন বেতন নির্ধারণে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ‘লিভিং স্ট্যান্ডার্ড সার্ভে ২০২৫’-এর তথ্যকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। জরিপ অনুযায়ী, দেশে একটি পরিবারের গড় মাসিক ব্যয় ৩৫ হাজার ৩১১ টাকা। সিটি করপোরেশন এলাকায় এই ব্যয় ৪৬ হাজার ৭৭৮ টাকা এবং ছয় সদস্যের একটি পরিবারের গড় মাসিক ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৬৬ হাজার ২৫৩ টাকা।

জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, প্রথম গ্রেডের মূল বেতন ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা এবং ২০তম গ্রেডের মূল বেতন ২০ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছিল। তবে সচিব কমিটি প্রথম গ্রেডের মূল বেতন ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা নির্ধারণের বিষয়টি বিবেচনা করছে। একই সঙ্গে সর্বনিম্ন গ্রেডের বেতনেও কিছু সমন্বয় আনার চিন্তাভাবনা চলছে।

সরকার ১৯তম গ্রেড থেকে প্রথম গ্রেড পর্যন্ত বিভিন্ন ধরনের ভাতা বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। বিশেষ করে যাতায়াত, টিফিন, ধোলাই ও ঝুঁকিভাতার মতো সুবিধার ক্ষেত্রে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য তুলনামূলক বেশি সুবিধা দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।

তবে সব ধরনের সুবিধা একসঙ্গে কার্যকর করার পরিকল্পনা নেই। বেতন কমিশন চিকিৎসা ভাতা সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা করার সুপারিশ করলেও সরকার তা ৩ হাজার টাকায় নির্ধারণের বিষয়টি বিবেচনা করছে। একইভাবে সন্তানদের শিক্ষা ভাতা কমিশনের প্রস্তাবিত ২ হাজার টাকার পরিবর্তে ১ হাজার ৫০০ টাকা করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

অর্থ বিভাগের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নবম পে স্কেল দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক দায়বদ্ধতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হওয়ায় এ বিষয়ে তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে না। প্রতিটি সুপারিশের আর্থিক প্রভাব, প্রশাসনিক বাস্তবতা এবং আইনগত বিষয় পর্যালোচনা করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তিনি আরও জানান, চলতি মাসের শেষ দিকে সচিব কমিটি তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে জমা দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। এর আগে আরও দুটি বৈঠকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মতামত, আর্থিক সক্ষমতা এবং ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের কৌশল নিয়ে আলোচনা হবে। পরে বিষয়টি মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের পর আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং শেষে নবম জাতীয় পে স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

নবম পে স্কেলে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত, কমছে বেতন বৈষম্য; বাড়তে পারে বিভিন্ন ভাতা

আপডেট সময় : ০৪:১৯:৫১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বহুল প্রত্যাশিত নবম জাতীয় পে স্কেল চূড়ান্ত করার কার্যক্রম শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। নতুন বেতন কাঠামোয় সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন মূল বেতনের ব্যবধান কমানোর পাশাপাশি বিভিন্ন ভাতা পুনর্নির্ধারণ এবং দুই ধাপে পে স্কেল বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

যদিও গত ১ জুলাই থেকে নবম জাতীয় পে স্কেল কার্যকরের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, এখনো এ-সংক্রান্ত কোনো গেজেট প্রকাশ হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধারণা, প্রজ্ঞাপন জারি হতে আরও দুই থেকে তিন মাস সময় লাগতে পারে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সুপারিশ পর্যালোচনাকারী সচিব কমিটি বর্তমান ১:৯.৪ অনুপাত কমিয়ে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন মূল বেতনের ব্যবধান ১:৭.৫ করার পক্ষে মত দিয়েছে। এর আগে জাতীয় বেতন কমিশন এই অনুপাত ১:৮ করার সুপারিশ করেছিল।

নতুন পে স্কেলে বার্ষিক ইনক্রিমেন্টেও পরিবর্তনের পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে সব গ্রেডে একই ধরনের ইনক্রিমেন্ট কার্যকর থাকলেও নতুন কাঠামোয় গ্রেডভেদে ভিন্ন হারে বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব রাখা হয়েছে। পাশাপাশি বেতন কাঠামো, বিভিন্ন ভাতা এবং বাস্তবায়ন পদ্ধতিতেও পরিবর্তন আনার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।

নতুন বেতন নির্ধারণে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ‘লিভিং স্ট্যান্ডার্ড সার্ভে ২০২৫’-এর তথ্যকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। জরিপ অনুযায়ী, দেশে একটি পরিবারের গড় মাসিক ব্যয় ৩৫ হাজার ৩১১ টাকা। সিটি করপোরেশন এলাকায় এই ব্যয় ৪৬ হাজার ৭৭৮ টাকা এবং ছয় সদস্যের একটি পরিবারের গড় মাসিক ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৬৬ হাজার ২৫৩ টাকা।

জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, প্রথম গ্রেডের মূল বেতন ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা এবং ২০তম গ্রেডের মূল বেতন ২০ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছিল। তবে সচিব কমিটি প্রথম গ্রেডের মূল বেতন ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা নির্ধারণের বিষয়টি বিবেচনা করছে। একই সঙ্গে সর্বনিম্ন গ্রেডের বেতনেও কিছু সমন্বয় আনার চিন্তাভাবনা চলছে।

সরকার ১৯তম গ্রেড থেকে প্রথম গ্রেড পর্যন্ত বিভিন্ন ধরনের ভাতা বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। বিশেষ করে যাতায়াত, টিফিন, ধোলাই ও ঝুঁকিভাতার মতো সুবিধার ক্ষেত্রে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য তুলনামূলক বেশি সুবিধা দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।

তবে সব ধরনের সুবিধা একসঙ্গে কার্যকর করার পরিকল্পনা নেই। বেতন কমিশন চিকিৎসা ভাতা সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা করার সুপারিশ করলেও সরকার তা ৩ হাজার টাকায় নির্ধারণের বিষয়টি বিবেচনা করছে। একইভাবে সন্তানদের শিক্ষা ভাতা কমিশনের প্রস্তাবিত ২ হাজার টাকার পরিবর্তে ১ হাজার ৫০০ টাকা করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

অর্থ বিভাগের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নবম পে স্কেল দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক দায়বদ্ধতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হওয়ায় এ বিষয়ে তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে না। প্রতিটি সুপারিশের আর্থিক প্রভাব, প্রশাসনিক বাস্তবতা এবং আইনগত বিষয় পর্যালোচনা করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তিনি আরও জানান, চলতি মাসের শেষ দিকে সচিব কমিটি তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে জমা দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। এর আগে আরও দুটি বৈঠকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মতামত, আর্থিক সক্ষমতা এবং ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের কৌশল নিয়ে আলোচনা হবে। পরে বিষয়টি মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের পর আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং শেষে নবম জাতীয় পে স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।