ঢাকা ০৮:০৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
যুক্তরাষ্ট্রের ভিজিটর ভিসা নিয়ে বাংলাদেশিদের সতর্ক করল মার্কিন দূতাবাস ঢাকার মেট্রোরেল লাইন-১-এর বড় দুই প্যাকেজ পেল ভারতের এলঅ্যান্ডটি, ব্যয় ৫ হাজার কোটি রুপির বেশি দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে গ্রিড বিপর্যয়: কারণ অনুসন্ধানে বিদ্যুৎ বিভাগের ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি জাপানে নিটসু লজিস্টিকস হাব পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকা-চট্টগ্রামে গ্রিড বিপর্যয়, অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের তারিখ পরিবর্তন, নতুন সময়সূচি ৩১ অক্টোবর নতুন পে স্কেলে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন নিয়ে সিদ্ধান্ত অর্থ মন্ত্রণালয়ের হাতে দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শন ও জনসভায় যোগ দিতে রাজশাহীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ৯ মাসে ৫১৮ সাংবাদিক নির্যাতনের শিকার, মব সহিংসতায় নিহত ১৮৭: এইচআরএসএস জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধনে যাননি কেন, প্রধানমন্ত্রীর ক্ষোভের জবাব দিলেন গোলাম পরওয়ার

ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণে বড় উল্লম্ফন, ৩ মাসে বেড়েছে ৩১ হাজার কোটি টাকা

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৭:৪৯:২০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬
  • / 124

দেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ আবারও বড় আকারে বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রান্তিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ শেষে দেশের তফসিলি ব্যাংকগুলোতে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা।

এর আগে গত ডিসেম্বর শেষে এই পরিমাণ ছিল ৫ লাখ ৫৭ হাজার ২১৭ কোটি টাকা। অর্থাৎ মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩১ হাজার ৪৮৭ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি–মার্চ প্রান্তিকে আগের তুলনায় খেলাপি ঋণ আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুদ যুক্ত হওয়া, ঋণ আদায়ে দুর্বলতা এবং পুনঃতফসিল প্রক্রিয়ার সীমাবদ্ধতার কারণে খেলাপি ঋণ দ্রুত বাড়ছে।

মোট ঋণের এক-তৃতীয়াংশই খেলাপি

মার্চ শেষে দেশের ৬১টি তফসিলি ব্যাংকে মোট বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৮ লাখ ২৪ হাজার ৬৬৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ঋণের হার দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩২.২৬ শতাংশ, যা ব্যাংক খাতের জন্য একটি গুরুতর সংকেত।

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক। এসব ব্যাংকে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৩ লাখ ২৬ হাজার ৬৮৬ কোটি টাকা, যা তাদের মোট বিতরণকৃত ঋণের প্রায় ৪৬ শতাংশ।

দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতায় উদ্বেগ

বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত দেড় দশকে খেলাপি ঋণ ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। ২০০৯ সালে এই পরিমাণ ছিল মাত্র ২২ হাজার ৪৮১ কোটি টাকা, যা ২০২৪ সালের জুনে এসে দাঁড়ায় ২ লাখ ১১ হাজার ৩৯১ কোটি টাকায়।

এরপর রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ব্যাংক খাতের প্রকৃত চিত্র প্রকাশ পেতে শুরু করলে খেলাপি ঋণের পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে পুনঃতফসিল ও বিশেষ সুবিধার মাধ্যমে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করা হলেও সর্বশেষ পরিসংখ্যানে আবারও ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণে বড় উল্লম্ফন, ৩ মাসে বেড়েছে ৩১ হাজার কোটি টাকা

আপডেট সময় : ০৭:৪৯:২০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬

দেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ আবারও বড় আকারে বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রান্তিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ শেষে দেশের তফসিলি ব্যাংকগুলোতে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা।

এর আগে গত ডিসেম্বর শেষে এই পরিমাণ ছিল ৫ লাখ ৫৭ হাজার ২১৭ কোটি টাকা। অর্থাৎ মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩১ হাজার ৪৮৭ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি–মার্চ প্রান্তিকে আগের তুলনায় খেলাপি ঋণ আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুদ যুক্ত হওয়া, ঋণ আদায়ে দুর্বলতা এবং পুনঃতফসিল প্রক্রিয়ার সীমাবদ্ধতার কারণে খেলাপি ঋণ দ্রুত বাড়ছে।

মোট ঋণের এক-তৃতীয়াংশই খেলাপি

মার্চ শেষে দেশের ৬১টি তফসিলি ব্যাংকে মোট বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৮ লাখ ২৪ হাজার ৬৬৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ঋণের হার দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩২.২৬ শতাংশ, যা ব্যাংক খাতের জন্য একটি গুরুতর সংকেত।

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক। এসব ব্যাংকে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৩ লাখ ২৬ হাজার ৬৮৬ কোটি টাকা, যা তাদের মোট বিতরণকৃত ঋণের প্রায় ৪৬ শতাংশ।

দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতায় উদ্বেগ

বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত দেড় দশকে খেলাপি ঋণ ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। ২০০৯ সালে এই পরিমাণ ছিল মাত্র ২২ হাজার ৪৮১ কোটি টাকা, যা ২০২৪ সালের জুনে এসে দাঁড়ায় ২ লাখ ১১ হাজার ৩৯১ কোটি টাকায়।

এরপর রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ব্যাংক খাতের প্রকৃত চিত্র প্রকাশ পেতে শুরু করলে খেলাপি ঋণের পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে পুনঃতফসিল ও বিশেষ সুবিধার মাধ্যমে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করা হলেও সর্বশেষ পরিসংখ্যানে আবারও ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে।