ঢাকা ০৪:৫৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
যুক্তরাষ্ট্রের ভিজিটর ভিসা নিয়ে বাংলাদেশিদের সতর্ক করল মার্কিন দূতাবাস ঢাকার মেট্রোরেল লাইন-১-এর বড় দুই প্যাকেজ পেল ভারতের এলঅ্যান্ডটি, ব্যয় ৫ হাজার কোটি রুপির বেশি দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে গ্রিড বিপর্যয়: কারণ অনুসন্ধানে বিদ্যুৎ বিভাগের ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি জাপানে নিটসু লজিস্টিকস হাব পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকা-চট্টগ্রামে গ্রিড বিপর্যয়, অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের তারিখ পরিবর্তন, নতুন সময়সূচি ৩১ অক্টোবর নতুন পে স্কেলে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন নিয়ে সিদ্ধান্ত অর্থ মন্ত্রণালয়ের হাতে দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শন ও জনসভায় যোগ দিতে রাজশাহীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ৯ মাসে ৫১৮ সাংবাদিক নির্যাতনের শিকার, মব সহিংসতায় নিহত ১৮৭: এইচআরএসএস জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধনে যাননি কেন, প্রধানমন্ত্রীর ক্ষোভের জবাব দিলেন গোলাম পরওয়ার

জ্বালানি ব্যয় বাড়ায় বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর উদ্যোগ, ইউনিটে ১.৫০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধির সুপারিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৬:২৪:৫২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬
  • / 115

বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত তরল প্রাকৃতিক গ্যাস, কয়লা ও তেলের বড় অংশ আমদানি করতে হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধির প্রভাব দেশের বিদ্যুৎ খাতে পড়েছে। এতে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় এবার বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে ইউনিটপ্রতি বিদ্যুতের দাম সর্বোচ্চ ১ টাকা ৫০ পয়সা পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। সম্প্রতি অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের কমিটির পরামর্শের ভিত্তিতে বিদ্যুৎ বিভাগ এই প্রস্তাব বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের কাছে পাঠিয়েছে।

বিতরণ কোম্পানিগুলো জানিয়েছে, তারা কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী প্রস্তাব প্রস্তুত করছে এবং চলতি সপ্তাহের মধ্যেই তা জমা দেওয়া হতে পারে। এরপর কমিশন গণশুনানি করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। নতুন মূল্য জুন মাসের শুরুতেই কার্যকর হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে, জ্বালানি আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি, উৎপাদন খরচ ও বিক্রয়মূল্যের ব্যবধান এবং ভর্তুকির চাপ কমাতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এর আগে এ খাতে বাড়তি ব্যয় সামাল দিতে একটি উচ্চপর্যায়ের মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়েছিল।

প্রস্তাব অনুযায়ী, পাইকারি পর্যায়ে ইউনিটপ্রতি ১.৫০ টাকা পর্যন্ত মূল্য বৃদ্ধি হতে পারে। খুচরা পর্যায়ে ব্যবহারভিত্তিক ভিন্ন হারে দাম সমন্বয়ের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে স্বল্প ব্যবহারকারী গ্রাহকদের ক্ষেত্রে আপাতত বাড়তি চাপ না দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই মূল্যবৃদ্ধি ভর্তুকির চাপ কিছুটা কমাতে সহায়তা করতে পারে। তবে এর ফলে শিল্প উৎপাদন ব্যয় বাড়বে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়েও অতিরিক্ত চাপ তৈরি হতে পারে।

বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদনের গড় খরচ এবং গ্রাহক পর্যায়ে বিক্রয়মূল্যের মধ্যে বড় ব্যবধান রয়েছে। এই ঘাটতির কারণে সরকারকে ব্যাপক ভর্তুকি দিতে হচ্ছে, যা আগামী অর্থবছরে আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

জ্বালানি ব্যয় বাড়ায় বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর উদ্যোগ, ইউনিটে ১.৫০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধির সুপারিশ

আপডেট সময় : ০৬:২৪:৫২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬

বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত তরল প্রাকৃতিক গ্যাস, কয়লা ও তেলের বড় অংশ আমদানি করতে হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধির প্রভাব দেশের বিদ্যুৎ খাতে পড়েছে। এতে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় এবার বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে ইউনিটপ্রতি বিদ্যুতের দাম সর্বোচ্চ ১ টাকা ৫০ পয়সা পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। সম্প্রতি অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের কমিটির পরামর্শের ভিত্তিতে বিদ্যুৎ বিভাগ এই প্রস্তাব বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের কাছে পাঠিয়েছে।

বিতরণ কোম্পানিগুলো জানিয়েছে, তারা কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী প্রস্তাব প্রস্তুত করছে এবং চলতি সপ্তাহের মধ্যেই তা জমা দেওয়া হতে পারে। এরপর কমিশন গণশুনানি করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। নতুন মূল্য জুন মাসের শুরুতেই কার্যকর হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে, জ্বালানি আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি, উৎপাদন খরচ ও বিক্রয়মূল্যের ব্যবধান এবং ভর্তুকির চাপ কমাতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এর আগে এ খাতে বাড়তি ব্যয় সামাল দিতে একটি উচ্চপর্যায়ের মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়েছিল।

প্রস্তাব অনুযায়ী, পাইকারি পর্যায়ে ইউনিটপ্রতি ১.৫০ টাকা পর্যন্ত মূল্য বৃদ্ধি হতে পারে। খুচরা পর্যায়ে ব্যবহারভিত্তিক ভিন্ন হারে দাম সমন্বয়ের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে স্বল্প ব্যবহারকারী গ্রাহকদের ক্ষেত্রে আপাতত বাড়তি চাপ না দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই মূল্যবৃদ্ধি ভর্তুকির চাপ কিছুটা কমাতে সহায়তা করতে পারে। তবে এর ফলে শিল্প উৎপাদন ব্যয় বাড়বে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়েও অতিরিক্ত চাপ তৈরি হতে পারে।

বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদনের গড় খরচ এবং গ্রাহক পর্যায়ে বিক্রয়মূল্যের মধ্যে বড় ব্যবধান রয়েছে। এই ঘাটতির কারণে সরকারকে ব্যাপক ভর্তুকি দিতে হচ্ছে, যা আগামী অর্থবছরে আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।