ঢাকা ১০:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো জামিনের দিনই আদালত প্রাঙ্গণে বিতর্কে পরীমনি, সাংবাদিকদের সঙ্গে অপ্রীতিকর ঘটনায় সমালোচনা স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসে চাকরির সুযোগ, অভিজ্ঞতা ছাড়াই আবেদন করতে পারবেন ৩২ বছর বয়সীরা বাগেরহাটে হযরত খানজাহান আলীর (রহ.) মাজার জিয়ারত করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসকদের ড্রেসআপ নেই, ডাক্তার নাকি দালাল বোঝা মুশকিল: দুদক চেয়ারম্যান সংসদ অধিবেশন ঘিরে ৮ নভেম্বর রাত থেকে সংসদ ভবন এলাকায় সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ ডিসেম্বরের মধ্যেই পোশাকশ্রমিকদের নতুন ন্যূনতম মজুরি ঘোষণার আশ্বাস সরকারের হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশি জাহাজের নিরাপদ পারাপারে সহযোগিতার আশ্বাস ইরানের সাংবাদিকদের গ্রেফতারে আদালতের পূর্বানুমতির বিধান রাখার আলোচনা, সংশোধন হচ্ছে সাইবার সুরক্ষা আইন দ্বিতীয় পদ্মা-যমুনা সেতু ও পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

হামে শিশু মৃত্যুর পেছনে নিউমোনিয়া ও অপুষ্টি প্রধান কারণ

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ১০:৩০:৪৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
  • / 203

দেশে হামে আক্রান্ত শিশুদের মৃত্যুর পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে নিউমোনিয়া ও অপুষ্টিজনিত জটিলতা। সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মারা যাওয়া শিশুদের প্রায় ৯০ শতাংশই এসব জটিলতায় প্রাণ হারিয়েছে। এছাড়া কিছু ক্ষেত্রে মস্তিষ্কের প্রদাহ ও রক্তে সংক্রমণও মৃত্যুর কারণ হয়েছে।

রাজধানীর তিনটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া ৬৬ শিশুর তথ্য বিশ্লেষণে এই উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। এসব হাসপাতালে মোট ভর্তি হয়েছিল প্রায় ছয় হাজারের বেশি শিশু। এর মধ্যে অল্প সময়ের মধ্যেই অনেক শিশুর মৃত্যু হয়েছে—ভর্তির ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই প্রতি তিনজনের একজন মারা গেছে।

বয়সভিত্তিক হিসেবে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে ৭ থেকে ১০ মাস বয়সী শিশু। পাশাপাশি ছয় মাসের কম বয়সী শিশুরাও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যেসব শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল বা যারা টিকা নেয়নি, তাদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি অনেক বেশি।

চিকিৎসকদের মতে, হামের সঙ্গে নিউমোনিয়া যুক্ত হলে পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে ওঠে। অনেক শিশু গুরুতর শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে আসে, কিন্তু জেলা বা উপজেলা পর্যায়ে যথাযথ চিকিৎসা না পাওয়ায় তাদের অবস্থার অবনতি ঘটে। সময়মতো অক্সিজেনসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে অনেক মৃত্যু এড়ানো সম্ভব ছিল।

অন্যদিকে অপুষ্টিও বড় একটি কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের মৃত্যুঝুঁকি স্বাভাবিক শিশুদের তুলনায় অনেক বেশি। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, দেশে অপুষ্টির হার বেড়ে যাওয়ায় এই সংকট আরও তীব্র হয়েছে।

এছাড়া টিকাদান কার্যক্রমে ঘাটতির বিষয়টিও সামনে এসেছে। আক্রান্ত শিশুদের বড় একটি অংশ কোনো টিকাই পায়নি। এতে করে সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি ভিত্তিতে টিকাদান জোরদার, উপজেলা পর্যায়ে চিকিৎসা সুবিধা বাড়ানো এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। তা না হলে শিশু মৃত্যুর হার আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

হামে শিশু মৃত্যুর পেছনে নিউমোনিয়া ও অপুষ্টি প্রধান কারণ

আপডেট সময় : ১০:৩০:৪৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

দেশে হামে আক্রান্ত শিশুদের মৃত্যুর পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে নিউমোনিয়া ও অপুষ্টিজনিত জটিলতা। সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মারা যাওয়া শিশুদের প্রায় ৯০ শতাংশই এসব জটিলতায় প্রাণ হারিয়েছে। এছাড়া কিছু ক্ষেত্রে মস্তিষ্কের প্রদাহ ও রক্তে সংক্রমণও মৃত্যুর কারণ হয়েছে।

রাজধানীর তিনটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া ৬৬ শিশুর তথ্য বিশ্লেষণে এই উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। এসব হাসপাতালে মোট ভর্তি হয়েছিল প্রায় ছয় হাজারের বেশি শিশু। এর মধ্যে অল্প সময়ের মধ্যেই অনেক শিশুর মৃত্যু হয়েছে—ভর্তির ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই প্রতি তিনজনের একজন মারা গেছে।

বয়সভিত্তিক হিসেবে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে ৭ থেকে ১০ মাস বয়সী শিশু। পাশাপাশি ছয় মাসের কম বয়সী শিশুরাও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যেসব শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল বা যারা টিকা নেয়নি, তাদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি অনেক বেশি।

চিকিৎসকদের মতে, হামের সঙ্গে নিউমোনিয়া যুক্ত হলে পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে ওঠে। অনেক শিশু গুরুতর শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে আসে, কিন্তু জেলা বা উপজেলা পর্যায়ে যথাযথ চিকিৎসা না পাওয়ায় তাদের অবস্থার অবনতি ঘটে। সময়মতো অক্সিজেনসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে অনেক মৃত্যু এড়ানো সম্ভব ছিল।

অন্যদিকে অপুষ্টিও বড় একটি কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের মৃত্যুঝুঁকি স্বাভাবিক শিশুদের তুলনায় অনেক বেশি। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, দেশে অপুষ্টির হার বেড়ে যাওয়ায় এই সংকট আরও তীব্র হয়েছে।

এছাড়া টিকাদান কার্যক্রমে ঘাটতির বিষয়টিও সামনে এসেছে। আক্রান্ত শিশুদের বড় একটি অংশ কোনো টিকাই পায়নি। এতে করে সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি ভিত্তিতে টিকাদান জোরদার, উপজেলা পর্যায়ে চিকিৎসা সুবিধা বাড়ানো এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। তা না হলে শিশু মৃত্যুর হার আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।