ঢাকা ১১:১৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
যুক্তরাষ্ট্রের ভিজিটর ভিসা নিয়ে বাংলাদেশিদের সতর্ক করল মার্কিন দূতাবাস ঢাকার মেট্রোরেল লাইন-১-এর বড় দুই প্যাকেজ পেল ভারতের এলঅ্যান্ডটি, ব্যয় ৫ হাজার কোটি রুপির বেশি দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে গ্রিড বিপর্যয়: কারণ অনুসন্ধানে বিদ্যুৎ বিভাগের ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি জাপানে নিটসু লজিস্টিকস হাব পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকা-চট্টগ্রামে গ্রিড বিপর্যয়, অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের তারিখ পরিবর্তন, নতুন সময়সূচি ৩১ অক্টোবর নতুন পে স্কেলে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন নিয়ে সিদ্ধান্ত অর্থ মন্ত্রণালয়ের হাতে দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শন ও জনসভায় যোগ দিতে রাজশাহীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ৯ মাসে ৫১৮ সাংবাদিক নির্যাতনের শিকার, মব সহিংসতায় নিহত ১৮৭: এইচআরএসএস জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধনে যাননি কেন, প্রধানমন্ত্রীর ক্ষোভের জবাব দিলেন গোলাম পরওয়ার

তীব্র গরমে বাড়ছে লোডশেডিং, বিদ্যুৎ সংকটে বিপর্যস্ত জনজীবন

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৫:৩৫:৫৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬
  • / 31

তীব্র দাবদাহের মধ্যে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় এবং উৎপাদন ঘাটতির কারণে সারা দেশে লোডশেডিং বেড়েছে। প্রাকৃতিক গ্যাসের সংকট, বৈদেশিক মুদ্রার অভাবে জ্বালানি আমদানি ব্যাহত হওয়া, কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে যান্ত্রিক ত্রুটি এবং সাম্প্রতিক ঝড়-বৃষ্টির প্রভাব মিলিয়ে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে উঠেছে।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, রোববার (২৮ জুন) সারা দেশে গড়ে ২ থেকে আড়াই হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুতের ঘাটতি ছিল। এর আগে গত মে মাসেও প্রায় একই পরিমাণ লোডশেডিং হয়েছিল। সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, তাপমাত্রা আরও বাড়লে বিদ্যুৎ সংকট নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।

বর্তমানে রাজধানী ঢাকায় সীমিত আকারে লোডশেডিং হলেও পরিস্থিতি তুলনামূলক সহনীয়। তবে ঢাকার বাইরে অধিকাংশ জেলায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় জনজীবন ও উৎপাদন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে ময়মনসিংহের শিল্প ও কৃষিপ্রধান এলাকাগুলোতে প্রতিদিন ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বিদ্যুৎ বিভাগের সূত্রে জানা গেছে, পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রয়োজনে ঢাকাতেও লোডশেডিংয়ের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। তিনি বলেন, রাজধানীতে লোডশেডিংয়ের প্রয়োজন হলে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন নেওয়া হবে।

এদিকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে সার কারখানাসহ অন্য কিছু খাতে গ্যাস সরবরাহ কমিয়ে বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ময়মনসিংহ অঞ্চলের বিদ্যুৎ সংকট কমাতে ইউনাইটেড পাওয়ার কোম্পানির দুটি কেন্দ্র থেকে উৎপাদন বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রোববার সংসদ সচিবালয়ে বিদ্যুৎমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী, জ্বালানি সচিব, বিদ্যুৎ সচিবসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকের পর বিদ্যুৎমন্ত্রী জানান, রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বন্ধ রয়েছে এবং অন্য একটি ইউনিটেও স্বাভাবিকের তুলনায় কম বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। এ কারণে বিদ্যুৎ ঘাটতি বেড়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে খুলনার ৩০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ডিজেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু করা হয়েছে।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) জানিয়েছে, অর্থ সংকট, গ্যাসের ঘাটতি, কয়লাভিত্তিক কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের সীমিত উৎপাদন এবং বিতরণ ব্যবস্থার সমন্বয়হীনতার কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। সংস্থাটির মতে, গত পাঁচ বছরের মধ্যে বিদ্যুৎ খাতে এমন সংকট দেখা যায়নি।

