ঢাকা ০৪:৩২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনামঃ
যুক্তরাষ্ট্রের ভিজিটর ভিসা নিয়ে বাংলাদেশিদের সতর্ক করল মার্কিন দূতাবাস ঢাকার মেট্রোরেল লাইন-১-এর বড় দুই প্যাকেজ পেল ভারতের এলঅ্যান্ডটি, ব্যয় ৫ হাজার কোটি রুপির বেশি দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে গ্রিড বিপর্যয়: কারণ অনুসন্ধানে বিদ্যুৎ বিভাগের ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি জাপানে নিটসু লজিস্টিকস হাব পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকা-চট্টগ্রামে গ্রিড বিপর্যয়, অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের তারিখ পরিবর্তন, নতুন সময়সূচি ৩১ অক্টোবর নতুন পে স্কেলে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন নিয়ে সিদ্ধান্ত অর্থ মন্ত্রণালয়ের হাতে দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শন ও জনসভায় যোগ দিতে রাজশাহীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ৯ মাসে ৫১৮ সাংবাদিক নির্যাতনের শিকার, মব সহিংসতায় নিহত ১৮৭: এইচআরএসএস জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধনে যাননি কেন, প্রধানমন্ত্রীর ক্ষোভের জবাব দিলেন গোলাম পরওয়ার

সরকারি আউটসোর্সিংয়ে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কর্মী নিয়োগ বন্ধ, সরাসরি ব্যক্তির কাছ থেকে সেবা নেওয়ার সুযোগ

নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৫:২৩:২৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 79

সরকারি দপ্তর ও প্রতিষ্ঠানে নতুন করে আউটসোর্সিং সেবা নেওয়ার ক্ষেত্রে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কর্মী নিয়োগের সুযোগ থাকছে না। এখন থেকে সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সরাসরি ব্যক্তির কাছ থেকে সেবা নেওয়া যাবে। পাশাপাশি অর্থ বিভাগ অনুমোদিত বিশেষায়িত সরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমেও আউটসোর্সিং সেবা নেওয়া যাবে।

সরকারি কাজে গতিশীলতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়ানোর পাশাপাশি ব্যয় কমাতে ‘আউটসোর্সিং প্রক্রিয়ায় সেবাগ্রহণ নীতিমালা, ২০২৫’-এর কয়েকটি ধারা সংশোধন করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। গত ২২ সেপ্টেম্বর অর্থ বিভাগের ব্যয় ব্যবস্থাপনা-৩ শাখা থেকে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। সংশোধিত আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

তবে এর আগে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে করা চুক্তির আওতায় যেসব সেবা নেওয়া হচ্ছে, সেসব ক্ষেত্রে চুক্তির নির্ধারিত মেয়াদ পর্যন্ত আগের ব্যবস্থা বহাল থাকবে।

সরাসরি ব্যক্তির কাছ থেকে সেবা নেওয়া যাবে

সংশোধিত নীতিমালা অনুযায়ী, আউটসোর্সিংয়ের আওতায় কোনো সেবা নিতে হলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ বা দপ্তর সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সরাসরি কোনো ব্যক্তির কাছ থেকে সেই সেবা নিতে পারবে।

এ ছাড়া অর্থ বিভাগ অনুমোদিত বিশেষায়িত কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকেও সেবা নেওয়া যাবে। অর্থাৎ নতুন করে আউটসোর্সিংয়ের ক্ষেত্রে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যস্থতার সুযোগ রাখা হয়নি।

অর্থ বিভাগের সংশোধনীতে বলা হয়েছে, সরকারি অর্থের সাশ্রয়, সেবার মান নিশ্চিত করা এবং আউটসোর্সিং ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়ানোর লক্ষ্যেই এ পরিবর্তন আনা হয়েছে।

বদলেছে ‘সেবা সরবরাহকারী’র সংজ্ঞা

সংশোধিত নীতিমালায় ‘সেবা সরবরাহকারী’র সংজ্ঞাতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন সংজ্ঞা অনুযায়ী, আউটসোর্সিংয়ের জন্য নির্ধারিত সেবা দেওয়ার উদ্দেশ্যে সেবা ক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ বিশেষায়িত সরকারি প্রতিষ্ঠানকে ‘সেবা সরবরাহকারী’ হিসেবে গণ্য করা হবে।

এ ছাড়া ‘আউটসোর্সিং সেবা পরিবীক্ষণ কমিটি’ বলতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগ কর্তৃক আউটসোর্সিং সেবা গ্রহণের জন্য গঠিত কমিটিকে বোঝানো হয়েছে।

