ঢাকা ডিসির ছদ্মবেশী পরিদর্শন, বোরকা পরে ভূমি অফিসে সাধারণ সেবাগ্রহীতার কাতারে
- আপডেট সময় : ০৫:৫৭:১০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 68

ভূমি অফিসে প্রতিদিনের মতোই ছিল সাধারণ মানুষের ভিড়। কেউ এসেছেন জমির নামজারি করতে, কেউ আবার পেন্ডিং আবেদনের সর্বশেষ অবস্থা জানতে। এই ভিড়ের মধ্যেই বোরকা পরে সাধারণ সেবাগ্রহীতার পরিচয়ে চুপিসারে ভূমি অফিসে প্রবেশ করেন এক নারী। পরিচয় জানতে চাইলে তিনিও নিজেকে একজন সেবাগ্রহীতা হিসেবে পরিচয় দেন। তবে কিছুক্ষণ পরই জানা যায়, ওই নারী আর কেউ নন, ঢাকা জেলার জেলা প্রশাসক (ডিসি) ফরিদা খানম।
সরকারি ভূমিসেবার বাস্তব চিত্র সাধারণ মানুষের অভিজ্ঞতার সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা সরাসরি যাচাই করতেই পরিচয় গোপন করে উত্তর খান ইউনিয়ন ভূমি অফিসে যান তিনি। সেখানে সাধারণ সেবাগ্রহীতার মতো দীর্ঘ সময় অবস্থান করে মানুষের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের বিভিন্ন সমস্যা ও অভিজ্ঞতার কথা শোনেন।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ভূমিসেবা নিতে এসে সাধারণ মানুষ কোনো ধরনের ভোগান্তি, অযথা বিলম্ব, অনিয়ম কিংবা হয়রানির শিকার হচ্ছেন কি না, তা সরাসরি জানার চেষ্টা করেন ডিসি ফরিদা খানম। পাশাপাশি একজন সাধারণ সেবাগ্রহীতার মতো নিজেও ভূমি অফিসের সেবা গ্রহণের প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করেন।
পরিদর্শনের সময় ভূমি অফিসের সার্বিক কার্যক্রমও গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেন জেলা প্রশাসক। সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আচরণ, দাপ্তরিক কার্যক্রমের জটিলতা এবং সেবা প্রদানের প্রক্রিয়া কতটা সহজ—এসব বিষয়েও নজর দেন তিনি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সাধারণ মানুষ যেন সহজে ও দ্রুত ভূমিসেবা পেতে পারেন, সেটিই ছিল এই গোপন পরিদর্শনের অন্যতম উদ্দেশ্য। সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে সরাসরি তথ্য নেওয়ার পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে সরকারি সেবার বাস্তব পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করেন জেলা প্রশাসক।
পরিদর্শন শেষে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাধারণ মানুষকে দ্রুত ও সহজে ভূমিসেবা দেওয়ার নির্দেশ দেন ফরিদা খানম। সেবা নিতে এসে কেউ যেন অপ্রয়োজনীয় ভোগান্তি বা হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, শুধু দাপ্তরিক প্রতিবেদন বা অভিযোগের ওপর নির্ভর না করে মাঠপর্যায়ে গিয়ে সাধারণ মানুষের অভিজ্ঞতা সরাসরি জানলে সরকারি সেবার প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্টভাবে বোঝা যায়। পরিচয় গোপন রেখে সাধারণ মানুষের কাতারে দাঁড়ানোর মাধ্যমে সেই বাস্তব অভিজ্ঞতাই কাছ থেকে যাচাই করেছেন ঢাকা জেলার জেলা প্রশাসক।





