এদিকে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে দীর্ঘ সময়ের লোডশেডিংয়ের অভিযোগ আসছে। ময়মনসিংহের ভালুকা, রাজধানীসংলগ্ন কেরানীগঞ্জ এবং চট্টগ্রামের লোহাগড়াসহ বিভিন্ন অঞ্চলের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, দিনের বড় একটি সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প উৎপাদন, কৃষিকাজ এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

তীব্র গরমে বাড়ছে লোডশেডিং, বিদ্যুৎ সংকটে বিপর্যস্ত জনজীবন

আপডেট সময় : ০৫:৩৫:৫৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

তীব্র দাবদাহের মধ্যে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় এবং উৎপাদন ঘাটতির কারণে সারা দেশে লোডশেডিং বেড়েছে। প্রাকৃতিক গ্যাসের সংকট, বৈদেশিক মুদ্রার অভাবে জ্বালানি আমদানি ব্যাহত হওয়া, কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে যান্ত্রিক ত্রুটি এবং সাম্প্রতিক ঝড়-বৃষ্টির প্রভাব মিলিয়ে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে উঠেছে।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, রোববার (২৮ জুন) সারা দেশে গড়ে ২ থেকে আড়াই হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুতের ঘাটতি ছিল। এর আগে গত মে মাসেও প্রায় একই পরিমাণ লোডশেডিং হয়েছিল। সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, তাপমাত্রা আরও বাড়লে বিদ্যুৎ সংকট নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।

বর্তমানে রাজধানী ঢাকায় সীমিত আকারে লোডশেডিং হলেও পরিস্থিতি তুলনামূলক সহনীয়। তবে ঢাকার বাইরে অধিকাংশ জেলায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় জনজীবন ও উৎপাদন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে ময়মনসিংহের শিল্প ও কৃষিপ্রধান এলাকাগুলোতে প্রতিদিন ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বিদ্যুৎ বিভাগের সূত্রে জানা গেছে, পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রয়োজনে ঢাকাতেও লোডশেডিংয়ের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। তিনি বলেন, রাজধানীতে লোডশেডিংয়ের প্রয়োজন হলে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন নেওয়া হবে।

এদিকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে সার কারখানাসহ অন্য কিছু খাতে গ্যাস সরবরাহ কমিয়ে বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ময়মনসিংহ অঞ্চলের বিদ্যুৎ সংকট কমাতে ইউনাইটেড পাওয়ার কোম্পানির দুটি কেন্দ্র থেকে উৎপাদন বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রোববার সংসদ সচিবালয়ে বিদ্যুৎমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী, জ্বালানি সচিব, বিদ্যুৎ সচিবসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকের পর বিদ্যুৎমন্ত্রী জানান, রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বন্ধ রয়েছে এবং অন্য একটি ইউনিটেও স্বাভাবিকের তুলনায় কম বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। এ কারণে বিদ্যুৎ ঘাটতি বেড়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে খুলনার ৩০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ডিজেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু করা হয়েছে।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) জানিয়েছে, অর্থ সংকট, গ্যাসের ঘাটতি, কয়লাভিত্তিক কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের সীমিত উৎপাদন এবং বিতরণ ব্যবস্থার সমন্বয়হীনতার কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। সংস্থাটির মতে, গত পাঁচ বছরের মধ্যে বিদ্যুৎ খাতে এমন সংকট দেখা যায়নি।

এদিকে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে দীর্ঘ সময়ের লোডশেডিংয়ের অভিযোগ আসছে। ময়মনসিংহের ভালুকা, রাজধানীসংলগ্ন কেরানীগঞ্জ এবং চট্টগ্রামের লোহাগড়াসহ বিভিন্ন অঞ্চলের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, দিনের বড় একটি সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প উৎপাদন, কৃষিকাজ এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।