সেবাকর্মী পরিবর্তনে নিয়ন্ত্রণ

সেবাকর্মীদের পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও নতুন করে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে। সেবা ক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন ছাড়া কোনো সেবাকর্মী পরিবর্তন করতে পারবে না সেবা সরবরাহকারী বিশেষায়িত সরকারি প্রতিষ্ঠান।

তবে কোনো কর্মীর কাজে অবহেলা, অসদাচরণ বা এ ধরনের সুনির্দিষ্ট কারণে তাকে পরিবর্তনের প্রয়োজন হলে আউটসোর্সিং সেবা পরিবীক্ষণ কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে তা করা যাবে।

এ ছাড়া যে নির্দিষ্ট সেবা দেওয়ার জন্য চুক্তি করা হবে, সেবাকর্মীকে সেই কাজের বাইরে অন্য কোনো কাজে নিয়োজিত করা যাবে না।

ছুটি, প্রশিক্ষণ ও শৃঙ্খলা চুক্তির মাধ্যমে নির্ধারণ

সংশোধিত বিধানে সেবাকর্মীদের ছুটি, প্রশিক্ষণ, শৃঙ্খলা ও অন্যান্য বিষয় সেবা ক্রয়কারী এবং সেবা সরবরাহকারী বিশেষায়িত সরকারি প্রতিষ্ঠান বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে করা চুক্তির মাধ্যমে নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে।

অন্যদিকে সেবাকর্মীদের ভোটার, নিয়োগ, পদোন্নতি, নিরাপত্তা, কল্যাণ ও ব্যবস্থাপনার মতো প্রশাসনিক বিষয় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দপ্তর বা প্রতিষ্ঠান সম্পাদন করবে।

সেবাকর্মীর নিজ হিসাবে যাবে পারিশ্রমিক

আউটসোর্সিং সেবার পারিশ্রমিক পরিশোধের পদ্ধতিতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। এখন চুক্তিভুক্ত সেবার বিপরীতে সেবাকর্মীর নিজ নামের ব্যাংক হিসাব অথবা ব্যক্তিগত মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) হিসাবে সরাসরি অর্থ পরিশোধ করতে হবে।

এর ফলে সেবাকর্মীদের পারিশ্রমিক পরিশোধে ব্যক্তিগত আর্থিক চ্যানেল ব্যবহারের বিষয়টি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

চুক্তির শর্ত ভাঙলে ব্যবস্থা

সেবা সরবরাহকারী বিশেষায়িত সরকারি প্রতিষ্ঠান বা কোনো ব্যক্তি চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করলে সংশ্লিষ্ট সেবা ক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারবে। এ ক্ষেত্রে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অ্যাক্ট, ২০০৬ এবং পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস, ২০০৮-এর আওতায় ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।

অর্থ বিভাগ বলছে, সরকারি কাজে গতি আনা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়ানো, সরকারি ব্যয় কমানো এবং মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করতেই আউটসোর্সিং নীতিমালায় এসব সংশোধন আনা হয়েছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

সরকারি আউটসোর্সিংয়ে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কর্মী নিয়োগ বন্ধ, সরাসরি ব্যক্তির কাছ থেকে সেবা নেওয়ার সুযোগ

আপডেট সময় : ০৫:২৩:২৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সরকারি দপ্তর ও প্রতিষ্ঠানে নতুন করে আউটসোর্সিং সেবা নেওয়ার ক্ষেত্রে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কর্মী নিয়োগের সুযোগ থাকছে না। এখন থেকে সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সরাসরি ব্যক্তির কাছ থেকে সেবা নেওয়া যাবে। পাশাপাশি অর্থ বিভাগ অনুমোদিত বিশেষায়িত সরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমেও আউটসোর্সিং সেবা নেওয়া যাবে।

সরকারি কাজে গতিশীলতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়ানোর পাশাপাশি ব্যয় কমাতে ‘আউটসোর্সিং প্রক্রিয়ায় সেবাগ্রহণ নীতিমালা, ২০২৫’-এর কয়েকটি ধারা সংশোধন করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। গত ২২ সেপ্টেম্বর অর্থ বিভাগের ব্যয় ব্যবস্থাপনা-৩ শাখা থেকে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। সংশোধিত আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

তবে এর আগে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে করা চুক্তির আওতায় যেসব সেবা নেওয়া হচ্ছে, সেসব ক্ষেত্রে চুক্তির নির্ধারিত মেয়াদ পর্যন্ত আগের ব্যবস্থা বহাল থাকবে।

