সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর: তথ্যের ঘাটতি স্বীকার
- আপডেট সময় : ০৩:৫৪:৩৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
- / 28

সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় তথ্য বিনিময়ে ঘাটতি ছিল বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। ঘটনাটিকে দুঃখজনক উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিষয়টির বিস্তারিত জানতে সৌদি আরবের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। এ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
হুমায়ুন কবির বলেন, সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক ভালো ও গভীর। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং বর্তমান সরকারের সঙ্গে দেশটির সম্পর্ক ঐতিহাসিক। ভবিষ্যতে এ সম্পর্ক আরও উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও সৌদি আরব উভয়ই জেনেভা কনভেনশনে স্বাক্ষরকারী দেশ। এ ধরনের ঘটনায় দুই দেশের মধ্যে তথ্য বিনিময় ও যোগাযোগ থাকার কথা ছিল। কিন্তু এ ক্ষেত্রে তথ্যের ঘাটতি কেন দেখা দিয়েছে, তা জানতে সৌদি আরবের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, “এখানে একটা তথ্যের ঘাটতি ছিল, প্রক্রিয়ায় কোনো এক জায়গায় একটা ত্রুটি আছে। এটা খতিয়ে দেখার জন্য দুই পক্ষের মধ্যে কথাবার্তা বলছি।”
ঘটনাটিকে অত্যন্ত হতাশাজনক ও দুঃখজনক উল্লেখ করে হুমায়ুন কবির বলেন, এমন ঘটনা ঘটে থাকলে তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর ব্লাড মানি বা ক্ষতিপূরণ পাওয়ার বিষয়ে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়ে যাওয়ায় এখন আর সেই সুযোগ নেই। বরং তথ্য বিনিময়ে কোথায় ঘাটতি হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হবে।
মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশির পরিচয় এবং তাঁরা স্বামী-স্ত্রী ছিলেন কি না, জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সংবাদপত্রের প্রতিবেদনে তাঁদের বাংলাদেশি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তাঁদের বিষয়ে আরও তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।
হুমায়ুন কবির আরও বলেন, কোনো দেশের নাগরিক অন্য দেশে অপরাধের অভিযোগে আটক হলে সংশ্লিষ্ট দেশের পক্ষ থেকে তা জানানোর প্রত্যাশা থাকে। এতে আটক ব্যক্তির নিজ দেশ কনস্যুলার সেবা দেওয়ার পাশাপাশি পুরো বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করতে পারে। সৌদি আরবের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের এমন প্রত্যাশা ছিল।
তিনি বলেন, কোনো অপরাধ সংঘটিত হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট দেশের আইন অনুযায়ী বিচারপ্রক্রিয়া চলতে পারে। তবে এ ঘটনায় তথ্য বিনিময়, যোগাযোগ ও প্রক্রিয়াগত ঘাটতি কোথায় হয়েছে, তা স্পষ্ট করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে সৌদি আরবের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
এর আগে রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দ্বিপক্ষীয় বিষয়ক সচিব মো. নজরুল ইসলাম ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ বিন জাফর এইচ. বিন আবিয়াহর সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়। এ সময় সৌদি সরকারকে পাঠানো আগের একটি কূটনৈতিক পত্রের অনুলিপিও রাষ্ট্রদূতের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

