সরাসরি ব্যক্তির কাছ থেকে সেবা নেওয়া যাবে

সংশোধিত নীতিমালা অনুযায়ী, আউটসোর্সিংয়ের আওতায় কোনো সেবা নিতে হলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ বা দপ্তর সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সরাসরি কোনো ব্যক্তির কাছ থেকে সেই সেবা নিতে পারবে।

এ ছাড়া অর্থ বিভাগ অনুমোদিত বিশেষায়িত কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকেও সেবা নেওয়া যাবে। অর্থাৎ নতুন করে আউটসোর্সিংয়ের ক্ষেত্রে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যস্থতার সুযোগ রাখা হয়নি।

অর্থ বিভাগের সংশোধনীতে বলা হয়েছে, সরকারি অর্থের সাশ্রয়, সেবার মান নিশ্চিত করা এবং আউটসোর্সিং ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়ানোর লক্ষ্যেই এ পরিবর্তন আনা হয়েছে।

বদলেছে ‘সেবা সরবরাহকারী’র সংজ্ঞা

সংশোধিত নীতিমালায় ‘সেবা সরবরাহকারী’র সংজ্ঞাতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন সংজ্ঞা অনুযায়ী, আউটসোর্সিংয়ের জন্য নির্ধারিত সেবা দেওয়ার উদ্দেশ্যে সেবা ক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ বিশেষায়িত সরকারি প্রতিষ্ঠানকে ‘সেবা সরবরাহকারী’ হিসেবে গণ্য করা হবে।

এ ছাড়া ‘আউটসোর্সিং সেবা পরিবীক্ষণ কমিটি’ বলতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগ কর্তৃক আউটসোর্সিং সেবা গ্রহণের জন্য গঠিত কমিটিকে বোঝানো হয়েছে।

সেবাকর্মী পরিবর্তনে নিয়ন্ত্রণ

সেবাকর্মীদের পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও নতুন করে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে। সেবা ক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন ছাড়া কোনো সেবাকর্মী পরিবর্তন করতে পারবে না সেবা সরবরাহকারী বিশেষায়িত সরকারি প্রতিষ্ঠান।

তবে কোনো কর্মীর কাজে অবহেলা, অসদাচরণ বা এ ধরনের সুনির্দিষ্ট কারণে তাকে পরিবর্তনের প্রয়োজন হলে আউটসোর্সিং সেবা পরিবীক্ষণ কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে তা করা যাবে।

এ ছাড়া যে নির্দিষ্ট সেবা দেওয়ার জন্য চুক্তি করা হবে, সেবাকর্মীকে সেই কাজের বাইরে অন্য কোনো কাজে নিয়োজিত করা যাবে না।

ছুটি, প্রশিক্ষণ ও শৃঙ্খলা চুক্তির মাধ্যমে নির্ধারণ

সংশোধিত বিধানে সেবাকর্মীদের ছুটি, প্রশিক্ষণ, শৃঙ্খলা ও অন্যান্য বিষয় সেবা ক্রয়কারী এবং সেবা সরবরাহকারী বিশেষায়িত সরকারি প্রতিষ্ঠান বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে করা চুক্তির মাধ্যমে নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে।

অন্যদিকে সেবাকর্মীদের ভোটার, নিয়োগ, পদোন্নতি, নিরাপত্তা, কল্যাণ ও ব্যবস্থাপনার মতো প্রশাসনিক বিষয় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দপ্তর বা প্রতিষ্ঠান সম্পাদন করবে।

সেবাকর্মীর নিজ হিসাবে যাবে পারিশ্রমিক

আউটসোর্সিং সেবার পারিশ্রমিক পরিশোধের পদ্ধতিতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। এখন চুক্তিভুক্ত সেবার বিপরীতে সেবাকর্মীর নিজ নামের ব্যাংক হিসাব অথবা ব্যক্তিগত মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) হিসাবে সরাসরি অর্থ পরিশোধ করতে হবে।

এর ফলে সেবাকর্মীদের পারিশ্রমিক পরিশোধে ব্যক্তিগত আর্থিক চ্যানেল ব্যবহারের বিষয়টি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

চুক্তির শর্ত ভাঙলে ব্যবস্থা

সেবা সরবরাহকারী বিশেষায়িত সরকারি প্রতিষ্ঠান বা কোনো ব্যক্তি চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করলে সংশ্লিষ্ট সেবা ক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারবে। এ ক্ষেত্রে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অ্যাক্ট, ২০০৬ এবং পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস, ২০০৮-এর আওতায় ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।

অর্থ বিভাগ বলছে, সরকারি কাজে গতি আনা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়ানো, সরকারি ব্যয় কমানো এবং মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করতেই আউটসোর্সিং নীতিমালায় এসব সংশোধন আনা হয়েছে।